১০ কেজির মহাবিপন্ন বাগাড় বিক্রি হলো সাড়ে ১৭ হাজার টাকায়
Published: 27th, February 2025 GMT
রাজবাড়ী সদরে পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগস্থলে জালে ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের মহাবিপন্ন বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মাছটি প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টাকায় কিনে নেন ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ী।
এর আগে আজ ভোরে সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকায় লতিফ মোল্লা নামের এক জেলের জালে ধরা পড়ে বাগাড়টি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, গতকাল বুধবার মধ্যরাতের দিকে নদীতে জাল ফেলেন তিনি। পরে আজ ভোরের দিকে জাল টেনে বাগাড়টি দেখতে পান। সকাল সাতটার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য নেন দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারের এক আড়তদারের ঘরে।
দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার মাছবাজারের আড়তদার রেজাউল মণ্ডল বলেন, প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের বাগাড়টি আড়তে আনা হলে নিলামে তোলা হয়। এ সময় ফরিদপুরের মোমিনখার হাট এলাকার রাকিব নামের এক ব্যবসায়ী ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। পরে আজ দুপুরের দিকে তিনি কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা লাভে মোট ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি অন্যত্র বিক্রি করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকা অনুযায়ী, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বাগাড় শিকার করা, ধরা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন না থাকায় বাগাড় শিকার ও প্রকাশ্যে বিক্রি অব্যাহত আছে। এ ধরনের নিষিদ্ধ মহাবিপন্ন মাছ প্রকাশ্যে শিকার ও নিলামে বিক্রি হলেও এসব বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের তেমন ভূমিকা দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অতিসম্প্রতি বাগাড় ধরা পড়া বা বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
‘টমেটো এখন পাখিদের খাদ্য’
নড়াইলে এ বছর টমেটোর ফলন ভালো হলেও বিপাকে পড়েছে চাষিরা। পাইকাররা না আসায় এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় চাষিদের উৎপাদিত পাকা টমেটো ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, তারা এই সবজিটি চাষ করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি। পাঁচ টাকা কেজি বললেও ক্রেতারা টমেটো কিনতে রাজি হচ্ছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ১০০ টন। টমেটো উৎপাদন হয়েছে তার থেকে বেশি।
আরো পড়ুন:
পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেন
সিএসইতে যোগ দিলেন জামাল ইউসুফ
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার রুখালী গ্রামের টমেটো চাষি আমিন মোল্যা বলেন, “পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এক একটা চারার পেছনে ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হয়েছে। টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে। তবে, পাইকারদের কেউ টমেটো কিনতে আসছেন না ক্ষেতে।”
তিনি আরো বলেন, “প্রথম দিকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে ছিলাম টমেটো। এখন সেই টমেটো বাজারে নিয়ে গেলে আড়তদাররা বলেন, এগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যাও। এবার এই সবজি চাষ করে খুবই লস হলো। টমেটো এখন হয়েছে পাখিদের খাদ্য।”
সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের টমেটো চাষি খায়রুল আলম বলেন, “এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারিনি। ৫ টাকা কেজি তাও কেউ নিচ্ছে না।”
লোহাগড়া বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হাসান মোল্যা বলেন, “আড়ত থেকে আমরা ২৪০ টাকায় ৪০ কেজি (এক মণ) টেমেটো কিনে ১০টাকা দরে বিক্রি করছি।”
লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও কাঁচামাল আড়তদার ইবাদত সিকদার বলেন, “আমরা চাষিদের কাছ থেকে কিনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে টমেটো ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করি। চাষিরা কেজি প্রতি টমেটোর দাম পাচ্ছেন ৩-৭ টাকা। এবার টেমেটোর ব্যাপক ফলন হওয়ায় বাজারে এই সবজিটির দাম পড়ে গেছে।”
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “এ বছর নড়াইলে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলায় টমেটোর চাহিদা কম থাকায় নড়াইলের বাজারে এই সবজির দর কমে গেছে।”
ঢাকা/মাসুদ