বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম বলেছেন, ‘পার্বত্য চুক্তি নিয়ে টালবাহানা চলছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য শুভ নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি দেখতে চাই না। ভূমির সমস্যা নিরোধ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে শান্তি ফিরবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও জরুরি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণের কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সমাবেশে সিবিপি নেতা শাহ আলম এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’ ব্যানারে হওয়া এই কর্মসূচিতে বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

গণসংযোগের এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ঐক্য ন্যাপ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (জেএসএস–সমর্থিত), ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। এটি নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা, লালদীঘি মোড় ঘুরে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তাঁরা।

গণসংযোগে নেতা–কর্মীরা জনগণের কাছে চুক্তি বাস্তবায়নের সপক্ষে প্রচারপত্র বিলি করেছেন। এই পত্রে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেওয়া সাতটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সূচিভিত্তিক পরিকল্পনা করে চুক্তি বাস্তবায়ন করা, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় শাসন নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক তা বাস্তবায়ন করা, ভারতে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা, দেশের মূল অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ আসন রাখা ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা ইত্যাদি।

সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘পাহাড়ের সমস্যা শুধু পার্বত্যবাসীর সমস্যা নয়। এটি সব বাংলাদেশি নাগরিকের সমস্যা। পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা হচ্ছে ভূমি। এটি সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের যাঁরা উদ্বাস্তু হয়েছিলেন, শরণার্থী হয়েছিলেন, ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদের সবাইকে পুনর্বাসন করতে হবে। এই সমস্যা গত ২৭ বছরে সমাধান হয়নি।’

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, বৈষম্যবিরোধী চেতনা নিয়ে পাহাড়ের বৈষম্যকে বিলোপ করতে হবে। অর্থাৎ পাহাড় ও সমতলের সব মানুষের যে বৈষম্য ও ভেদাভেদ রয়েছে, এটি দূর করার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নেবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি জিইয়ে রেখে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণ সম্ভব নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক ও কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের পাহাড়ি জনগণ, আমাদের আদিবাসী, আমাদের বাঙালি জনগণ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে এক আনন্দের বাংলাদেশ গড়ব। যেখানে থাকবে না হানাহানি, খুনোখুনি, জাতিবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ, ধর্মবিদ্বেষ। এমন এক শান্তির আলোর বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

গণসংযোগের এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা জাসদের সভাপতি ইন্দুনন্দন দত্ত, বাসদের চট্টগ্রামের ইনচার্জ আল কাদেরী, ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অজিত দাশ, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, জাকির হোসেন প্রমুখ।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র সমস য গণস য গ র জন য সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

‘আহা! বেশ মালিক মালিক অনুভব হচ্ছে, দেশ তাহলে আমাদেরই’

বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন। চিত্রশিল্পী হিসেবেও সমাদৃত। এ দুটো বিষয় নিয়ে অধিক ব্যস্ত সময় পার করেন। তবে রাষ্ট্রের সমকালীন পরিস্থিতি, রাজনীতি নিয়েও সজাগ এই শিল্পী। তারই প্রমাণ মেলে ফেসবুকে। কারণ সমকালীন ভাবনাগুলো প্রকাশের জন্য মাঝে মাঝে এই মাধ্যম ব্যবহার করেন। ফের কিছু প্রশ্ন, ভাবনা ও শেয়ার করলেন এই চিরসবুজ অভিনেতা।

আফজাল হোসেন বলেন, “কবে দেশটাকে নিজের বলে মনে হয়েছিল? চুয়ান্ন বছরে অনেকবার মনে করার মতো সুযোগ এসেছে। অনেকবারই মনে হয়েছে, এইবার দেশ আসলেই আমাদের হলো। যতবার মনে হয়েছে, ততবারই সে অনুভবের আনন্দ টিকে থাকতে পেরেছে সামান‍্য কাল। কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছে, কেন বারবার কপালে এই দুঃখ জোটে! কেন, কি কারণে জোটে তা নিয়ে বিস্তর ভেবেছে এদেশের বহু মানুষ বা জনগণ। ভেবেছে, ভাবে— তবে তত প্রকাশ‍্যে নয়, গোপনে। কেন গোপনে? আশঙ্কায়। যদি প্রকাশ‍ হয়ে পড়ে, দেশ আমার হয়নি, সে মন্তব্য অপরাধী বানিয়ে দিতে পারে। আর সে অপরাধ, দোষের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান মোটেও কম হয় না।”

একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, “কালে কালে প্রশ্ন করার লোক থাকে, থাকে জামার কলার বা ঘাড় ধরে ঝাঁকি দেয়ার মানুষ। তাদের রূঢ় আচরণ— এই দ্রোহী, দেশপ্রেমহীন, অরাজক এবং অসভ‍্য ভাবনার সাহস কোত্থেকে পেলিরে তুই? দেশটা আমার, আমাদের। আমরা আমাদের মতো করে দেশটাকে মনোযোগ দিয়ে এবং অমনোযোগী হয়ে ভালোবাসব, তা কেন খোলা মন নিয়ে প্রকাশ করতে দ্বিধা হবে? কেন ‘দেয়ালেরও কান আছে’ এমন শঙ্কায় সাধারণকে সদা সাবধানে থাকতে হয়? যদি দেশের দুর্দিন, অব‍্যবস্থা, মানুষের অযথা কষ্ট নিয়ে কারো ক্ষোভ, অভিমান, অনুযোগ থেকে থাকে- সেসকল যাতনার কথা নিজের মনে চেপে রাখতে হবে- নিজের দেশে এ ভয়-ডর কাকে, কেন করতে হয়?”

আরো পড়ুন:

লিমনের গানে জুটি বেঁধেছেন চমক-ইমরান

৮ বছরের পরিচয়, অতঃপর অভিনেত্রীর বিয়ে

ভয়ে মিনমিনে জীবনযাপন করতে হবে কেন? এ প্রশ্ন যেমন রেখেছেন, তেমনি স্বেচ্ছাচারিতার প্রসঙ্গও টেনেছেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, “নিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা প্রাণ-মন খুলে বলা যাবে না। কালে কালে নয়া নয়া মালিক বনে যাওয়াদের চোখ রাঙানো, গালি খাওয়া বা গলা চেপে ধরার ভয়ে মিনমিনে জীবনযাপন করতে হবে বা হয় কেন? যেসব মানুষেরা অর্ধশত বছরেরও অধিক কাল ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দেশটাকে ভালোবেসেছেন, দেশ ও মানুষদেরকে দিয়েছেন অনেক- তাদের অসামান‍্য ভালোবাসা খাঁটি কি খাঁটি নয়- সে বিচারের দায় দায়িত্ব যার ইচ্ছা কাঁধে তুলে নিতে পারে- এ কেমন স্বেচ্ছাচারিতা?”

হুংকার দিয়ে শাসন করা ব্যক্তিরা সাধারণের ঘাড় মটকেছে। তারপর তৃপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করেছে বলে দাবি আফজাল হোসেনের। তিনি বলেন, “হুংকারে, গর্জনে জামানা শাসন করতে চাওয়া স্বার্থবাদীরা চিরকাল সাধারণের সস্তা ঘাড় মটকাতে চেয়েছে। মটকে দিতে পেরে ভেবেছে, আহা! বেশ মালিক মালিক অনুভব হচ্ছে। দেশ তাহলে আমাদেরই। অতএব হে সাধারণ, ভালো চাও যদি মান‍্য করো। অভিধানে জনগণ বলে যে সম্প্রদায়ের কথা লেখা, তাদের সঙ্গে এ ধারাবাহিক মশকরা কি জীবনভর চলতেই থাকবে?”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বাংলাদেশের শত্রুরা এখনো গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে: খালেদা জিয়া
  • রাজনীতিতে নতুনত্বের ছাপ প্রত্যাশিত
  • সরকার টিকে আছে জনগণের সমর্থনে: আসিফ মাহমুদ
  • জাতীয় নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হচ্ছে বিএনপির
  • ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় না সংসদ নির্বাচন হবে সেটা বিরাট প্রশ্ন: গয়েশ্বর চন্দ্র
  • আমরা কি ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করছি স্থানীয় নির্বাচনের জন্য, প্রশ্ন গয়েশ্বর রায়ের
  • ১৭ বছর কি স্থানীয় নির্বাচনের আন্দোলন করেছি, গয়েশ্বরের প্রশ্ন
  • অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে: তারেক রহমান
  • ‘আহা! বেশ মালিক মালিক অনুভব হচ্ছে, দেশ তাহলে আমাদেরই’