নতুন ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ’-এর আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে ২০৫ সদস্যের। এই কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নামের এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ছয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নেতার নাম প্রকাশ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করে অন্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, সদস্যসচিব জাহিদ আহসান, মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আবদুল কাদের, সদস্যসচিব মহির আলম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইম আবেদীনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার এই কমিটি ঘোষণার সময় পদ পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তখন পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও অন্তত দুই দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনা পরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবু বাকের মজুমদার বলেন, আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে মারামারির ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরীকে প্রধান করে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৌহিদ সিয়াম ও জ্যেষ্ঠ সংগঠক নাঈম আবেদীনকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবারের বিক্ষোভকারীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশীদকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার দাবি করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত রশীদকে নতুন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছিল।

আজ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন রিফাত রশীদ। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই কমিটিতে আমার নাম ঘোষণা করার আগে আমার থেকে কনফারমেশন (অনুমতি) নেওয়া হয়নি। দফায় দফায় আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলত অনুমতি ব্যতীত আমার নাম কমিটিতে রাখায় আমি এই পদ থেকে সরে এসেছি।’

রিফাত রশীদের জায়গায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল মাশনূনকে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়েছে এবং বেসরকারি ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাঈম আবেদীনকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সংগঠক করা হয়েছে বলে আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার জানান।

যেমন হবে এই ছাত্রসংগঠন

সংবাদ সম্মেলনে আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কোথাও লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি চায় না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের এই ছাত্রসংগঠন কখনো লেজুড়বৃত্তি করবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সর্বোচ্চ বয়স ২৮ বছর হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিগুলোতে ভর্তি হওয়া থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের মধ্যে নেতৃত্বে আসতে পারবে। এ ছাড়া আমাদের সংগঠন থেকে নারীদের জন্য কমফোর্ট জোনের (স্বস্তিদায়ক পরিবেশ) ব্যবস্থা করা হবে।’

আবু বাকের মজুমদার আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করছি। এটা যেহেতু আহ্বায়ক কমিটি। এখানে হাজার লোক রাখা সম্ভব নয়। আহ্বায়ক কমিটি শুধু কমিটি আহ্বান করবে, ইউনিটভিত্তিক কমিটি প্রস্তুত করবে। পরবর্তী কাউন্সিলের ভিত্তিতে কমিটি প্রস্তুত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নতুন ছাত্রসংগঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভাজন করা হয়নি; বরং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংগঠনের সদস্যসচিব জাহিদ আহসান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেটে কিংবা মাদ্রাসায় কে পড়ে, এটা নিয়ে আমরা বিভাজন জুলাইয়ে করিনি। ফলে আমরা ছাত্রসংগঠনেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভাজন করিনি।’

আরও যাঁরা পদ পেলেন

আহ্বায়ক কমিটিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নুরুল গণি সগীর ও খান তালাত মাহমুদ (রাফি), ঢাকা কলেজের জুবায়ের হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল করিম ও নুরনবী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেদী সজিব, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারাবী জিসান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার তুহিন আহমেদকে রাখা হয়েছে। আর যুগ্ম সদস্যসচিব পদ পেয়েছেন সালাউদ্দিন আম্মার, সানজানা আফিফা অদিতি, আজিজুল হক এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার আবরার কাউসার। এ ছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারদিন হাসানকে সহমুখপাত্র করা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জ্যেষ্ঠ সংগঠক ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম আবেদীন বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে এমন ভুল বুঝিয়ে বুধবার তাঁদের মধুর ক্যানটিনের সামনে আনা হয়েছিল। ভুল–বোঝাবুঝির কারণে ‘মব’ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জনকে কমিটিতে রাখার বিষয়টি তাঁদের জানানো হলে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন।

বুধবারের মারামারির ঘটনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জে এইচ মঞ্জু গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকালের (বুধবারের) ঘটনাটি যেহেতু মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ভুল–বোঝাবুঝি) ছিল, তাই আমরা যে কর্মসূচিগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছি। তবে আহতদের সঙ্গে কথা বলে আমরা পরবর্তী সময়ে কেমন কর্মসূচি দেব, তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: য গ ম সদস যসচ ব ব সরক র স গঠন র পরবর ত কম ট ত হয় ছ ল ক কম ট স গঠক গঠন ক

এছাড়াও পড়ুন:

কুয়েট এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, বুধবার সকালেই হল ত্যাগের নির্দেশ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিন্ডিকেট সভায় সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা থেকে আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৯৯তম (জরুরি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

আজকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো। শিক্ষার্থীদের ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এদিকে আজ দুপুরে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাসভবনে আবারও তালা লাগাতে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁরা তালা না লাগিয়ে সেখান থেকে ফিরে যান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আল মাহমুদের বাড়িতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করবে সরকার: ফারুকী
  • স্বামীর নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
  • দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবিহ পড়ার আহ্বান
  • ‘কিংস পার্টি’ গঠনের বাস্তবতা দেশে নেই
  • ৪ পদ বাদে জাতীয় নাগরিক কমিটির সব সেল বিলুপ্ত
  • চারটি পদ ছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
  • বাড়তে পারে রাতের তাপমাত্রা
  • অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কুয়েট, হল ত্যাগের নির্দেশ
  • কুয়েট এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, বুধবার সকালেই হল ত্যাগের নির্দেশ