যতই মতান্তর থাকুক না কেন অপর ভাষা ও সাহিত্যের পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে অনুবাদ। অনুবাদ যেমন  বিশ্ব সাহিত্যে প্রবেশের প্রধান উপায়, ঠিক তেমনি অনুবাদের মাধ্যমে অপর ভাষার সাহিত্যের সঙ্গে আপন ভাষার তুলনামূলক চেহারা দেখতে পাওয়া যায়। অনুবাদ মূলত ভাবের ভাবান্তর, অর্থের অর্থান্তর, ভাষার রূপান্তর আর সৌন্দর্যের পরাগায়ন ঘটায়। এটি নিছক এক ভাষা থেকে অপর ভাষার বদল নয়, সাহিত্যের সৃষ্টিশীল চিন্তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রসার করে। সাহিত্য চিন্তার এই প্রতিফলন ভাষার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। এক ভাষা থেকে অপর ভাষার অনুবাদ তুলনামূলকভাবে সাহিত্যের বিশ্ব দুয়ার খুলে দেয়।

‘প্রতিধ্বনি’ একাধিক নোবেল বক্তৃতার বাংলা কপিরাইট পেলেও নানা বিবেচনায় দশটি বক্তৃতা গ্রন্থভুক্ত করেছে, যাতে নানা মহাদেশ, নানা ভাষা, নানা চিন্তা, নানা প্রবণতার সাহিত্য আর বৈশ্বিক চিন্তারূপ আস্বাদন করা যায়। ‘নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা’ বইটি পাঠকের সেই সাহিত্যের শিল্প রস আস্বাদনের খোরাক জোগাবে। 

বইটি অনুবাদ করেছেন পলাশ মাহমুদ। সম্পাদনা করেছেন সাখাওয়াত টিপু। বইটি প্রকাশ করেছে আগামী ও প্রতিধ্বনি প্রকাশন। প্রচ্ছদ এঁকেছে রাজীব দত্ত। মূল্য: ৭০০ টাকা
 

আরো পড়ুন:

সাবিত সারওয়ারের গল্পের বই ‘মেছো ভূতের কান্না’

বইমেলায় ‘ভূতের উপহার’

তারা//

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর অপর ভ ষ অন ব দ

এছাড়াও পড়ুন:

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামার প্রত্যাশা

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে এই বৈঠকে যেইভাবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের কথা বলা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত গত দেড় যুগ ধরে আমাদের দেশের সীমান্ত যেন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তে নির্মমভাবে গুলি করে যেভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা করেছে, তা বিরল। এই নির্মমতায় আমাদের হৃদয়ে করেছে রক্তক্ষরণ ঘটেছে। আমরা জানি, ভূ-রাজনীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ তিনদিক দিয়ে ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। 
সীমান্তে হতাহতদের বড় অংশ হলো গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী জমির কৃষক। জানুয়ারির শুরুর দিকে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি সীমান্তে সন্ধ্যার দিকে একটি কৃষক পরিবারের সন্তান  তাদের গরু আনতে গেলে, সীমান্তের ভেতরে ঢুকে হত্যা করে বিএসএফ। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার হিসাব মতে, বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যার গত দেড় বছরে ছয় শতাধিকের মতো। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩১ জন বাংলাদেশের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। 


আজ থেকে ১৪ বছর আগে যে মর্মান্তিক দৃশ্য বিশ্ববাসীকে মর্মাহত করেছিল, আর  তা ছিল ফেলানি হত্যা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে ফেরার সময়ে বর্বর বিএসএফ ১৪ বছর বয়সী ফেলানিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যা বিশ্ববাসী দেখেছিল। এই বর্বর সীমান্ত হত্যা চলতে পারে না। মাঝেমধ্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য সীমান্তে আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়; তারপরও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। কিছুদিন আগে বিএসএফ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম  সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে ভারত, এই বেড়া নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে বিজিবি বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে। 


অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার থেমে নেই। আমরা জানি, ইউরোপীয়  ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে একদেশ থেকে আরেক দেশে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া যায়। আবার মেক্সিকো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে শত্রুতা দেখা গেলেও এমনকি উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তেও এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা  ঘটে না। বিগত শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে ভারত সরকারের সঙ্গে মীমাংসা করেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত মীমাংসা করে সীমান্তে শান্তির ব্যবস্থা করা হোক।
 
মো. ইয়ামিন খান: কলাম লেখক
 mdyamin.khan1983@gmail.com
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ