সেন্ট যোসেফ স্কুলে এআই অলিম্পিয়াডবিষয়ক কর্মশালা
Published: 27th, February 2025 GMT
বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে বিশেষ এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রোড টু এআই অলিম্পিয়াড’ শীর্ষক এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের এআই অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড (বিডিএআইও) আয়োজনের আগে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড ২০২৫-এর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠেয় এ অলিম্পিয়াডে অনূর্ধ্ব দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের দলনেতা অধ্যাপক বি এম মাইনুল হোসেন, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার লিও জেমস পেরেরা, শিক্ষক অ্যানথনি প্রিন্স কোস্টা ও দিপক কুমার সরকার।
কর্মশালার কারিগরি সেশন পরিচালনা করেন গত বছর আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে রৌপ্যজয়ী সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী আরেফিন আনোয়ার এবং ব্রোঞ্জজয়ী একাডেমিয়ার শিক্ষার্থী রাফিদ আহমেদ। তাঁরা আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে নিজেদের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
২ মিলিয়ন পাউন্ড ডিভিডেন্ড বিতরণের মাইলফলক এসবিইউকের
গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক মাইলফলকে পৌঁছেছে সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেড (এসবিইউকে)। বাংলাদেশের শেয়ারহোল্ডারদের (অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি) যথাক্রমে ৫১ শতাংশ ও ৪৯ শতাংশ শেয়ারহোল্ডিং অনুযায়ী ২ মিলিয়ন পাউন্ড ডিভিডেন্ড বিতরণ করেছে। এই ডিভিডেন্ড পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতিশীলতা, কৌশলগত পুনঃবিন্যাস, বাংলাদেশের প্রতি আস্থার প্রমাণ এবং নিয়মিত চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এসবিইউকের চেয়ারপারসন মো. আশাদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারপারসন মো. মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মুবারেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তারা তাদের অ্যাকাউন্টে ডিভিডেন্ট জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মিটিংটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সিইও/এমডি মো. শওকত আলী খান, এসবিইউকের সিইও মাসুম বিল্লাহ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস (অতিরিক্ত সচিব, কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা, এফআইডি, অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং শেখ ফরিদ (যৌথ সচিব, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা)।
এসবিইউকের প্রতিনিধিরা অতীতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে ব্যাংকিং লাইসেন্স হারানো এবং শেয়ারহোল্ডিং স্ট্রাকচার নিয়ে মূল কারণসমূহ ছিল। এছাড়াও তারা ব্যাংক হিসেবে এসবিইউকের ঐতিহাসিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র দিয়ে আলোচনা করেন।
সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডের ইতিহাস
১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি পূর্ণসেবা ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হত, যা খুচরা বা ডিটেইল ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক আর্থিক সেবা এবং রেমিটেন্স সমাধান প্রদান করত। তবে, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে এবং অপারেশনাল অনিয়মের কারণে ১৯৯৯ সালে এর বিদেশী শাখা লাইসেন্স বাতিল করা হয়, ফলে এটি সোনালী ট্রেড অ্যান্ড ফাইন্যান্স ইউকে লিমিটেড হিসেবে পুনর্গঠিত হয়।
২০০১ সালে, সোনালী ব্যাংক (ইউকে) লিমিটেড একটি নতুন ব্যাংকিং লাইসেন্সের অধীনে কাজ শুরু করে, যা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথোরিটি (এফএসএ) দ্বারা ইস্যু করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি শেয়ারহোন্ডিং কাঠামোর অধীনে কাজ করেছিল যেখানে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় প্রধান শেয়ারহোল্ডার ছিল ৫১ শতাংশ এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির শেয়ার ছিল ৪৯ শতাংশ।
তবে এসবিইউকে ব্যাপক রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যার ফলে ২০১৬ সালে ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথোরিটি (এফসিএ, যা পূর্বে এফএসএ ছিল) আন্টি-মানি লন্ডারিং (এএমএল) ফ্রেমওয়ার্কে ত্রুটির কারণে ৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করে। পরবর্তীতে নতুন জমা গ্রহণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং এফসিএর এএমএল ওয়াচলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ব্যাপক পুনরুদ্ধার উদ্যোগের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড মূলধন প্রবাহিত হয়ে যাওয়ার ফলে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি ওয়াচলিস্ট থেকে বাদ পড়ে।
তবে, চলমান রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশন অথোরিটি (পিআরএ) দ্বারা সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেডের ব্যাংকিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
কৌশলগত পরিবর্তন এবং আর্থিক সাফল্য
এই রেগুলেটরি জটিলতার মধ্যেও এসবিইউকে ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ এর অধীনে একটি কৌশলগত রূপান্তরে যাত্রা শুরু করে। ফলশ্রুতিতে ট্রেড ফাইন্যান্স এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেবার দিকে মনোনিবেশ করে এবং একটি নন-বাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনে (এনবিএফআই) পরিণত হয়। এই পরিবর্তনটি ২০২২ সালের আগস্টে ব্যাংকিং অনুমোদন বাতিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয় এবং পরবর্তীতে এটি সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেড নামে রুপান্তরিত হয়।
রূপান্তরের পর থেকে, এসবিইউকে অসাধারণ আর্থিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে প্রি-ট্যাক্স মুনাফা হিসেবে ১ দশমিক ৫ পাউন্ড মিলিয়ন রিপোর্ট করে, যা ২০২৩ সালে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। এটি তার কৌশলগত পুনর্গঠন, ব্যয়-কার্যকরী ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির প্রমাণ। ২০২৩ সালে ট্রেড ফাইন্যান্স থেকে আয় প্রতি মাসে ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ১ হাজার ১৭৪ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করতে সহায়তা করেছে। এটি বছরে ১০৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিফলন।
এছাড়াও, অপারেটিং খরচ ২০২৩ সালে কৌশলগতভাবে ৩৭৭ মিলিয়ন পাউন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রোজেক্টেড বাজেটের তুলনায় ৪ শতাংশ কম এবং বছরে ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই আর্থিক উন্নতির কারণে এসবিইউকে তার শেয়ারহোল্ডারদের ২ মিলিয়ন পাউন্ড ডিভিডেন্ড প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্টেকহোল্ডারদের জন্য সাস্টেইনেবল ভ্যালু প্রদান করার প্রতিশ্রুতিকে করেছে শক্তিশালী।
রেগুলেটরি আশ্বস্ততা এবং ভবিষ্যত প্রতিশ্রুতি
কমপ্লায়েন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রতি প্রতিশ্রুতি আরও শক্তিশালী করার জন্য, এসনিইউকে আংশীদারিত্ব করেছে বিগ ফোর অন্সালটেন্সি ফার্ম (পিমব্লিউসি) এর সাথে, যাতে তারা ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের শাসন কাঠামোকে সহজতর করা, রেগুলেটরি সংস্থাগুলোর সাথে প্রি-আপ্লিকেশন আলোচনাগুলো পরিচালনা করা এবং শেষ পর্যন্ত এমবিইউকে-কে তার ইউকে ব্যাংকিং লাইসেন্স পুনরায় আবেদন করার জন্য প্রস্তুত করা।