দল ও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য ধরে রাখার কথা বলেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেলেও এখনও রয়ে গেছে দোসররা। দোসরদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আঁতাত করে বিএনপিকে নিয়ে নানা চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত মোকাবিলায় নিজেদের যেমন সজাগ থাকতে হবে, তেমনি জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে। দলের গুটিকয়েক নেতাকর্মীর অপকর্ম রোধ করতে হবে।

 ওই কয়েকজনের দায়ভার পুরো দল নিতে পারে না। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

প্রায় সাত বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভায় সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এ আহ্বান জানান। ‘সুদৃঢ় ঐক্য রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র’ স্লোগান নিয়ে সংসদ ভবনের এলডি হলের মাঠে এই বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই সভায় তারেক রহমান ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। সারাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা এই বর্ধিত সভায় অংশ নেন। সভার শুরুতে গত সাড়ে ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত এবং দলের প্রয়াত নেতাকর্মীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

পরে শুরু হয় সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীর বক্তব্যের পালা। বেশির ভাগ নেতার বক্তব্যে হাইব্রিড নেতাকর্মীর আনাগোনা বেড়ে যাওয়া, বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে কতিপয় নেতাকর্মীর দলের আদর্শবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ ছাড়াও বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতের ষড়যন্ত্র বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের দাবি যেমন ছিল, তেমনি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের বিরোধিতাও করেন কোনো কোনো নেতা। কেউ কেউ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কোনো নেতার আঁতাতের অভিযোগও তোলেন।

তবে সব নেতার বক্তব্যে সংসদ নির্বাচন নিয়ে অভিন্ন সুর ছিল। তারা দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি তোলেন। নেতাকর্মীরা নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন চান। দু-একজন নেতা তাদের বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনাও করেন। তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কালক্ষেপণ করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করছে।

সভায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার খানম বলেন, চিরস্থায়ীভাবে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ধিত সভা নয়, বিভাগীয় পর্যায়ের সম্মেলন করতে হবে। সেখানে তৃণমূলের কষ্টের কথা জানতে হবে। সেটির প্রতিকার করতে হবে। দলকে করতে হবে জনমুখী। তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপি কার্যালয়ভিত্তিক রাজনীতি করলেও এখন তাদের প্রতিপক্ষ একটি দল (জামায়াত) মসজিদভিত্তিক রাজনীতি করছে। এই মসজিদভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকবে কিনা, তা এই অন্তর্বর্তী সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। প্রতিপক্ষ ও দলটি বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক গুজব, অপপ্রচার করছে। সেটির বিরুদ্ধে দলকে প্রস্তুতি নিতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে বিগত দিনে যারা সক্রিয় ছিলেন না, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন তাদের বিষয়ে দল থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। যদি এসব নেতাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী।

পিরোজপুরের এক নেতা বলেন, জামায়াতকে মোকাবিলায় সকালে মসজিদে নামাজ পড়তে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের গঠিত কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে, এর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইউপি সদস্যদের ভোটে চেয়ারম্যান নন, জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান না হলে ওই সব জনপ্রতিনিধি দায়ভার নেবে না। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

খুলনা সদর থানা বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, একটি গুপ্ত সংগঠন সারাদেশে মব সৃষ্টি করছে, অরাজকতা করছে, বিএনপিকে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। এই দলটি গত সাড়ে ১৫ বছর বিএনপির সঙ্গে থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করলেও এখন তারা সুবিধাজনক সময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতিষ্ঠা করছে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আঁতাত করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নেতা বলেন, বিএনপির ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করছে নিজেদের লোকজন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে– কে সেই ঐক্য বিনষ্টকারী, তাকে খুঁজে বের করুন।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের নেতা জাকির হোসেন সরকার বলেন, শেখ হাসিনা যদি বিএনপিকে ধ্বংসই করতে পারত, তাহলে আজ বিজয় আসত না। যারা গত সাড়ে ১৫ বছর ছিল না, তারা এখন আমাদের ঘরে ঢুকে ঐক্য বিনষ্ট করতে চাইছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে কোন্দল বাড়ছে। দল বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এটি যাতে সামনে না বাড়ে, এ জন্য দলের হাইকমান্ড থেকে এখনই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। বিগত দিনের সুবিধাভোগীরা যাতে মনোনয়ন না পান, সেটির নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকার নেতা রবিউল আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর এখন অনেক নেতাকর্মী দেখা যাচ্ছে। যাদেরকে বিগত আন্দোলনে দেখা যায়নি। সুবিধাভোগী নেতাকর্মীর ভিড় দেখে মনে হচ্ছে আমরাই এখন দলে সংখ্যালঘু। 

হবিগঞ্জের নেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে যারা গর্তে লুকিয়ে ছিল, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল, তাদের আস্ফালন এখন দেখা যাচ্ছে। এই সুবিধাভোগীর কাছে ত্যাগীরা হারিয়ে গেলে পুরো বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলের দুর্দিনে তৃণমূল বেইমানি করেনি। যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। অথচ একশ্রেণির মৌসুমি নেতা সুবিধা নিয়ে মোটাতাজা হয়েছে। আর ত্যাগীরা হয়েছেন স্বাস্থ্যহীন। এই ত্যাগীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। 

সৈয়দপুরের নেতা আলমগীর মাতুব্বর বলেন, যারা আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে, তারাই আজ বিএনপির প্রথম কাতারে। এই হাইব্রিড যেন বিএনপিতে না ঢোকে। 

জামালপুরের নেতা আতিকুর রহমান সাজু বলেন, জুলাই-আগস্টে যারা আন্দোলন করেছে, তারা আমাদেরই সন্তান। তারা আওয়ামী লীগের দোসরদের কেউ নয়। তাই ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়া উচিত। আর দেশে এখন ষড়যন্ত্র চলছে। এ জন্য বিএনপির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনকে চাঙ্গা করতে হবে। যেসব জায়গায় কমিটি নেই, সেখানে কমিটি দিতে হবে। 

ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি নেতা জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, দেশে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। তাই আপনি (তারেক রহমান) নিজস্ব সেল ও জরিপের মাধ্যমে মনোনয়ন দেবেন। তাঁকেই মনোনয়ন দেবেন, যাঁর অবস্থান সবচেয়ে ভালো হবে। আর যারা দলের ক্ষতি করবে, গোপন সেল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। 

ভোলার নেতা মফিজুর রহমান মিলন বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর বিএনপিতে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। বিএনপিতে যাতে আওয়ামী লীগের দোসরদের জায়গা না হয়। 

যশোরের নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, প্রতিটি জায়গায় হাইব্রিড ও গ্রুপিং রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে গ্রুপিং দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে হবে। 

দিনাজপুরের নেতা আবদুস সালাম মিলন বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। ৫ আগস্টের পরে বিএনপির ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। 

নোয়াখালীর নেতা দেওয়ান শামসুল আরেফিন শামীম বলেন, এতদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ডেকে পাইনি, দলে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের দায়িত্ব দিলে আগামীতে তারা দলের সঙ্গে বেইমানি করবে।

কুষ্টিয়ার নেতা জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমরা অনেক মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। দলের দুঃসময়ে যারা ছিলেন না, তারা এখন বিএনপিতে ভালো জায়গায় আছেন।

নীলফামারীর নেতা মাসুদ চৌধুরী বলেন, দলের ত্যাগীদের কথা যেন ভুলে না যাই।

২০টির বেশি প্রস্তাব পাস

তৃণমূলের বক্তব্য শেষে রাত পৌনে ১০টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া ২০টির বেশি মতামত সিদ্ধান্তের জন্য উত্থাপন করেন। এগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও মানুষকে আস্থায় আনতে হবে। সিন্ডিকেটের পাশাপাশি দেশের ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। গুম-খুন-গায়েবি মামলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতরা কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়লেন তার একটি ব্যাখ্যা দিতে হবে। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশ্রয়দানকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে।

 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব এনপ ন ত কর ম র ষড়যন ত র পর য য় র র ব এনপ ব যবস থ সরক র র ব এনপ ক ব এনপ ত ল ইসল ম ব এনপ র দ সরদ র র জন ত ম বল ন আওয় ম ক ষমত রহম ন আগস ট

এছাড়াও পড়ুন:

সরকারের কারও কারও বক্তব্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের কারও কারও বক্তব্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। আমরা দেখছি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা দেখতে চাই না। আমরা পরিষ্কারভাবে আজ (মঙ্গলবার) আবারও এই সম্মেলনের মাধ্যমে বলতে চাই, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারবে। আমরা আশা করব, এ সরকারের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তা তারা পূরণ করবে। নির্বাচন বিলম্ব হলে যাদের সুবিধা হবে তারা আজ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি শক্তিশালী হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূলে বিএনপির অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। সেজন্য অনেকেই বিএনপির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণের ষড়যন্ত্রে মেতেছে।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছে, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। গত ১৫-১৬ বছর গুম খুন, হামলা, মামলা ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপির চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং তা থাকবে। বিএনপি জনগণের দল, বিএনপি জনগণের কথা বলে। অধিকার আদায়ের এ আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারি, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি এই দেশকে এবং দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। যত বেশি গণতন্ত্রের চর্চার রাখতে পারব ততবশি দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারব।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন রকম কথা বলছেন জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে আমরা অস্থিরতা দেখতে চাই না। বাংলাদেশে বহু অস্থিরতা হয়েছিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্রুত দেশের এ অস্থিরতা দূর করা সম্ভব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকবে সেটির দলের ভেতরে হোক বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হোক না কেন, মতপার্থক্য থাকলে আমরা বসব, আলোচনা করব। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যা দেশের জন্য শান্তির হবে, যা দেশে মানুষকে নিরাপদ করবে। মানুষকে কোনোভাবেই বিভেদে রূপান্তরিত হতে দিতে চাই না।’ 

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমি নিজেও বাড়িতে এক রাত ঘুমাতে পারিনি। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে।’  
বুলু ড. ইউনুসের উদ্দেশে বলেন, ‘হাসিনা আপনাকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন, বিএনপি এই হয়রানির প্রতিবাদ করেছিল। তারেক রহমান আপনার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। বেগম জিয়া ও তারেক রহমান আপনাকে সম্মান করেন। আপনি দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকুন।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উদবাতুল বারী আবু। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, যুগ্ম আহবায়ক আমিরুজ্জামান আমির, সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসিম উদ্দিন, সাবেরা আলাউদ্দিন প্রমুখ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে কী হয় ৫ আগস্ট দেখেননি
  • ফতুল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন
  • দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: খালেদা জিয়া
  • ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান
  • বিএনপির বর্ধিত সভা শুরু, ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন খালেদা জিয়াও
  • নেতাকর্মীকে নির্বাচনমুখী করার বার্তা দেবে বিএনপি
  • ডিমের মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রে পিপলস পোলট্রির জরিমানা
  • সরকারের কারও কারও বক্তব্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে: তারেক রহমান