অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেফতার আরও ৭৪৩
Published: 27th, February 2025 GMT
সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে’ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ১১ হাজার ৩১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার বিকেল থেকে আজ বিকেল) অপারেশন ডেভিল হান্টের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলা ও এজাহারনামীয় আরও ৯১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, একই সময়ে কিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, একটি শুটার গান, একটি কার্তুজ, দুইটি চাকু।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলার শিকার হন ১৫ থেকে ১৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হামলার এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট নামে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা ওই রাতে মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে তা প্রতিহত করতে গিয়েছিলেন। তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এম জি
.উৎস: SunBD 24
এছাড়াও পড়ুন:
শ্রীনগরে আবার ২৭টি কবর খুঁড়ে ৬টি কঙ্কাল চুরি, এলাকাবাসীর উদ্বেগ
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ২৭টি কবর খুঁড়ে ৬টি কঙ্কাল চুরি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম সিংপাড়া সামাজিক কবরস্থান থেকে কঙ্কালগুলো চুরি হয়।
এর আগে ১৪ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় শ্রীনগরের বেজগাঁওয়ে করব খুঁড়ে ১১টি খুলি এবং ২০ ফেব্রুয়ারি চারিগাঁও জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থান থেকে ৪টি কঙ্কাল চুরি হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবারের মতো কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।
পশ্চিম সিংপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি কবরস্থানের বাতি জ্বালান এবং ভোরে ফজরের নামাজের পর বাতি বন্ধ করে দেন। আজ ভোরে বাতি বন্ধ করে কবরস্থানের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। তখন একটি কবর খোঁড়া দেখতে পান। সন্দেহ হলে পুরো কবরস্থান ঘুরে ২৬টি কবর খোঁড়া দেখা যায়। এরপর এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানালে তাঁরা খোঁড়া কবরগুলো থেকে ছয়টি কঙ্কাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কবর থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মৃতের স্বজনেরা সেখানে ভিড় করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, তিন মাস আগে তাঁর মাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়। আজ সকালে জানতে পারেন, কবরস্থান থেকে অনেকগুলো কঙ্কাল চুরি হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে এসে মায়ের কবর খোঁড়া ও কঙ্কাল চুরির বিষয়টি দেখতে পান। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বজনদের শেষবিদায় দিয়ে গোরস্তানে রাখি। যখন তাঁদের কথা মনে পড়ে, গোরস্তানে আসি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, চোখের পানি ফেলি। তাঁদের না দেখলেও কবর দেখে মনকে সান্ত্বনা দিই। সেই কবর থেকে যখন কঙ্কাল চুরি হয়, তখন সেই সান্ত্বনাটুকুও হারিয়ে যায়।’
শ্রীনগর উপজেলায় কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বেজগাঁও কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বারবার চুরির ঘটনায় আমরা এখন আতঙ্কিত। আমরা চাই, এসব চুরির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের যেন প্রশাসন দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করে।’
যেসব কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি হয়েছে, সেগুলোর একটিরও সুরক্ষা দেয়াল, পাহারাদার নেই বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কবরস্থান থেকে প্রথম কঙ্কাল চুরি যাওয়ার পর তাঁরা প্রতিটি কবরস্থানের সভাপতিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেয়াল, বাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাহারাদার নিযুক্ত করতে বলেছিলেন। কিছু জায়গায় হয়েছে। তবে অধিকাংশ জায়গায় বাকি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা গেলে চুরি রোধ করা যাবে। তিনি বলেন, চুরির ঘটনা কমাতে পুলিশ তৎপর আছে। যারা এসব ঘটনায় জড়িত, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। চোর চক্রকে ধরতে আজ থেকে জোর অভিযান চালানো হবে। দ্রুত তারা গ্রেপ্তার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।