মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে শিশুটির মরদেহ গুমের জন্য ফেলা হয় দিঘীতে। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন আসামি সাব্বির খান (২৫)।

এদিকে, আসামির এমন স্বীকারোক্তি জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ জনতা শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাব্বির খানের বাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে তারা বাড়ির আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শিশুর মরদেহ উপজেলার রশুনিয়া গ্রামের নূরানী মাদরাসার পাশের দিঘী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন:

খুলনায় নদীতে মিললো ৪ বছরের শিশুর মরদেহ

পিকনিকের খাবার খেয়ে হাসপাতালে ৪৫ জন

মারা যাওয়া শিশুর মা বলেন, “গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে খালার সঙ্গে বাড়ির পাশের রশুনিয়া নূরানীয়া মোহাম্মদীয়া মাদরাসার ১২তম ওয়াজ মাহফিলে যায় আমার মেয়ে। সেখানে থাকবে বলে বায়না ধরে সে। এসময় ওর খালা তাকে মাদরাসা পড়ুয়া আমার ছেলে ইসমাইলের কাছে রেখে আসে। ইসমাইল তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে আমার মেয়ে রাস্তার দিকে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।”

সিরাজদিখান থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, “ওয়াজ-মাহফিলে আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খানকে (২৫) সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় পরদিন শিশুটির মা বাদী হয়ে সাব্বিরকে প্রধান অভিযুক্ত করে সিরাজদিখান থানায় অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ সাব্বিরকে আদালতে পাঠিয়ে দুইদিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে তিনি জানান, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর শিশুটির লাশ গুম করতে দিঘীতে ফেলে দেন। পরে তারই দেখানো দিঘী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।”

তিনি আরো বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।”

ঢাকা/রতন/মাসুদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর মরদ হ

এছাড়াও পড়ুন:

সোনারগাঁয়ে শ্রমিক অপহরণ করে মারধর, মুক্তিপণ আদায়

সোনারগাঁয়ে একটি বেসরকারি প্রিন্টিং প্রেসের শ্রমিককে অপহরণের পর মারধর করে মুক্তিপণ আদায় করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে উপজেলার কাঁচপুর বালুরমাঠ এলাকা থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই ফরহাদ আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই শ্রমিকের নাম মো. ওমর ফারুক (৩৮)। তিনি সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বালুরমাঠ এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রিন্টিং প্রেসের শ্রমিক তিনি।

অভিযোগে ফরহাদ আলী উল্লেখ করেন  , বুধবার রাতে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি বাসা থেকে ওই শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায়। রাত ১০টায় একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে তাঁদের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। মুক্তিপণ না দেয়া হলে ওমর ফারুককে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ওমর ফারুক বাড়িতে ফিরে আসেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, 'বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কেনাকাটার জন্য ঘরের বাইরে যান। এসময় অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তার গায়ে ধাক্কা দিয়ে ওই ব্যক্তির হাতে থাকা মুঠোফোনটি মাটিতে ফেলে দেন।

পরে ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওমর ফারুক ওই ব্যক্তির মুঠোফোন ভেঙ্গে ফেলেছে। ওমর ফারুক ওই ব্যক্তির অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানালে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ ছয়জন এসে তাকে অজ্ঞান করে অজ্ঞাতনামা স্থানে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। রাত দশটায় জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন মুখোশ পড়িহিত কয়েকজন পুরুষ ও একজন নারী সেই কক্ষে অবস্থান করছেন।

এসময় অপহরণকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর পরিবারের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাতে ও সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে দুই দফায় ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেয়া হলে বৃহস্পতিবার সকালে তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারন করা হয়। পরে চোখ মুখ বেঁধে অজ্ঞাতনামা স্থান থেকে তাঁকে কাঁচপুরের একটি সড়কে ছেড়ে দেয়া হয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, অপহরণের ঘটনায় একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে নাক-মুখ চেপে হত্যা
  • সোনারগাঁয়ে শ্রমিক অপহরণ করে মারধর, মুক্তিপণ আদায়
  • চট্টগ্রামে শিশু অপহরণ: চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ২
  • গাজীপুরে আদালত চত্বর থেকে ২ আসামি অপহরণ
  • ফতুল্লায় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শিশুকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ
  • নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর শিশুকে হত্যা
  • কুষ্টিয়ায় ২১ দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী
  • চটপটি খাওয়ার কথা বলে শিশুকে অপহরণ, এক দিন পর লাশ উদ্ধার
  • টেকনাফে পাহাড় থেকে দুজনকে অপহরণ