চ্যাম্পিয়ন হতে গিয়ে এক সেঞ্চুরি আর এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারার তৃপ্তি
Published: 27th, February 2025 GMT
পাকিস্তানের প্রেসবক্সের একটা সুন্দর সংস্কৃতি—সিরিজ বা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দিন প্রেসবক্সে থাকা সাংবাদিকদের গ্রুপ ছবি তোলা হয়। সেই ছবি তোলা আবার বিরাট হুলুস্থুল এক ব্যাপার। কে কোথায় আছে, সবাইকে ডেকে এনে এক জায়গায় জড়ো করো। তারপর শুরু হয় ছবি তোলা। প্রফেশনাল ক্যামেরা থাকে, সঙ্গে যার যার ইচ্ছা অনুযায়ী সেলফি–ভিডিও, এখন আবার রিল বানানোও যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে আনন্দঘন এক পরিবেশ।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এখনো শেষ হয়নি, তবে আজ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ–পাকিস্তান ‘ম্যাচ’ দিয়ে শেষ হয়ে গেছে রাওয়ালপিন্ডি পর্ব। যথারীতি ছবি তোলার ধুম পড়ল। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ ছিল এখানে, যার দুটিই ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। বাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচের আগে বৃষ্টির কারণে হতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও। পিন্ডি স্টেডিয়ামে হয়েছে কেবল বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচটাই।
দুবাইয়ে ভারত ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরছে। শূন্য হাতে ফিরছে না বলে কেউ অবশ্য বলতে পারেন, কেন, ১ পয়েন্ট তো আছে! ওটাকে প্রাপ্তি বলাটা রসিকতা। তবে পেসারদের ভালো বোলিং আর ভারতের বিপক্ষে তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিটাকে টুর্নামেন্টের প্রাপ্তি হিসেবে দেখতে পারেন।
আরও পড়ুনবাংলাদেশ কবে ‘আফগানিস্তান’ হতে পারবে ২ ঘণ্টা আগেকিন্তু যে টুর্নামেন্টে দল এসেছিল ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে, তা থেকে শুধু ভালো বোলিং আর একটা সেঞ্চুরিতে তৃপ্ত হয়ে ফেরাটা কি নিজেদেরই অপমান করা নয়! আপনি এসেছিলেন সেরা হতে, ফিরছেন একটি ম্যাচও না জিতে; এমন টুর্নামেন্টে বোলিং–ব্যাটিং করে উল্টে ফেললেই–বা কী আসে যায়! ফলাফল তো শূন্য।
আরও পড়ুননাজমুল বললেন, চ্যাম্পিয়ন হতেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যাচ্ছেন১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলেনি বলে যাঁরা হতাশ হচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যাশার সীমা অবাক করার মতো। নাজমুল হোসেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণায় যাঁদের মনের কোণে আশা বাসা বেঁধেছিল, চ্যাম্পিয়ন না হোক; বাংলাদেশ সেমিফাইনালে তো যাবে; তাঁদেরও অতি আশাবাদী কোটাতেই ফেলতে হবে।
পাকিস্তানে সিরিজ বা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দিন প্রেসবক্সে থাকা সাংবাদিকদের গ্রুপ ছবি তোলা হয়.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: হওয় র
এছাড়াও পড়ুন:
নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা
নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক বছরের মধ্যে আদালত, উপাসনালয়, হাসপাতাল, স্টেশন, হাটবাজার, এয়ারপোর্টসহ পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং পানযোগ্য পানি সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানি পাওয়া মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রায়ে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের মধ্যে সব পাবলিক প্লেসে বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিবাদীদের (সরকার) প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে হবে। এই রায়টি একটি চলমান আদেশ হিসেবে থাকবে। এ ছাড়া হাইকোর্ট ঘোষিত তুরাগ নদ, সোনারগাঁও ও হাতিরঝিলের নির্দেশনাগুলো এই রায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশে যত পানির উৎস রয়েছে, এগুলো যাতে ক্ষয়িষ্ণু (শুষ্ক, অনিরাপদ ও দূষিত) না হয়, সেজন্য সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাবার ও ব্যবহারযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে ২০২০ সালে সুয়োমটো রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। তখন নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কিনা, অথবা এই নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে রুল জারি করা হয়। গতকাল ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে জারি করা এই মামলায় রুলের শুনানিতে আদালত কয়েকজন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি বিষয়ে মতামত প্রদানকারী বন্ধু) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, মানবাধিকার সংগঠন বেলার পক্ষ থেকে মিনহাজুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মঞ্জুর আলম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. ওবায়দুর রহমান (তারেক), সোয়েব মাহমুদ ও আবুল হাসান।
রায়ের পর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। রায়টি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে এবং পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাবে।