Samakal:
2025-02-27@22:38:46 GMT

ছিনতাইয়ের পর দলবদ্ধ ধর্ষণ

Published: 27th, February 2025 GMT

ছিনতাইয়ের পর দলবদ্ধ ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ছিনতাইয়ের পর নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার দৈলেরবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আটজনকে আসামি করে বুধবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ওই নারী। প্রধান অভিযুক্ত মো. সজীবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দির এক নারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর দেবরকে নিয়ে মদনপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বোনকে দেখতে যান। রাতে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কৃষ্ণপুরা এলাকায় তাঁর খালাতো ভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিলারবাগ এলাকায় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তাদের দেশি অস্ত্র ঠেকিয়ে দৈলেরবাগ এলাকার লাল মিয়ার পরিত্যক্ত টিনশেড বাড়িতে নিয়ে যায়। মারধর করে নগদ ১৬ হাজার টাকা ও নারীর স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। 

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

পুলিশকে কুপিয়ে মাদক কারবারিকে ছিনতাই
কারওয়ান বাজারে মঙ্গলবার পুলিশকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এক মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, ধারালো চাপাতি উঁচিয়ে ফুলহাতা গেঞ্জি ও প্যান্ট পরিহিত এক যুবক বারবার ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। ওই সময় হাতকড়া পরানো মাদক কারবারি মাথা দিয়ে পুলিশ সদস্যকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। একই সময় চাপাতি হাতে থাকা যুবক পুলিশ সদস্যের বাঁ হাতের বাহুতে কোপ দেয়। ঘটনার সময় আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড়ও দেখা যায়। কাউকে ওই পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মাদক কারবারির হাত থেকে হাতকড়া খুলে দিতে দেখা যায়। 

ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার ৭৪৩
সারাদেশে চলমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত অপারেশন ‘ডেভিল হান্টে’ আরও ৭৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 
এতে বলা হয়, অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানের আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অন্য মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার হয়েছে আরও ৯১৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জন। গ্রেপ্তারকালে শুটারগান, কার্তুজ, চাকুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 

ঢাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধে গ্রেপ্তার ২৫৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে চালিয়ে ২৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযানে ১৩ ডাকাত, ৩২ পেশাদার ছিনতাইকারী, ছয় চাঁদাবাজ, ১৯ চোর, ২৮ চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং ৪১  পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাকু, ছুরি, প্রাইভেটকার, স্কুটি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ওয়াকিটকি, মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৬৫টি।

আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিল স্থানীয়রা  
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে নাশকতা মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একজন উপপরিদর্শকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা পুলিশ সদস্যরা হলেন– ইন্দুরকানী থানার উপপরিদর্শক পলাশ সাহা, সহ-উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন, রুহুল আমিন, কনস্টেবল মো.

মামুন ও মো. রেজাউল। বুধবার রাতে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছে। 

সোমবার ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ঢেপসাবুনিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। 
ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, হেলাল খান নাশকতা মামলার আসামি। খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের ওপর হামলা করে তিনি পালিয়ে যান। 

 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: গ র প ত র কর প ল শ সদস য এল ক য় র ঘটন ঘটন য়

এছাড়াও পড়ুন:

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী ও শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে তারুণ্যের’ ২৪ নামে একটি সংগঠন নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)  নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তারুণ্যের '২৪-এর অন্যতম সংগঠক মৌমিতা নুর, এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠক আবিদ রহমান।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তারুণ্যের’ ২৪-এর নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার সংগঠক অপূর্ব রায়, তাহমিদ আনোয়ার, ইসরাত জাহান মীম, আবদুল আহাদ এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ সাদী, শান্ত, রিপা, বর্ণালী, মাহির, ইব্রাহিমসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারুণ্যের’ ২৪-এর অন্যতম সংগঠক মৌমিতা নুর বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অসামান্য ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছি, অথচ আজ নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। আমাদের মা-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হয়, তাহলে আমরা আরও বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলবো।
 
আমরা দাবি জানাই, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠন করা হোক। যতদিন ধর্ষণ বন্ধ না হবে এবং ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় না আনা হবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে। আমরা চাই, ধর্ষকদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতাদেরও জাতির সামনে উন্মোচন করা হোক।

আমাদের লড়াই নিজের নিরাপত্তার জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বেগম রোকেয়া ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আমাদের শিখিয়ে গেছেন—লড়াই করে বাঁচতে হবে, অধিকার আদায় করতে হবে। যদি সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করবো এবং শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলবো।

তারুণ্যের’ ২৪ এর সংগঠক তাহমিদ আনোয়ার বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশে বসবাস করছি, যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই। আমরা সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চাই—এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পরও কেন অপরাধীরা মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে? কেন এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? আমরা এও জানতে চাই, এই ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষক কারা? তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন?

যদি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তাহলে আমরা দেশের নারীদের নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • “সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আপনাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা”
  • সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আপনাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা
  • আ’লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
  • দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী, গ্রেপ্তার ৫
  • তারুণ্যের’ ২৪ এর উদ্যোগে শহরে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ
  • নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ
  • কারখানার বর্জ্যে মরছে নদী-খাল
  • শেষ রক্ষা হচ্ছে না খুবির সাবেক উপাচার্যের
  • গাজীপুরে চালককে গলা কেটে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই