ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দিনদুপুরে বাসাবাড়িতে ঢুকে হাত-পা বেঁধে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। এ ঘটনায় আট ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখের বেশি টাকা লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এ ছাড়া চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে ছিনতাই এবং বগুড়ায় তেলবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, গতকাল দুপুরে কোন্ডা জাজিরাপাড়া ঋষিপাড়া এলাকায় ছয়-সাতজনের ডাকাত দল পিকলু দাসের বাড়িতে ঢোকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শিবরাত্রি অনুষ্ঠান থাকায় ভোর থেকে পিকলু, তাঁর স্ত্রী, ছোট ভাই গোপালসহ বাড়ির সব সদস্য পাগলা শিবমন্দিরে ছিলেন। এ সময় শুধু তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী প্রিয়া দাস বাড়িতে ছিলেন। মুখে মাস্ক পরিহিত ডাকাত দল বাড়িতে ঢুকে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে। এর পর বাড়িতে থাকা আলমারির ড্রয়ার ভেঙে স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা লুট করে পালিয়ে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বাড়িতে ঢুকে প্রিয়াকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন।
স্থানী বাসিন্দা মন্টি দাস বলেন, ডাকাত দলের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। মুখে মাস্ক থাকায় চেনা যায়নি। দিনদুপুরে ডাকাতি হওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার জাজিরা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে শুনেছি ভিন্ন কথা, পরিবারের সদস্যরা প্রিয়াকে সন্দেহ করছে। তাঁর সঙ্গে অন্য কারও পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। টাকা-স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রেখে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে ঘটনার আসল রহস্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
শরীর থেকে যীশুর শেষ চিহ্ন মুছে ফেললেন নীলাঞ্জনা
ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত। ব্যক্তিগত জীবনে নীলাঞ্জনার সঙ্গে ঘর বাঁধেন। তবে দুজনের দুটো পথ গেছে বেঁকে। নামের পাশ থেকে মুছে ফেলেছেন ‘সেনগুপ্ত’ পদবি। বাবার পদবি ব্যবহার করছেন।
বর্তমানে দুই মেয়ে জারা ও সারাকে নিয়ে আপাতত জীবনযাপন করছেন নীলাঞ্জনা। দাম্পত্য জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পার করলেও যীশুকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। তবে মহাশিবরাত্রিতে নিজের শরীর থেকে যীশুর শেষ চিহ্ন মুছে ফেললেন নীলাঞ্জনা শর্মা।
যীশুর ট্যাটু মুছে শিবের ছবি এঁকেছেন নীলাঞ্জনা
আরো পড়ুন:
আমার বাবা-মা কি ভিখারি, প্রশ্ন ভারতের স্ত্রী জয়শ্রীর
সাবুদিকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যাই: পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
মূলত, নীলাঞ্জনা তার ঘাড়ে যীশুর নামে একটি ট্যাটু করেছিলেন। সেই ট্যাটু মুছে ফেলেছেন। যীশুর নাম মুছে সেখানে শিবের ছবি এঁকেছেন নীলাঞ্জনা। যে ছবির নিচে লেখা ‘ওম নম শিবায়’। ছবিটি নীলাঞ্জনা তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন।
সংসার ভাঙার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি যীশু কিংবা নীলাঞ্জনা। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নীলাঞ্জনা; তার প্রমাণ বহুবার মিলেছে। তবে সব সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প করেছেন তিনি।
কয়েক দিন আগে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে নীলাঞ্জনা বলেন, “অতীতের ঘাত-প্রতিঘাত কাটিয়ে উঠেছি। অতীত এখন অনেকটা পেছনে। অতীতকে নিয়ে বেঁচে থাকলে কখনো এগোনো যায় না। তাই পেছনে তাকিয়েও লাভ নেই। বর্তমান সময়টা আমার কাছে উপহার। ভবিষ্যতের উপর কারোর নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই কী ঘটেছে তা নিয়ে কান্নাকাটি না করে হতাশ না হয়ে সামনে তাকাতে হবে।”
এত বছরের সংসার ভাঙার নেপথ্যের কারণ নিয়ে কয়েক মাস আগে ভারতীয় একটি গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। তাতে জানানো হয়, টলিউডের এ হ্যান্ডসাম নায়কের প্রেমে পড়েছেন গুজরাটের কন্যা শিনাল সুর্তি! শুধু প্রেম নয়, মুম্বাইয়ে একসঙ্গে থাকছেনও যীশু ও শিনাল! যীশু সেনগুপ্তর সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন শিনাল। প্রায় ৫ বছর ধরে যীশুর সমস্ত কাজ সামলাচ্ছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাই ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন যীশু। খুব কম সময় কলকাতায় থাকছেন যীশু। এই দূরত্বই নাকি কাল হয়েছে যীশু-নীলাঞ্জনার দাম্পত্য জীবনে! সোশ্যাল মিডিয়ায় যীশুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন নীলাঞ্জনা। পাশাপাশি যীশুর সঙ্গে তোলা নিজের অধিকাংশ ছবি ডিলিট করেছেন তিনি।
২০০৪ সালে নীলাঞ্জনার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন যীশু সেনগুপ্ত। টিভি ধারাবাহিকে যীশু তখন জনপ্রিয় মুখ। অঞ্জনা ভৌমিকের বড় কন্যা নীলাঞ্জনাও তখন অভিনয়জগতে বেশ জনপ্রিয়। তারপর যীশু-নীলাঞ্জনার সংসার আলো করে আসে সারা এবং জারা নামে দুই কন্যাসন্তান। সন্তান-সংসারই নীলাঞ্জনার ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই সুখের সংসারে নেমে এসেছে ঘন কালো মেঘ।
ঢাকা/শান্ত