এনড্রিকের গোলে ফাইনালের পথে এগিয়ে রিয়াল
Published: 27th, February 2025 GMT
রিয়াল মাদ্রিদের দলে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। খেলতে পারেননি ফেদে ভালভার্দে। গোলরক্ষক থিবো কর্তুয়া ছিলেন বেঞ্চে। রদ্রিগো গোয়েস মাঠে নামেন ৮৪ মিনিটে। তারপরও কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জয় আটকায়নি রিয়াল মাদ্রিদের।
শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে মন জিতেছেন রিয়ালের তরুণ ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার এনড্রিক। তার একমাত্র গোলে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। কোপা দেল রে’র ফাইনালের পথে খানিকটা এগিয়ে গেছে দল।
রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদ কোপা দেল রে’র দ্বিতীয় লেগে ২ এপ্রিল মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি হবে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। ফাইনালের পথে তাই কার্লো আনচেলত্তির দল বেশ এগিয়েই আছে বলা যায়।
বুধবার রাতে সোসিয়েদাদের আনোয়েতা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণ এক গোল করেন এনড্রিকে। বক্সের বাইরের উইঙ্গ ব্যাক পজিশন থেকে লম্বা করে বক্সের মুখে ভলি বাড়ান রিয়ালের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। দারুণ দক্ষতায় বল ধরে মুহূর্তের শটে জালে পাঠিয়ে দেন এনড্রিক।
ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ যেমন লিড বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তেমনি গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল সোসিয়েদাদও। ব্লাঙ্কোসদের গোলবারে আন্দ্রে লুনিন এদিন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ম্যাচের ৪ ও ২৬ মিনিটে দারুণ দুই সেভ দেন। ৪৩ মিনিটের সেভটি ছিল ম্যাচের সেরা। ভিনিসিয়াস ২৮ মিনিটে লিড ডাবল করার সুযোগ হারান। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটেও সমতায় ফেরায় সুযোগ হারায় সোসিয়েদাদ।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ফ ইন ল র প এনড র ক
এছাড়াও পড়ুন:
দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা
যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে ভাষণদানকালে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন।
বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক একটি নৃশংস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী গণহত্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।”
“আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।”
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, গত পনেরো বছরে আমাদের জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে। তারা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় ও নাগরিক অধিকারের অবমাননা প্রত্যক্ষ করেছে।”
সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
“বাংলাদেশের জনগণ তার ইতিহাসে এক নবজাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেসব ছাত্রনেতা এই গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনার দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তারা তাকে অনুরোধ করেছিল এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে।”
তিনি বলেন, “আমি আমাদের জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি।”
সরকারপ্রধান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার গ্রহণ করবে।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।”
“সরকার ইতিমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যাতে জনগণের মালিকানা, জবাবদিহিতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই কমিশনগুলো ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছি। আমি নিজেই যার নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং এতে ছয়টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন। এই কমিশনগুলো যে সুপারিশগুলো জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা এবং গ্রহণ করার জন্য এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।”
সরকার প্রধান আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি আরো চারটি কমিশন গঠন করেছে, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিগত সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে।
তিনি বলেন, “আমরা যখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করছি, তখন আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিচলভাবে কাজ চালিয়ে যাব, তারা নারী হোক কিংবা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হোক।”
অনুষ্ঠানে থাই প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মেলনের চেয়ারপারসন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাসস
ঢাকা/ইভা