সমালোচনা তো সবাই করতে পারেন। পথ দেখাতে পারেন কয়জন? খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সমালোচকদের ধুয়ে দিয়েছেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার যুগরাজ সিং। যাঁর আরেকটা পরিচয়, তিনি সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের বাবা। ওয়াসিম আকরামের মতো আরও যাঁরা পাকিস্তানের সমালোচনা করছেন, তাঁদের এত কথা না বলে দলের দায়িত্ব নিতে বললেন যুগরাজ। এমনকি দাবি করলেন, তিনি কোচ হলেও পাকিস্তানকে এক বছরের মধ্যে বদলে দিতে পারবেন।

আরও পড়ুনবাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা১৭ ঘণ্টা আগে

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুগরাজ বলেছেন, ‘ওয়াসিম ধারাভাষ্য দিয়ে টাকা কামাচ্ছে। আমি তাকে বলবো, দেশে ফিরে যাও, এই ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা ক্যাম্প করো। আমি দেখতে চাই, তোমরা পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারো কি না। না পারলে পদত্যাগ করো।’

ভারতের হয়ে একটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডেতে খেলা যুগরাজ এখন কোচিং করান নিজের একাডেমিতে। পাকিস্তানকে নিয়ে তাই একটি চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন যুগরাজ, ‘আমি তাদের কোচ হলে, এক বছরের ভেতর এমন দল তৈরি করে দেব, তোমাদের মনে থাকবে। এটা পুরোপুরি প্যাশনের বিষয়। আমি এখানে (নিজের একাডেমিতে) ১২ ঘণ্টা কাটাই। আপনাকে নিজের দেশের জন্য রক্ত ও ঘাম দিতে হবে।’


চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৬০ রানে হারে নিউজিল্যান্ডের কাছে। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচটি তাই এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার।

আরও পড়ুনএলোমেলো ক্রিকেট থেকে বের হতে চান নাজমুল২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ পড়তে এক দিন আগেই চলে আসেন অনেকে

মো. সুরুজ আলীর বয়স ৮৫ বছর। পাকিস্তান আমল থেকে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন তিনি। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকায়। প্রতিবারের মতো এবারও এক দিন আগেই তিনি শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে চলে এসেছেন। সুরুজ আলী জানান, বড় মাঠে বেশি সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তিনি প্রায় ৬৫ বছর আগে থেকে শোলাকিয়ায় আসছেন। প্রতিবারই এক-দুই দিন আগেই তিনি কিশোরগঞ্জে এসে মাঠের আশপাশে থাকেন। এবার শোলাকিয়া বাগে জান্নাত গোরস্তান মসজিদে গতকাল রোববার থেকে অবস্থান নেন।

শুধু সুরুজ আলী নন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে এ রকম কয়েক শ লোক শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে এক থেকে দুই দিন আগেই চলে আসেন। কেউ আবার দূর থেকে দুই-তিন দিন আগেও চলে আসেন। তেমনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মফিজুর রহমান নামের আরেকজন গত শনিবার সকালেই কিশোরগঞ্জে চলে আসেন। তিনি জানান, তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক প্রবাসী। ২০-২৫ বছর থেকে তাঁর ইচ্ছা ছিল শোলাকিয়ার ঈদগাহে নামাজ পড়বেন। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় সময়–সুযোগ হয়ে ওঠে না। তাই এবার মোজাম্বিক থেকে নিয়ত করেই দেশের বাড়িতে আসেন এবং সেখান থেকে শোলাকিয়ায় চলে আসেন।

বাগেরহাট থেকে মো. ইব্রাহীম নামের একজন শিক্ষক তাঁর ভাই মোস্তফাকে নিয়ে গতকাল শোলাকিয়া বাগে জান্নাত মসজিদে এসে ওঠেন। ফজর আলী নামের আরেকজন নাটোর সদর থেকে এসেছেন। একসময় দূর থেকে আসা মুসল্লিরা সবাই শোলাকিয়া মাঠের মিম্বরেই অবস্থান করতেন। কিন্তু ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া মাঠের অদূরে জঙ্গি হামলার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে এখন আর কাউকে মাঠের ভেতর থাকতে দেওয়া হয় না। যার কারণে প্রশাসন থেকে শোলাকিয়া বাগে জান্নাত গোরস্তান মসজিদ, পার্শ্ববর্তী আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি জায়গায় দূরের মুসল্লিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

রোববার রাতে শোলাকিয়া বাগে জান্নাত গোরস্তান মসজিদে অনেক মুসল্লি অবস্থান করেন

সম্পর্কিত নিবন্ধ