পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় সাফজয়ী দলের ১৮ ফুটবলার ছিলেন না। তরুণ ও অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের নবযাত্রা সুখকর হয়নি। বুধবার দুবাইয়ে ফিফা প্রীতি ম্যাচে আমিরাতের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছেন লাল-সবুজের মেয়েরা। একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক আফেইদা খন্দকার। 

আমিরাতের কাছে এই হারে অনেকেই সাবিনা খাতুন-ঋতুপর্ণা চাকমাদের কথা সামনে এনেছেন। তারা থাকলে হয়তো এই ফল হতো না বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। এমনটা যে হবে, আগে থেকেই আঁচ করেছেন ব্রিটিশ কোচ বাটলার। তাই তো প্রথম ম্যাচ হারায় লোকে হাসলেও তাতে দুঃখ নেই তাঁর। 

বরং নতুন এই মেয়েদের নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ, ‘আমার মনে হয়, নির্দিষ্ট কিছু মানুষ (এই হারে) হাসবে ও রসিকতা করবে। কিন্তু আমি সব সময় বিশ্বাস করি, এই দল অনেক দিন টিকবে। (এই সফরে) আমি মনে করি, জয়টা মুখ্য নয়, উন্নতি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সাফের জন্য দল গড়ে তোলা এবং এএফসির প্রতিযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’ ২ মার্চ দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

নানা ঝামেলার মধ্য দিয়ে আমিরাত সফরে যেতে হয়েছে বাংলাদেশ নারী দলকে। দেশে বাটলারের বিরুদ্ধে সাবিনাদের বিদ্রোহ, প্রস্তুতির ঘাটতি ও ম্যাচের আগের দিন আমিরাতে পৌঁছা; বলতে গেলে কোনো কিছুই ব্রিটিশ কোচের অনুকূলে ছিল না। 

হারের জন্য এসবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ, ‘যেভাবে আমরা শক্তিশালী একটা দলের বিপক্ষে খেলেছি, তাতে আমি খুশি। তাদের লং পাসের খেলায় আমাদের ভুগতে হয়েছে। আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। তবে এটা নিয়ে আমি দুঃখ করতে চাই না। আমি বাস্তব জগতে থাকি। যারা ম্যাচটি দেখেছে, তারা বলবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আমরা (অনেক ক্ষেত্রে) ছাপিয়ে গিয়েছি। দলের পারফরম্যান্সে খুশি আমি। যে কোনো ম্যাচ হেরে যাওয়া হতাশার। আগেও বলেছি, মাঠে নামার মধ্য দিয়েই এই মেয়েদের নৈতিক জয় হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যেভাবে মেয়েরা খেলেছে, অসাধারণ। দারুণ ফুটবল খেলেছে তারা।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ফ টবল আম র ত ফ টবল

এছাড়াও পড়ুন:

রোজায় নিত্যপণ্যের বাজার যেমন থাকতে পারে

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাবেচা জমজমাট। ক্রেতাদের কেউ পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করছেন, কেউ আবার দু-এক সপ্তাহের জন্য কিনছেন তেল, ছোলা, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা ধরনের পণ্য। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

রোজায় দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগে রোজার পণ্য কিনছেন। ক্রেতাদের অনেকেই বিক্রেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখছিলেন, রোজার মাসে তেল, ছোলা, পেঁয়াজের দাম বাড়বে কি না।

নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ অন্তত পাঁচটি খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন ছাড়া রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয়। অন্য সব পণ্যের দাম এখন নিম্নমুখী। দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সরবরাহ ঠিকঠাক হলে সয়াবিন তেলও নির্ধারিত মূল্যে এসে যাবে।

সয়াবিনের হালচাল

গত চার মাসে বোতলজাত সয়াবিনের সংকট বাজারে। গুটিকয়েক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। আবার এসব তেলের গায়ে নির্ধারিত মূল্যও মুছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মিলছে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের বাড়তি দাম আদায়ের প্রমাণও। এমন অবস্থায় রোজায় সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেক ক্রেতার।

সরেজমিন বহদ্দারহাট ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা যায়নি। কয়েকজন দোকানি বলেন, সবশেষ দুই দিন আগে সয়াবিন সরবরাহ হয়েছিল চাহিদার ১০ ভাগের ১ ভাগ। বাজারে খোলা তেলও এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার আশপাশে। এর মধ্যে খোলা পাম লিটারপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ ও সুপারপাম ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বহদ্দারহাট বাজারের দোকানি মুহাম্মদ ফরিদুল হক বলেন, ‘আমরা ২০ কার্টন সয়াবিনের অর্ডার করে পাচ্ছি ২ কার্টন। সয়াবিনের সরবরাহ যদি স্বাভাবিক করা যায়, বাজারও স্বাভাবিক থাকবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাজারে গিয়ে সয়াবিনের মজুত পেয়েছি বেশ কয়েকটি দোকানে। সংকট অনেকটা কৃত্রিম।’

ছোলা-পেঁয়াজ সরবরাহ পর্যাপ্ত

রমজান মাসের প্রধান পণ্যের একটি ছোলা। এ বছর চাহিদার তুলনায় ছোলা আমদানি হয়েছে বেশি। তবে ডলারের বিনিময়মূল্য বাড়ার কারণে গতবারের তুলনায় এবার একটু বাড়তি দামে কিনতে হবে ছোলা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত আড়াই মাসে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ১ লাখ ৬০ হাজার টনের বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে ছোলার সংকট হবে না।

খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ছোলা ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মাসেও প্রতি কেজিপ্রতি ছোলা ছিল ১১৫ টাকা। ছোলার পাশাপাশি মসুর ও মটর ডালের দামও কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। ভালো মানের আমদানি করা মসুর বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে। মোটা মসুর বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে। মটর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে।

অন্যদিকে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বর্তমানে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জেও পেঁয়াজের দাম বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪২ টাকা। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকার আশপাশে, ভারতীয় পেঁয়াজ গড়ে ৬৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি।

চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, পেঁয়াজের বাজার এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ছোলা ও ডালের বাজারও কমতির দিকে। বাজারে বেচাকেনা চলছে। ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সবজি ও মাংসের দাম যত

এ বছর রবি মৌসুমে ব্যাপক সবজি উৎপাদনের কারণে রমজান মাসে সবজির দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো ও ক্ষীরার দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। এর মধ্যে শীতকাল থেকে এসব সবজির দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর চট্টগ্রামে রবি মৌসুমে ক্ষীরা, বেগুন, টমেটো ও অন্যান্য সবজির উৎপাদন বেড়েছে। এর মধ্যে শীতের সবজি (বেগুন, টমেটোসহ) উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার টন। অন্যদিকে ক্ষীরা ৯৭৮ টন, মরিচ ৫ হাজার ১৭৪ টন ও আলু ৩ হাজার ৬৮৩ টন উৎপাদন হয়েছে।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সব সবজির দাম গড়ে ৪০ টাকার আশপাশে রয়েছে। কেজিপ্রতি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা দরে। অন্যদিকে ক্ষীরা ৩০ থেকে ৪০, টমেটো ২০ থেকে ৩০, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৬০ ও আলু ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দাম বেড়েছে লেবুর। মাস ব্যবধানে এক হালি (৪টি) লেবুর দাম অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজার এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

মুরগির বাজারে কেজিপ্রতি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৮৫ ও সোনালি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা গড়ে বিক্রি হয়েছে। দর-কষাকষি করে ৩০০ টাকাতেও সোনালি মুরগি বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাড়সহ গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ ও শুধু মাংস ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ