ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভয়েস মেসেজ পাঠান অনেকে। কিন্তু উচ্চারণ অস্পষ্ট বা আশপাশে শব্দ হলে ভয়েস মেসেজের সব তথ্য প্রাপক ভালোভাবে শুনতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানে পরীক্ষামূলকভাবে ভয়েস মেসেজ বার্তা আকারে পড়ার সুবিধা চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। প্রাথমিকভাবে ভারতে বসবাসকারী অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন নামের এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীরা সহজেই স্মার্টফোনে অন্যদের পাঠানো ভয়েস মেসেজ টেক্সটে রূপান্তর করে পড়তে পারবেন। এর ফলে পথচলার সময় অন্যদের পাঠানো ভয়েস মেসেজের তথ্য জানা যাবে। শুধু তা-ই নয়, ভয়েস মেসেজে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আলাদা করে লিখে সংরক্ষণ করতে হবে না।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ট্রান্সক্রিপশনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর যন্ত্রেই সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ, ভয়েস মেসেজ ও বার্তা ব্যবহারকারীর যন্ত্রেই থাকবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা সংরক্ষণ করা হবে না। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বর্তমানে ইংরেজি, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ ও রুশ ভাষায় ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। হিন্দি ভাষা আনুষ্ঠানিক সমর্থন না করলেও কিছু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে হিন্দি ভাষার ভয়েস মেসেজ বার্তা আকারে দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে হিন্দিসহ আরও বেশ কয়েকটি ভাষা যুক্ত হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: হ য় টসঅ য প ভয় স ম স জ ব যবহ র

এছাড়াও পড়ুন:

নিরাপদ সুপেয় পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার: হাইকোর্ট

নিরাপদ সুপেয় পানি পাওয়াকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। দেশের সব মানুষকে নিরাপদ পানযোগ্য পানি বিনা মূল্যে সরবরাহ প্রশ্নে পাঁচ বছর আগে দেওয়া স্বতঃপ্রণোদিত রুলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম মনজুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট নিরাপদ পানযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন। বিষয়টি চলমান তদারকিতে থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

আদালত বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্থাৎ আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, হাটবাজার, বিমানবন্দরসহ জনসমাগমস্থলে (পাবলিক প্লেস) আসা প্রত্যেকের জন্য বিনা মূল্যে নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিরাপদ ও পানযোগ্য পানি সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পাবলিক প্লেসে বিনা মূল্যে নিরাপদ পানযোগ্য পানির সরবরাহ নিশ্চিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া দেশের পানির যত উৎস রয়েছে, সেই উৎসগুলো যাতে ক্ষয়িষ্ণু না হয় অর্থাৎ পানি যাতে শুকিয়ে না যায়, অনিরাপদ ও দূষিত না হয়, সে জন্য পানির আধারগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির এবং বেলার পক্ষে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম মনজুর আলম শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ওবায়দুর রহমান ও সোয়েব মাহমুদ।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিনা মূল্যে নিরাপদ পানি ও ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনা মূল্যে নিরাপদ পানি ও ব্যবহারযোগ্য পানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এটি ঐতিহাসিক রায়। এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিক উপকৃত হবে, পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এর আগে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্বতঃপ্রণোদিত ওই রুল দেন। দেশের মানুষকে নিরাপদ সুপেয় পানি বিনা মূল্যে সরবরাহে প্রতিপক্ষ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের করণীয় কাজ এবং ওই করণীয় কাজ করতে নির্দেশ কেন দেওয়া করা হবে না, এ বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানিতে গত ৫ জানুয়ারি আদালত আইনি সহায়তাকারী হিসেবে (অ্যামিকাস কিউরি) মতামত দিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও ওই দুই আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ