গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। জন–আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার প্রয়োজন। আবার সংস্কারকে সম্পূর্ণ করতেও নির্বাচন লাগবে। তাই নির্বাচিত সংসদ কী কী সংস্কার করবে, তা নির্বাচনের আগেই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি সনদ আকারে তৈরি করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার গণসংহতি আন্দোলন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে এ গণসংলাপের আয়োজন করা হয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে জনগণকে সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের উপযোগী করে সংবিধানের সংস্কার না করলে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।’

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে জন–আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মনে করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরলেই ফ্যাসিবাদীরা সুযোগ নেবে। জনগণের সংগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে প্রজায় পরিণত করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে জনগণ লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছে। শুধু ভোটাধিকার নয়, বিদ্যমান রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তে নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে। যদি সমাজের বেশির ভাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নতুন বন্দোবস্তে না থাকে, দেশের মানুষ সেই বন্দোবস্ত মেনে নেবে না।

গণসংলাপে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আলিমুল কবির, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের সংগঠক শামীম শিবলীসহ স্থানীয় নেতারা। এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের সংগঠন মো.

কাউসার আহমেদ, আবদুল মতিন, মজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র জন ত ক

এছাড়াও পড়ুন:

অনির্দিষ্টকালের জন্য সংস্কার চায় না জনগণ: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতি অল্প সময়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকার চায়, যেখানে প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কারণ, সব সংগ্রাম হয়েছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। তাই, নির্বাচনের কথা বলছে বিএনপি। জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য সংস্কার চায় না।

আজ শনিবার বিকেলে বাড্ডায় মহানগর বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর বাড্ডার মাদানি সড়কে বেরাইদা ঈদগাহ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান হয়।

ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শেষ হয়নি। সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবই, করব।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকেই দেবো- এই অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনটা চাই। আমরা এখনো বলছি, আমরা এখনো রাস্তায় নামি নাই। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি ঈদ, ইফতার সামগ্রী নিয়ে, তাদের সুখ-দুখে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু আমাদের স্বার্থে যদি, জনগণের স্বার্থে যদি কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়; তাহলে বিএনপি আবার মাঠে নামবে। মাঠে নেমে দাবি আদায় করে নিতে জানে বিএনপি। এজন্য আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খুব পরিস্কার কথা। যে যেখানেই থাকেন, সেই ইউনাইটেড স্টেটে থাকেন, ফ্রান্সে থাকেন আর আমেরিকায় থাকেন আর সেখান থেকে মানুষকে উত্তেজিত করবার চেষ্টা করেন, বিভাজন সৃষ্টি করবার চেষ্টা করেন। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি, আমরা মানুষের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করছি। সুতরাং আমাদেরকে কেউ বিপথে পরিচালিত করতে পারবে না, বাংলাদেশের মানুষকেও কেউ বিপথে পরিচালিত করতে পারবে না।

ভারত-পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য কারোই পক্ষে আমরা নই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিস্কার কথা। আমরা ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, ইংল্যান্ডের পক্ষেও নই। আমরা বাংলাদেশের পক্ষে। আমাদের নেতা তারেক রহমান খুব পরিস্কার করে বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ, আমরা বাংলাদেশি।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনাবিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে নিয়েছিলো। ২০ হাজারের মতো নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। প্রায় ১৭ শ’ নেতাকর্মীকে গুম করছিলো। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়েছিলো। পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই ধরনের নজির খুব কম। সেই একটা অবস্থা আমরা পার হয়ে এসেছি। আল্লাহ তাআলার অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে তিনি হঠাৎ করে একদিন হাসিনাকে যেন গুম করে দিলেন। হাসিনা গুম হয়ে গেছে আল্লাহতাআলার নির্দেশে। যে অত্যাচার-নির্যাতন তিনি মানুষের ওপরে করেছেন; সেখান থেকে আপাতত মুক্তি পেয়ে একটা মুক্ত পরিবেশে একটা জায়গায় আমরা এসে দাঁড়িয়েছি।

মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তহিরুল ইসলাম তুহিন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক এমএ কাইয়ুম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর, আখতার হোসেন, আলফাজ উদ্দিন, এজিএম শামসুল হক, গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আশা করি অন্তবর্তী সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবে: মির্জা ফখরুল
  • ঈদের দিন ঐক্যের ডাক দিলেন ইস্তাম্বুলের মেয়র
  • ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরিয়ে আনতে পারবে না কেউ: মজিবুর রহমান মঞ্জু
  • এখনো ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: আমীর খসরু
  • অনির্দিষ্টকালের জন্য সংস্কার চায় না জনগণ: মির্জা ফখরুল
  • ‘রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে জনগণের শক্তি দমন করা যায় না’
  • ঈদে নিরাপত্তা হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে অন্তর্বর্তী সরকার, বললেন রিজভী
  • ইউক্রেনে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাব পুতিনের
  • নির্বাচন সুষ্ঠু করেনি বলেই তো আন্দোলন হয়েছে: রিজভী