শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তার সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম নিজেরাও অনুসন্ধান করতে পারে।

‘ক্ষমতা হারানোর ভয়েই আওয়ামী সরকার শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল আলম এ কথা বলেন। রাজধানীর এফডিসিতে আজ শুক্রবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

শফিকুল আলম বলেন, ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার জন্য ২০১৩ সাল ছিল আওয়ামী লীগের গুম ও খুনের এক মহোৎসব। শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের সেই রাতে বারাকাহ, ইসলামী হাসপাতাল ও সিদ্ধিরগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে গুলিবিদ্ধ অনেকের লাশ পাওয়া গেলেও তৎকালীন সরকার তা স্বীকার করেনি। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের সমাবেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তার সঠিক তথ্য আমরা এখনো জানতে পারিনি। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম নিজেরাও প্রকৃত আহত ও নিহতের তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে।’

প্রেস সচিব বলেন, পতিত আওয়ামী সরকার বরাবরই হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কৌশল অবলম্বন করেছিল। ২০১৩ সালে হেফাজতের ওপর ক্র্যাকডাউন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সরকার নিজেদের জঙ্গিবাদবিরোধী প্রমাণের চেষ্টা করেছে। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী তকমা দিয়ে ভিন্নমত দমনের লক্ষ্যে গুম ও খুন করাই ছিল পতিত সরকারের অন্যতম কৌশল।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৫ মে গভীর রাতে হেফাজতে ইসলামের গণসমাবেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তা দেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায়। ৭ ও ৮ মে ভোরে জুরাইন কবরস্থানে হেফাজতের কর্মীদের বহু মরদেহ দাফন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও অপরাধীদের বিচারের দাবিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ করা হয়।

‘ক্ষমতা হারানোর ভয়েই আওয়ামী সরকার শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা বিতার্কিকদের পরাজিত করে তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসার বিতার্কিকেরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড.

এস এম মোর্শেদ, আইনজীবী শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ড ব ট ফর ড ম ক র স আওয় ম ইসল ম সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

অর্থ পাচার মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ৮ জনের ১২ বছর করে কারাদণ্ড

অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ আটজনকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডিত অন্য আসামিরা হলেন খাজা সোলেমানের বাবা বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও যমুনা ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোজাম্মেল হোসেন।

আসামিরা পলাতক। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের নামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনবিসমিল্লাহ গ্রুপের সোলেমানসহ ৯ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া রপ্তানি করে ১০৫ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালে সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী নওরীন হাবিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

এর আগে ২০১৮ সালে অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীসহ ৯ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

আরও পড়ুনবিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতি মামলায় দুদকের অভিযোগপত্র০৭ মার্চ ২০১৯

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে মোট ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে ১২টি মামলায় ৫৪ জনকে আসামি করা হয়। এর সব কটিতেই বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক খাজা সোলেমান চৌধুরী আসামি।

আরও পড়ুনবিসমিল্লাহ গ্রুপের ৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ দুদকে০৩ মার্চ ২০১৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • রিয়ালের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নেইমার
  • অর্থ পাচার মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ৮ জনের ১২ বছর করে কারাদণ্ড