চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিমান ধরেছিল বাংলাদেশ। বিব্রতকর ব্যাটিং পারফরম্যান্সে টানা দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্বে বাজে বিদায় ঘণ্টা। তবে খালি হাতে ফিরছে না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বৃষ্টির বদৌলতে ১ পয়েন্ট নিয়ে এবার দেশের বিমান ধরবেন তারা।

কেন এমন পারফরম্যান্স? জয়তো দূর, লড়াকু মানসিকতাও দেখাতে পারেনি নিজেদের সবচেয়ে ফেবারিট সংস্করণে! এই নিয়ে রাইজিংবিডির আলাপ হয় সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে।

এমন জঘন্য পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে পাইলট শুরুতেই বলেন, প্রস্তুতির ভিষণ ঘাটতি, “পরিকল্পনার অভাব এবং কোয়ালিটি ক্রিকেটারের অভাব।”

আরো পড়ুন:

১৩ বছর পর…

‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যে যাচ্ছি’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নিতে দুবাইয়ের বিমান ধরার আগে মাত্র সপ্তাহ খানেক সময় পায় বাংলাদেশ। তার আগে লম্বা সময় ধরে সব ক্রিকেটার ব্যস্ত ছিল বিপিএলে, টি-টোয়েন্টি সংস্করণের খেলায়। তড়িগড়ি করে এই অনুশীলন সেশন পর্যাপ্ত ছিল না শান্তদের জন্য। কোচের সঙ্গে এবার পাইলটও এটিকে সামনে আনছেন। 

“সবাই টি-টোয়েন্টি খেলছে। তাছাড়া এবার মানসম্পন্ন বিদেশি ছিল না বিপিএলে। এক সংস্করণ থেকে আরেক সংস্করণে এসেই পারফর্ম করবে এমন ক্রিকেটার নেই আমাদের। প্রস্তুতিটা আরও ভালো হতে পারতো।”

এই যে ক্রিকেটাররা অপ্রস্তুত ছিল এতে পাইলট দোষ দেখছেন ম্যানেজমেন্টের। তার প্রশ্ন, বোর্ড কেন এই সময়ে ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন করেনি। সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেললে নিশ্চিত ভাবে নিজেদের দূর্বলতা ধরা পড়তো বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক।

“যখন বিগ ব্যাশ চলছিল তখন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যস্ত ছিল সিরিজে। আমাদের কেন হয়নি? এখানে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা হলে পারফরম্যান্স আরও ভালো হতো।”

ভারত-নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই আড়াইশ রান করতে পারেনি। ভারতের বিপক্ষে ২২৮ ও কিউইদের বিপক্ষে ২৩৬ রানে থামে লাল সবুজের দল। পাইলটের মতে বাংলাদেশের সামর্থ্য এমনই।

দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুর রহিমের প্রসঙ্গ আসলে পাইলট পালটা প্রশ্ন করেন তাদের বিকল্প কই? “কাকে নেবে? আমাদের প্লেয়ার আছে? আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে কি ক্রিকেটার উঠে আসে? আমাদেরতো এসব ঠিক নেই। ক্রিকেটারদের কার কি কর্তব্য সেটি সম্পর্কে তারা নিজেরাও জানে না। এভাবে চললে ফল এমনই হবে।”
অধিনায়ক শান্তও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। অধিনায়ক হিসেবে কি ব্যর্থ শান্ত? এমন প্রশ্নে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, “শান্তর জায়গায় ধোনি নেতৃত্ব দিলেও কোনো লাভ হবে না। শান্তর একার কোনো দোষ নেই। এই পর্যায়ে লড়াইয়ে মানসিকতা নেই কারও। সবাইকেই অবদান রাখতে হবে, পারফর্ম করতে হবে।”

ঢাকা/রিয়াদ/নাভিদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প রফরম য ন স স স করণ আম দ র প ইলট

এছাড়াও পড়ুন:

পাকিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের পরাজয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এই ফলাফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানেরও। আগামী বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে নিয়মরক্ষার ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। তবে শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করাই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। দলের অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছেন, দেশের সমর্থকদের জন্য অন্তত একটি জয় উপহার দিতে চান তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, ‘আমরা ম্যাচটি জিততে চাই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শতভাগ দিয়ে জয় পাওয়া। দেশের হয়ে খেলা সব সময়ই গর্বের, তাই আশা করি, ছেলেরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনবে।’

আইসিসির টুর্নামেন্টে বরাবরই ব্যর্থতার গল্প লেখা হয়েছে বাংলাদেশের নামে। এখন পর্যন্ত ২২টি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও একবারও শিরোপা ছুঁতে পারেনি টাইগাররা। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে পৌঁছানোই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। বরং বিশ্বমঞ্চে সব ম্যাচ হেরে বিদায় নেওয়ার নজিরও রয়েছে টাইগারদের। এবারও ব্যর্থতার একই চিত্র।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান সমস্যা ব্যাটিং। কখনো কখনো বোলারদের নৈপুণ্যে কিংবা কোনো ব্যাটারের অসাধারণ ইনিংসে জয় এলেও, টুর্নামেন্ট জয়ের মতো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কখনোই আসেনি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলীর ব্যাটে ২২৮ রান তুললেও, তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটেও ২৩৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ, যা কিউইদের সহজেই টপকে যেতে কোনো সমস্যা হয়নি।

শান্ত মনে করেন, দলের উন্নতির জন্য ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলিং ইউনিট বেশ শক্তিশালী, কিছু ভালো পেসার আছে, এমনকি একজন রিস্ট স্পিনারও পেয়েছি। তবে ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে।’

ব্যাটিং নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করলেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শেষে ব্যাটিং ইউনিটে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। ব্যাটিং নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে এবং উন্নতির চেষ্টা করতে হবে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ১৩ বছর পর…
  • লিভারপুলের মানসিকতার প্রশংসায় স্লট  
  • আমি না বড্ড সেকেলে, ফেসবুক–ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করি না
  • ‘এত কলা বানরও খায় না’—পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের খোঁচা আকরামের
  • পারফরম্যান্স করুণ, তারপরেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বাংলাদেশের আয় কোটি টাকা
  • এইরূপে প্রেম ফোটে: দমচাপা রোদে বসে কবি কী দেখেন
  • ‘এভাবে চললে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে হয়ে যাবে’
  • সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে ফেলে সামনে তাকানোর পরামর্শ
  • পাকিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় বাংলাদেশ