শেখ হাসিনার পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দলের পদ-পদবির বিরোধ মিটে গেছে। শীর্ষস্থানীয় পদ বাড়িয়ে প্রায় সব পক্ষকে এক ছাতার নিচে এনে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি– এনসিপি’ নামে দলটি আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলামই হচ্ছেন এনসিপির আহ্বায়ক। সদস্য সচিব হতে আগ্রহী একাধিক নেতার মধ্যে টানাপোড়েন হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে পদটিতে আসছেন আখতার হোসেন।

জাতীয় নাগরিক কমিটি (জানাক) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক চার নেতা নতুন দলে যোগ না দিলেও বাকিরা থাকছেন। অভ্যুত্থানের পর জানাকে আসা ছাত্রশক্তি, গণঅধিকার পরিষদ, বাম ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও থাকছেন। আখতার হোসেন সমকালকে জানান, ইনক্লুসিভ গণতান্ত্রিক দল হবে এনসিপি। সাবেক শিবির নেতাদের বাদ দেওয়া হবে না।

সবপক্ষকে জায়গা দিতে সমঝোতার জন্য প্রধান সমন্বয়কারী ও যুগ্ম সমন্বয়কারী পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এনসিপিতে। মুখ্য সংগঠকের একটি পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমঝোতার জন্য দফায় দফায় বৈঠকের পর মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধান সমন্বয়কারী, শামান্তা শারমিন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম মুখ্য সংগঠক, আবদুল হান্নান মাসউদকে যুগ্ম সমন্বয়ক ও সালেহ উদ্দিন সিফাতকে দপ্তর সম্পাদক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানাক সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ডা.

তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা ও মনিরা শারমিনের মধ্যে একজন আসতে পারেন। আরিফুল ইসলাম আদীব এবং নুসরাত তাবাসসুমও এ পদে আগ্রহী। তাই গতকাল রাত পর্যন্ত সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে কারও নাম চূড়ান্ত হয়নি।

আহ্বায়ক কমিটি ১৫০ সদস্যের হতে পারে। গত বুধবার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে মারামারি হয় পদ-পদবি নিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সব পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাওয়ায় শেখ হাসিনার অভাবনীয় পতন ঘটানো অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়ানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যাতে এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিতে নেতারা তৎপর। তারা জানিয়েছেন, সব পক্ষের সমন্বয়ে আহ্বায়ক কমিটি হবে। ঢাকার বাইরের নেতারাও পদে থাকবেন। 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান থেকেই এনসিপির ২৪ দফা ঘোষণাপত্র আসতে পারে। জানাকের সব নেতা দলে জায়গা পাবেন না। সংগঠনটি কোনো কর্মসূচি পালন না করলেও, কার্যকর থাকবে।

নাহিদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমঝোতা

গতকাল প্রথমবারের মতো রাজধানীর বাংলামটরে জানাকের কার্যালয়ে আসেন নাহিদ ইসলাম। তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কক্ষে বসেন। সেখানে আখতার, নাসীর, হাসনাত, সারজিস, শামান্তাসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন নাহিদ। এসব বৈঠকেই ঠিক হয় শীর্ষস্থানীয় পদে কে দায়িত্ব পাবেন।

জানাকের মুখপাত্র শামান্তা শারমিন সমকালকে বলেন, সবার মতামতের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে। পদপদবি নিয়ে কখনও বিরোধ, বিভক্তি ছিল না। মতভিন্নতা ছিল। এনসিপি পারিবারিক নয়, গণতান্ত্রিক দল হবে। শীর্ষ পদ থেকে কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হবে না। ফলে মতপার্থক্য থাকবেই।

সপ্তাহখানেক ধরে শোনা যাচ্ছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ হবেন নতুন দলের মুখ্য সংগঠক। অভ্যুত্থানের সময়ে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা সারজিস আলম হবেন মুখপাত্র। তবে দু’জনেই মুখ্য সংগঠকের পদ পেতে আগ্রহী ছিলেন।

নাহিদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মুখপাত্র পদটিই থাকবে না। হাসনাত ও সারজিস দু’জনই সমমর্যাদার মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করবেন। সারজিস দেশের উত্তরাঞ্চলীয় ৩২ জেলার সংগঠন সামলাবেন; হাসনাত দেখভাল করবেন দক্ষিণাঞ্চলীয় ৩২ জেলা।

এনসিপির সদস্য সচিব পদে আগ্রহী ছিলেন জানাকের আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন। এতে সমর্থন ছিল উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের। ছাত্রশক্তি ও গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা নেতারা আখতারকে সমর্থন দেন। তাই নাসীরের জন্য প্রধান সমন্বয়কারী সৃষ্টি করা হয়। আহ্বায়ক, সদস্য সচিবের পরেই হবে এ পদের মর্যাদা। যদিও কমিটি অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে না। মুখ্য সংগঠক হতে আগ্রহী আরেক ছাত্রনেতা হান্নান মাসউদকে যুগ্ম সমন্বয়ক করা হয়েছে সমঝোতার অংশ হিসেবেই।

কী হবে দলের আদর্শ

অভ্যুত্থানের সময়ে শিবির নেতাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং পরে সংগঠনটির সাবেক নেতাদের জানাকে যোগ দেওয়ায় নতুন দল জামায়াতের ‘বি টিম’ হতে যাচ্ছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন। তবে তা বরাবর নাচক করেছেন দলটির উদ্যোক্তারা। নাসীরুদ্দীন সমকালকে বলেছেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করবে এনসিপি। ডান-বাম কোনোপন্থিই নয়, হবে বাংলাদেশপন্থি। অভ্যুত্থানে যেমন সব মত ও বিশ্বাসের মানুষ এক হয়েছিলেন, এনসিপিতেও একই ধারা থাকবে।

সালেহ উদ্দীন সিফাত সমকালকে বলেন, বয়স, পেশা নির্বিশেষে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন এনসিপি নিয়ে। তারা সারাদেশ থেকে আসবেন। আমাদের দল মধ্যপন্থি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। রাষ্ট্র কাঠামোতে সমস্যা থাকায় একবার বাকশাল আরেকবার ফ্যাসিবাদের শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। তাই আমরা নতুন সংবিধানের কথা বলছি, গণপরিষদের কথা বলছি। এ ছাড়া রাষ্ট্র কাঠামোর নানা বিষয়ে জনবান্ধব এবং বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছি। রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে এ নতুন বন্দোবস্ত।

এনসিপির ঘোষণাপত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে আমূল পরিবর্তনে রূপরেখা থাকবে। ঘোষণাপত্রে থাকবে, কেন অন্যান্য রাজনৈতিক দল ব্যর্থ হয়েছে, কী কারণে চব্বিশের অভ্যুত্থান হয়েছে? কী কারণে নতুন দল গঠন করতে হয়েছে।

শিবিরের দুই নেতাকে ফেরানোর চেষ্টা

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে প্ল্যাটফর্ম গড়ে গত বছর ১ জুলাই আন্দোলনে নামেন। নেতৃত্বে ছাত্রশক্তির নেতারা সামনের সারিতে থাকলেও শিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতারাও ছিলেন। রাজনৈতিক দল গড়তে ৮ সেপ্টেম্বর গঠন করা জানাকেও শিবির, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এবং বাম ধারার নেতারা আসেন।

তবে সপ্তাহ দুই আগে গণঅভ্যুত্থানের কৃ‌তিত্ব নিয়ে বিরোধে জড়ান ছাত্রশ‌ক্তি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতারা। নতুন দলের শীর্ষ পদ নিয়েও ছিল বিরোধ। অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সাবেক শিবির নেতাদের আনা হচ্ছে না অভিযোগ করা হয়। একে আওয়ামী লীগ আমলের শিবির ট্যাগ দিয়ে নিপীড়নের ধারাবাহিকতা বলে ভাষ্য তাদের। এর ‘প্রতিবাদে’ জানাক ছেড়েছেন সাবেক শিবির নেতা আরেফিন মুহাম্মদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান জানান, তারা নতুন দলে থাকছেন না। আরেক সাবেক শিবির নেতা শরিফ হাসানাত বিন হাদিও থাকবেন না।

তবে আখতার হোসেন সমকালকে বলেছেন, সাবেক শিবির, সাবেক বাম, সাবেক কওমি– এভাবে কাউকে আলাদা করা হচ্ছে না। এনসিপি চায়, জুনায়েদ এবং রাফে সালমান দলে থাকুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, কথা চলছে।

আওয়ামী লীগ বাদে অন্যদের আমন্ত্রণ

শুক্রবার বিকেল ৩টার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বড় জমায়েতের প্রচেষ্টা রয়েছে। এ জন্য আগের সিদ্ধান্ত বদল করে গতকাল দলের উদ্যোক্তারা ঢাকার বাইরে থেকেও নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে আসার নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় গিয়ে সরকারপ্রধানের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন এনসিপির নেতারা।

গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল গঠনে সরকারের সহায়তা রয়েছে বলে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের অভিযোগ। ছাত্রদের দলকে ‘কিংস পার্টি’ আখ্যাও দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ কিনা– এ প্রশ্নও উঠেছে। তাই বিতর্ক এড়াতে উপদেষ্টাদের কেউ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে থাকবেন না বলে জানা গেছে। দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও যাচ্ছেন না।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শরিক ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অনুষ্ঠানে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ৫১ দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকদের। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক এবং জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ন হ দ ইসল ম র জন ত ম খ য স গঠক সমন বয়ক র র জন ত ক সদস য স সমঝ ত র এনস প র উপদ ষ ট ক র পর ত র জন গতক ল আখত র ইসল ম স গঠন সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

ম্যাক্সওয়েল বনাম আফগানিস্তান

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে, প্রচণ্ড গরমে চোট সঙ্গী করে এক পায়ে ভর দিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সেই মহাকাব্যিক ইনিংসের গল্প তো সবারই জানা। ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানদের ছুড়ে দেওয়া ২৯২ রানের টার্গেটে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই অবস্থায় আফগানিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ছিল শতভাগ! 

কিন্তু হার না মানা ২০১ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসে ম্যাক্সওয়েল ক্রিকেটীয় রূপকথার গল্পই লেখেননি, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছেন ঐতিহাসিক জয়। ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংসের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই আসরেও আলোচনায় ম্যাক্সি। সেই ম্যাচের পর শুক্রবার আবারও ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সবার চোখ ম্যাক্সওয়েলের দিকে।

আলোচিত সেই ম্যাচের পর সাদা বলের ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া- আফগানিস্তান। গত বছরের ১২ জুন কিংস্টনে টি২০ বিশ্বকাপে অসিদের ২১ রানে হারিয়ে আফগানরা খেলেছিল সেমিফাইনালে। তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার বড় সুযোগ আফগানদের। যদিও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে চারবারের দেখায় একবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পর্যুদস্ত করতে পারেননি রশিদ খান-মোহাম্মদ নবিরা।

তবে বুধবার ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে হারানোয় আফগানরা এখন আরও আত্মবিশ্বাসী। দেড় বছরের মধ্যে দুটি বড় আসরে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দলটির কোচ জোনাথন ট্রট তো রীতিমতো হুমকি দিয়ে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়াকে। আফগানিস্তানকে হালকা করে দেখার দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, ‘আগে হয়তো সূচিতে এই ম্যাচটি দেখে লোকে ভাবত, ঐতিহ্যবাহী কোনো টেস্ট দলের সঙ্গে খেলার চেয়ে এটি সহজ হবে। তবে এই সংস্করণে, এমন কন্ডিশনে, আমার এখন আর তা মনে হয় না। আমি যা দেখি, আমাদের প্রতিটি ম্যাচই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচেই আমরা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে নামি। অস্ট্রেলিয়াও আমাদের হালকাভাবে নেবে না।’

লড়াইটা অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তানের হলেও ঘুরেফিরে আসছে ম্যাক্সওয়েলের নাম। ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের পর আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদিকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের কথা, ‘আপনি কি মনে করেন, আমরা এখানে এসেছি শুধু ম্যাক্সওয়েলের বিপক্ষে খেলতে? আমরা পুরো অস্ট্রেলিয়া দল নিয়েই পরিকল্পনা করছি। আমি জানি, তিনি (ম্যাক্সওয়েল) ২০২৩ বিশ্বকাপে অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন, তবে সেটা এখন অতীত। সেই ম্যাচের পর আমরা কিন্তু তাদের হারিয়েছি (টি২০ বিশ্বকাপে)। আমরা সর্বদা সব প্রতিপক্ষকে নিয়েই ভাবি, ব্যক্তিগত কাউকে নিয়ে পরিকল্পনা করি না। আমরা চেষ্টা করব, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে। শুধু ম্যাক্সওয়েলের বিপক্ষে নয়, আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলব।’

লাহোরে দুটি ম্যাচেই ৩০০-এর ওপরে স্কোর হয়েছে। এই ভেন্যুতে ইংল্যান্ডের ৩৫১ রান তাড়া করে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৫ রান করে ৮ রানে জিতেছে আফগানিস্তান। তাই আজকের ম্যাচেও রান উৎসব হবে বলে ধারণা সবার। গ্রুপ ‘বি’র এই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টানা দুই হারে ইংল্যান্ড বিদায় নেওয়ায় দুই টিকিটের দাবিদার এখন অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সমান ৩ পয়েন্ট অস্ট্রেলিয়া ও প্রোটিয়াদের। ২ পয়েন্ট পাওয়া আফগানরা আজ জিতলে চলে যাবে সেমিফাইনালে। সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াকে তাকিয়ে থাকতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে। আর যদি অস্ট্রেলিয়া জিতে যায়, তাহলে ইংল্যান্ডের পর আফগানদের বিদায়ঘণ্টা বাজবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা চলে যাবে সেমিফাইনালে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ