বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যাংককগামী একটি ফ্লাইটে কেবিন প্রেসার কমে যাওয়ায় মাঝ আকাশে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারের আকাশ থেকে ঢাকায় ফিরে আসে ফ্লাইটটি। এতে ১৩৩ জন যাত্রী ছিল। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা বুশরা ইসলাম। 

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ব্যাংককগামী বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এয়ারক্রাফট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ঢাকা থেকে ব্যাংককগামী ফ্লাইটটি বেলা ১২টায় বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। ঘণ্টাখানেক পর প্লেনটি যখন মিয়ানমারের আকাশে তখন হঠাৎ কেবিন প্রেসার কমে যায়। প্লেনে অক্সিজেনের পরিমাণ কম অনুভূত হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীদের মাথার ওপর থেকে ওভারহেড মাস্ক বা অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লাইটটি তখন ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়ন করছিল। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পাইলট পরিস্থিতি বুঝতে পেরে প্লেনটিকে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় নামিয়ে এনে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এই পরিস্থিতির প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ২টায় বিমানটি নিরাপদে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুশরা ইসলাম বলেন, অবতরণের পর বিমানে থাকা সব যাত্রীকে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিকেল ৫টায় অন্য একটি ফ্লাইটে তাদেরকে ব্যাংকক পাঠানো হয়।  

বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটটি পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য বিমানের হ্যাঙ্গারে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ফ ল ইটট

এছাড়াও পড়ুন:

পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম। শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা জানান। 

থাইল্যান্ডের রাজধানীতে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিক্রম মিশ্রি বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ বলেন, ভবিষ্যতে ভারত এমন এক গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে নির্বাচনের একটি ভূমিকা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয়াদিল্লি সবসময় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে ‌‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়েছে। দুই প্রতিবেশীর ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত সর্বদা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে। ভারত বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। আমাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে জনগণের।

বিক্রম মিশ্রি জানান, সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধ, বিশেষ করে রাতে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকানো সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস অনুরোধ করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, শেখ হাসিনার যে বিষয়টি আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে অনুরোধ এসেছে, সে বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। আর আমাদের যে মুখপাত্র, তিনি এই বিষয়ে আপনাদের অবগত করেছেন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদন এসেছিল। তা নিয়ে আর কিছু বলা আমার এখন সমীচীন হবে না।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়মিত অন্তর্ভক্তিমূলক নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও অধ্যাপক ইউনূসকে অবগত করেছেন। জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে পাব। এ ব্যাপারে নির্বাচনের একটি ভূমিকা আছে, তা সবাই জানেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ