তরুণদের দলকে স্বাগত জানালেন জ্যেষ্ঠরা
Published: 28th, February 2025 GMT
গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজনীতিবিদরা। তবে এই দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ।
নানামুখী আলোচনার পর জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে আজ শুক্রবার। দলটির আহ্বায়ক হচ্ছেন সদ্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগকারী নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন আখতার হোসেন। যারা জুলাই অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন দলের আত্মপ্রকাশ প্রসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার বর্ধিত সভার বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সব নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সমকালকে বলেছেন, ‘নতুন দল যারা গঠন করছেন, তাদের আদর্শ-উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুই জানি না। তারা কী পুঁজিবাদ না-কি সমাজতন্ত্রের পক্ষে? শোষক না-কি মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে? এগুলোর কিছুই তারা পরিস্কার করেননি। আগামীদিনে তাদের পথচলার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হবে তারা কোন ধরনের রাজনীতি করতে চান। তারপরও আমি মনে করি, প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক দল করার অধিকার আছে। এই বিবেচনা ও রাজনীতির মানুষ হিসেবে আমি এটাকে স্বাগত জানাই।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, নতুন দল গঠনের উদ্যোগকে একটা দিক দিয়ে ইতিবাচক বলবো। সেটা হচ্ছে- এতদিন যারা বলে এসেছেন, রাজনীতি ও রাজনীতিবিদরা খুবই খারাপ কিংবা তারাই দেশের বর্তমান দুর্দশার জন্য দায়ী, এখন তাদের মাধ্যমেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন হচ্ছে। তারপরও আশা করবো- তারা যেন সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাজনীতি করেন এবং সেভাবে কর্মসূচি নেন। তাহলে জনগণও তাদের ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি ডা.
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর আরেক সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তারা যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে সেটা প্রকাশ্য হতে এতদিন লাগলো কেন, সেটা আমি বুঝতে পারি না। তাছাড়া তারা তো একটা নয়, ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল গঠন এবং আগের নাগরিক কমিটিকে বহাল রাখার মাধ্যমে একইসঙ্গে তিনটা সংগঠন গঠনের কথা বলছেন। আমরা যেভাবে ট্রাডিশনালি রাজনৈতিক দল গঠন করি, এটা তার সঙ্গে ঠিক যাচ্ছে না। তারপরও বলবো- আমি যেকোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের পক্ষে। যত বেশি মানুষ রাজনীতি করবেন, ততই দেশের মঙ্গল। কিন্তু সেই রাজনীতিটা যেন ইতিবাচক হয়, সেটাই আশা করবো।’
তিনি বলেন, যারা এই দলটি গঠন করছেন, তাদের ন্যারেটিভ কী, রাজনৈতিক বক্তব্যটাই বা কী- সেটা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। আপাতত এটুকু বলবো- তারা যাত্রা শুরু করেছেন এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে শুভাকাঙ্খী হিসেবে তাদের সাফল্য কামনা করবো। একইসঙ্গে দেখতে থাকবো- তারা কীভাবে কতদূর যান।
নতুন ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে সহিংসতার প্রশ্নে মান্না বলেন, দ্বন্দ্ব নিরসন করতে পারেননি তারা। এটাও একটা ভাববার বিষয় বটে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: র জন ত স ব গত জ ন দল গঠন ইসল ম স গঠন গঠন র
এছাড়াও পড়ুন:
প্রতিরোধযোগ মৃত্যু কমাতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি
তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর দেশে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন মানুষ অকালে মারা যায়। একইসঙ্গে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। তাই সংশোধনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করা হলে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু এবং এ সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা ব্যয়ও কমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনের সড়কে ‘শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি’ শীর্ষক একটি মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এই ম্যারাথনের আয়োজন করে। এটি জিয়া উদ্যানের সামনের সড়ক থেকে শুরু হয়ে গণভবন সংলগ্ন সড়কে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে এসে শেষ হয়। এই আয়োজনে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে মিনি ম্যরাথনের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ ধূমপান এবং ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে। একইসঙ্গে ১৩-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করে বৈশ্বিক মানদন্ডে উন্নীত করতে হলে আইনের ছয়টি ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন।
সেগুলো হলো– সব পাবলিক প্লেসে ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির যেকোনও ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের মারাত্মক স্বাস্থ্য ক্ষতি থেকে কিশোর-যুবকদের রক্ষা করা; তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা এবং বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, ‘‘সুস্থ থাকতে হলে আমাদের জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। আর এই পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ জন্য পাবলিক প্লেসকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসির আলোকে সংশোধন করতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘তামাক কোম্পানি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মকে টার্গেট করে সামাজিক মাধ্যমে কৌশলে তামাকের প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য জনস্বাস্থ্যকে বাদ দিয়ে শুধু মুনাফা করা। তাই তাদের প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন সংশোধনের বিকল্প নেই।’’
এ ছাড়াও মিনি ম্যারাথনে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভার্সকুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল, হার্ট ফাউন্ডেশন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরামর্শক নাইমুল আজম খান ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আতাউর রহমানসহ তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/হাসান/এনএইচ