স্যার রুমে ডেকে নিয়ে প্রভা আপুর ভিডিও দেখায়: মিষ্টি জান্নাত
Published: 27th, February 2025 GMT
ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। ২০১৪ সালে ‘লাভ স্টেশন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। এর পরে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন এই নায়িকা।
কেবল অভিনেত্রী নন, মিষ্টি জান্নাত একজন দন্ত চিকিৎসকও। মেডিকেলে পড়ার সময়ে এক শিক্ষক তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন। সম্প্রতি একটি টকশোতে অতিথি হয়ে এমন অভিযোগ করেন মিষ্টি জান্নাত।
মিষ্টি জান্নাত বলেন, “মেডিকেলে ফার্স্ট ইয়ারে পড়াকালীন আমি খুব সুন্দর ছিলাম। ওই সময়ে জিন্স, ট্রাউজার, ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরতাম। আমার স্যাররা ভেবেছিল আমি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে আসছি। আমাকে বলতো আমি মডেলিং করতে আসছিলাম কিনা। এটা বলতে বলতে আমার এক স্যার আমাকে আর আমার এক বন্ধুকে তার রুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গোপনে প্রভা আপুর সেই ভিডিও দেখান। এটা আমার জন্য খুবই হতাশাজনক ও লজ্জার ছিল। সে এখনো একজন টিচার, সে এখন বারডেমে আছে।”
আরো পড়ুন:
শরীর থেকে যীশুর শেষ চিহ্ন মুছে ফেললেন নীলাঞ্জনা
অনন্যা রুমার দুই তথ্যচিত্র
আপনার কি মনে হয় না সেই শিক্ষকের নাম প্রকাশ করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে মিষ্টি বলেন, “আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি পরে প্রিন্সিপালকে অভিযোগ করেছিলাম। উনি বলেন, ‘এমন ফালতু জিনিস নিয়ে এসেছো!”
ঢাকা/রাহাত/শান্ত
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চলচ চ ত র
এছাড়াও পড়ুন:
রিমান্ডে তাঁর শরীরে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন ইসরায়েলি সেনারা, বললেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলের সেনা হেফাজতে রিমান্ড চলাকালে দেশটির সেনারা তাঁর শরীরে অ্যাসিডসহ অন্যান্য দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছুড়ে নির্যাতন করেছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তি পাওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দী।
ইসরায়েলি সেনাদের এমন নৃশংসতার বর্ণনা দেওয়া এই ফিলিস্তিনি হলেন মোহাম্মদ আবু তাবিলা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর আবু তাবিলাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
আবু তাবিলা বলেন, তাঁকে ভীষণভাবে মারধরও করা হয়েছে। তা থেকে বাদ যায়নি তাঁর চোখও। ইসরায়েলি সেনা হেফাজতে নিজের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
আবু তাবিলা আরও বলেন, গাজা সিটির সিভিল অ্যাফেয়ার্স অফিসের কাছের একটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে অপহরণ করে আল-ইয়াজ্জি পরিবারের একটি বাড়িতে নিয়ে যান।
অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিকের প্রভাবে তাঁর আঘাত পাওয়া চোখ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাপড় দিয়ে তাঁর চোখ শক্ত করে বাঁধতেন একজন সেনা। এতে রাসায়নিকের প্রভাবে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা-যন্ত্রণা চলতেই থাকত।এ বাড়িতে অ্যাসিড, ক্লোরিন, থালাবাটি পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত তরল পদার্থ, কাপড় ধোলাইয়ে ব্যবহার করা রাসায়নিক দ্রব্য, সাবান ও এয়ার ফ্রেশনার রাখা ছিল। সেনারা এসব দাহ্য রাসায়নিকে তাঁর শরীর ঝলসে দেন বলে জানান আবু তাবিলা।
আবু তাবিলা বলেন, শরীর ঝলসে দেওয়ার পর সেনারা তাঁর অবস্থা দেখে অধিকৃত পশ্চিম তীরে পাঠিয়ে দেন তাঁকে। নিষ্ঠুর নির্যাতনে পিঠ, হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া ক্ষতচিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান তিনি।
‘আমার চোখও বাদ যায়নি (নির্যাতন থেকে)। সেনাদের একজন শক্ত কিছু দিয়ে মোড়ানো দস্তানা হাতে আমার চোখে ঘুষি মারতেন। মারধরের এক পর্যায়ে পড়ে যেতাম মাটিতে’, বলেন এই ফিলিস্তিনি।
আবু তাবিলা বলেন, অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিকের প্রভাবে তাঁর আঘাত পাওয়া চোখ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, কাপড় দিয়ে তাঁর চোখ শক্ত করে বাঁধতেন একজন সেনা। এতে রাসায়নিকের প্রভাবে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা-যন্ত্রণা চলতেই থাকত।
আরও পড়ুনইসরায়েলের কারাগার: কেউ বেরোচ্ছেন নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে, কেউ ধর্ষণের শিকার বা মানসিক রোগী হয়ে০১ জানুয়ারি ২০২৫ওই বাড়িতে ছাড়াও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে জানান আবু তাবিলা। নির্যাতনের ধরনগুলোর মধ্যে ছিল—মারধর থেকে শুরু করে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ। ক্ষুধা ও কনকনে ঠান্ডায় বসে থাকার সাজা তো ছিলই, জানান তাবিলা।
আমার চোখও বাদ যায়নি (নির্যাতন থেকে)। সেনাদের একজন শক্ত কিছু দিয়ে মোড়ানো দস্তানা হাতে আমার চোখে ঘুষি মারতেন। মারধরের এক পর্যায়ে পড়ে যেতাম মাটিতে।মোহাম্মদ আবু তাবিলা, সাবেক ফিলিস্তিনি বন্দীএই ফিলিস্তিনি বলেন, সেনা হেফাজতে থাকার সময় তাঁকে কোনো জামাকাপড় দেওয়া হয়নি। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি কোনো কম্বলও। এভাবে দেড় মাস বন্দী রেখে আহত অবস্থায় আল-রামলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
দু-তিন সপ্তাহ হাসপাতালে রেখে সেখান থেকে কুখ্যাত ওফার সামরিক কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় আবু তাবিলাকে।
আরও পড়ুনইসরায়েলের কারাগারে নির্যাতনের কথা বললেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা০২ ডিসেম্বর ২০২৩ইসরায়েলি কারাগারে ব্যাপক নির্যাতনইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনি ও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের সাক্ষ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ব্যাপক বন্দী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের কিছু ধরনের মধ্যে রয়েছে দিনে ২৪ ঘণ্টা ও সপ্তাহের ৭ দিনই হাতকড়া পরিয়ে ও শিকলবন্দি করে রাখা। এমনকি ঘুম, খাওয়া ও শৌচাগারে যাওয়ার সময়ও বাঁধন খুলে না দেওয়া।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের কট্টর-ডান রাজনীতিবিদ ইতামার বেন গেভির একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে নেগেভ মরু এলাকায় অবস্থিত কেজিয়ত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালাতে ও অপমানজনক আচরণ করতে দেখা যায়।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের কট্টর-ডান রাজনীতিবিদ ইতামার বেন গেভির একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে নেগেভ মরু এলাকায় অবস্থিত কেজিয়ত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালাতে ও অপমানজনক আচরণ করতে দেখা যায়।
ভিডিওর একটি দৃশ্যে এক বন্দীকে হাঁটু গেঁড়ে বসে কারাগারের দেয়ালে রং করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর দিকে অস্ত্র তাক করে ছিলেন একজন ইসরায়েলি সেনা।
বেন গেভির এ দৃশ্য নিয়ে এক্সে লেখেন, ‘কারাগারের দেয়ালটিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের স্লোগান লেখা ছিল। সেই লেখা এভাবে রং করে ঢাকতে বাধ্য করা হয় ওই বন্দীকে।’
আরও পড়ুননিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতনের যে রোমহর্ষ চিত্র উঠে এল১০ জুন ২০২৪