ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমকে দিয়েছে আফগানিস্তান। সেমি ফাইনালের দৌড়ে এবার আফগানদের মুখোমুখি 'মাইটি অস্ট্রেলিয়া'। জিতলে নিশ্চিত শেষ চার আর হারলেও জেগে থাকবে সম্ভাবনা, বন্ধ হবে না দুয়ার। 

লাহোরে শুক্রবার হুংকার দিয়েই নামছে আফগানিস্তান। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহীদি। অজিদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আফগান অধিনায়ক বলেন, 'আগের ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা খুশি। অজিদের বিপক্ষে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, আশা করি আগের ম্যাচের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠবো।'

একই মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়ে স্টিভ স্মিথের দল। আফগানদের আশা স্পিন দিয়ে অজিদের বধ করা সহজ হবে। স্মিথ বলেন, 'আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা আক্রমনাত্বক খেলার মানসিকতা নিয়ে এসেছি।'

আরো পড়ুন:

না জিতেও সেমি ফাইনালে উঠতে পারবে আফগানরা!

আফগানিস্তানের নেক্সট টার্গেট অস্ট্রেলিয়া

দুই দলের একাদশে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। রশিদ খান-নূর আহমেদদের উপর আস্থা রেখেই গড়া হয়েছে একাদশ। ইনজুরি জর্জরিত অস্ট্রেলিয়া এবার কেমন করে সেটাই দেখার। 

অস্ট্রেলিয়া

ম্যাথু শর্ট, ট্র্যাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), মারনাস লাবুশ্যানে, জস ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষম), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বেন ডোয়ার্শুইস, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা, স্পেন্সার জনসন। 


আফগানিস্তান 

 রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষন), ইব্রাহিম জাদরান, সিদ্দিকুল্লাহ আটাল, রহমত শাহ, হাশমতুল্লাহ শাহিদি (অধিনায়ক), আজমাতুল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, গুলবাদিন নায়েব, রশিদ খান, নূর আহমদ, ফজল হক ফারুকী।

ঢাকা/রিয়াদ/নাভিদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আফগ ন স ত ন

এছাড়াও পড়ুন:

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামার প্রত্যাশা

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে এই বৈঠকে যেইভাবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের কথা বলা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত গত দেড় যুগ ধরে আমাদের দেশের সীমান্ত যেন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তে নির্মমভাবে গুলি করে যেভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা করেছে, তা বিরল। এই নির্মমতায় আমাদের হৃদয়ে করেছে রক্তক্ষরণ ঘটেছে। আমরা জানি, ভূ-রাজনীতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ তিনদিক দিয়ে ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। 
সীমান্তে হতাহতদের বড় অংশ হলো গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী জমির কৃষক। জানুয়ারির শুরুর দিকে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি সীমান্তে সন্ধ্যার দিকে একটি কৃষক পরিবারের সন্তান  তাদের গরু আনতে গেলে, সীমান্তের ভেতরে ঢুকে হত্যা করে বিএসএফ। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার হিসাব মতে, বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যার গত দেড় বছরে ছয় শতাধিকের মতো। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩১ জন বাংলাদেশের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। 


আজ থেকে ১৪ বছর আগে যে মর্মান্তিক দৃশ্য বিশ্ববাসীকে মর্মাহত করেছিল, আর  তা ছিল ফেলানি হত্যা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে ফেরার সময়ে বর্বর বিএসএফ ১৪ বছর বয়সী ফেলানিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যা বিশ্ববাসী দেখেছিল। এই বর্বর সীমান্ত হত্যা চলতে পারে না। মাঝেমধ্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য সীমান্তে আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়; তারপরও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। কিছুদিন আগে বিএসএফ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম  সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে ভারত, এই বেড়া নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে বিজিবি বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে। 


অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার থেমে নেই। আমরা জানি, ইউরোপীয়  ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে একদেশ থেকে আরেক দেশে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া যায়। আবার মেক্সিকো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে শত্রুতা দেখা গেলেও এমনকি উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তেও এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা  ঘটে না। বিগত শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে ভারত সরকারের সঙ্গে মীমাংসা করেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত মীমাংসা করে সীমান্তে শান্তির ব্যবস্থা করা হোক।
 
মো. ইয়ামিন খান: কলাম লেখক
 mdyamin.khan1983@gmail.com
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ