জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে কী হয় ৫ আগস্ট দেখেননি
Published: 27th, February 2025 GMT
‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের একটাই পুঁজি, তা হলো জনগণের আস্থা। জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে কী হয়, তা আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট, দেখেননি স্বৈরাচারের কী অবস্থা হয়েছে,’ বিএনপির নেতাদের সতর্ক করে কথাগুলো বলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই পরিণতির মুখে যেন কখনো পড়তে না হয়, সে জন্য খারাপ কাজগুলোকে যতটুকু সম্ভব দূরে সরিয়ে রেখে মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকায় দলের বর্ধিত সভায় সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে শুরু হয় বিএনপির বর্ধিত সভা। সভায় ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর রেকর্ড করা বক্তব্য সভায় প্রচার করা হয়।
বর্ধিত সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের ১০৫ জন নেতা বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডারবাজির বিষয়টি কয়েকজন নেতার বক্তব্যে উঠে আসে। এসব কাজে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। এ ছাড়া দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তৃণমূলের এই নেতারা। পাশাপাশি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন বেশির ভাগ নেতা।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যের পর সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের নেতা হিসেবে আমার নির্দেশনা, আজকে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে এবং নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার পরে আপনারা উদ্যোগ গ্রহণ করুন, যে উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন, খারাপকে যতটুকু সম্ভব দূরে সরিয়ে দিতে পারবেন, আপনি আপনার এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারাই আমার শক্তি, আপনারাই আমার আস্থা, আপনারাই ভরসা। আমার চোখ ও কান তৃণমূল। আমি তখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব, যখন আপনারা সঠিক দেখবেন।’
একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন তারেক রহমান। যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ যদি না থাকি, আপনারা তিস্তা বাঁধ নিয়ে কথা বলেছেন, ফারাক্কা নিয়ে কথা বলেছেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছেন, বিডিআর ও পিলখানা নিয়ে কথা বলেছেন। আপনারা কি মনে করেন, ওপাশ থেকে আপনাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে যাবে? দেশের সীমানার ভেতরেও তাদের সহযোগীরা আছে। বিভিন্ন বিষয়ে যখন জনগণের সামনে বক্তব্য তুলে ধরেছেন, এরপরও কি তারা বসে থাকবে? ষড়যন্ত্র বন্ধ করে বসে থাকবে না। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রকে আমরা মোকাবিলা করতে পারব শুধু যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। সে জন্য ঐক্যের বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই। ঐক্য না হলে ষড়যন্ত্র চলবে।’
আরও পড়ুনঅন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে: তারেক রহমান১১ ঘণ্টা আগেগত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম এক ছাতার নিচে সব নেতাকে নিয়ে বর্ধিত সভা করল বিএনপি। সভাটি বিএনপি নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ত র ক রহম ন ষড়যন ত র ব এনপ র জনগণ র বল ছ ন আপন র
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশের শত্রুরা এখনো গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে: খালেদা জিয়া
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসর ও বাংলাদেশের শত্রুরা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জন নস্যাৎ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি দলের বর্ধিত সভায় যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি এখন চিকিৎসার জন্য এখন লন্ডনে আছেন।
আজ বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বিএনপির বর্ধিত সভা। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
তাঁর বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসররা চক্রান্তে লিপ্ত। আসুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সবশক্তি নিয়োগ করি। ঐক্যকে আরও বেগবান করি।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আপনাদের ও ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা বিদায় নিয়েছে। একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আসুন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে পূর্বের ন্যায় আন্দোলন সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদানে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহতভাবে গড়ে তুলি।
খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্র-যুবকসহ দেশবাসী কাছে আহ্বান রাখতে চাই, আসুন ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বাসযোগ্য ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করি।