চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২৮৭ কর্মচারীর কর্মবিরতি
Published: 27th, February 2025 GMT
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির আন্দোলনরত ২৮৭ আউটসোর্সিং কর্মচারী বুধবার চতুর্থ দিনের মতো তাদের কর্মবিরতি পালন করেছেন। ফলে খনির দাপ্তরিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। গত রোববার থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের প্রতিনিধি আশরাফুল আলম জানান, ১৫-২০ বছর ধরে কয়লা খনিতে কাজ করছেন। চাকরি স্থায়ী না করায় তাদের বেতন ছাড়াও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
আরেক প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম জানান, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করলে উপদেষ্টা পরিষদ সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি দেন। আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে আমরা কাজে যোগদান করি। কিন্তু ছয় মাসেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির জিএম (প্রশাসন) মো.
জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ওভার টাইম, উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ যাবতীয় সুবিধা বাতিল করা হয়। ওই বছর ৮ অক্টোবর কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ আপিল রিভিউ করে সময়ক্ষেপণ করছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ খনি কর্তৃপক্ষের রিভিউ খারিজ করে আদালতের রায় বহাল রাখেন।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
রমজানে খাদ্যদ্রব্য মজুদ ও ভেজাল করলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিসি
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য মজুদ বা ভেজাল করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উন্নত বিশ্বে উৎসবের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে সবাই আনন্দের সঙ্গে উৎসব পালন করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটি হয়।
বছরের অন্য সময় তো ব্যবসায়ীরা মুনাফা করেন, রমজানে কেন সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করতে পারবে না? আমরা আশা করি এবার কোনো পণ্যে ভেজাল থাকবে না বা দাম বাড়বে না।
আমরা কারো মর্যাদায় আঘাত করতে চাই না, তবে যদি কেউ খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ বা পণ্য মজুদ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জেলা টাস্কফোর্স কমিটি’র সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রমজান মাসে কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকেন। কেউ যদি এমন কাজের তথ্য পান, তাহলে প্রশাসনকে জানান। একজনের কারণে পুরো ব্যবসায়ী সমাজের দুর্নাম হোক, এটা আমরা চাই না।
হোটেল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রমজানে রাস্তা দখল করে দোকান বসানো চলবে না। এতে যানজট সৃষ্টি হয় এবং মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। অসুস্থ মানুষদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে সমস্যা হয়। রমজানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি এবং সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
খাদ্যে ভেজাল রোধে নৈতিকতা গঠনের ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমি যে খাবার নিজে খাই না, তা অন্যের কাছে বিক্রি করি কীভাবে? নৈতিকতা জাগ্রত করতে হবে। উন্নত দেশে এসব দেখা যায় না, কারণ তাদের সমাজে এসব নিয়ন্ত্রণে নৈতিকতা তৈরি হয়েছে। আমাদের সমাজকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হুসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাকিব-আল-রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) কুতুবুল আলম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হৃদয় চন্দ্র বনিক, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মহানগর আমীর মইনুদ্দিন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারী বিল্লাল হোসেন রবিন প্রমুখ।
এছাড়াও সভায় নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের প্রধান কর্তা ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।