‘সংস্কারের নামে নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা বিএনপি মানবে না’
Published: 26th, February 2025 GMT
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মিয়া বলেছেন, “নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে কুচক্রী মহল। সংস্কারের নামে নির্বাচন নিয়ে এই তালবাহানা বিএনপি মেনে নেবে না।”
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চাঁদপুরের হাইমচরে দুর্গাপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির দ্বি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তফা মিয়া বলেন, “সংস্কারের নামে নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা বিএনপি মেনে নেবে না। নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে কুচক্রী মহল। আমরা সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। তবু আমরা সরকারের কাছে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাই। যৌক্তিক সময় বলে দীর্ঘ সময় নেওয়া ঠিক হবে না। সরকার কী করতে চায়, কতদিন সময় নেবে, কী কী সংস্কার হবে এগুলো আমরা জানতে চেয়েছি।”
তিনি বলেন, “সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি প্রজন্ম তার আগের প্রজন্ম থেকে বেশি দূরদর্শী। ভবিষ্যতে নতুন নতুন সংস্কারের প্রয়োজন হবে। বেশি সংস্কার করে লাভ হবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার দ্বারা পাস করা না হলে সে সংস্কার টেকসই হবে না। তাই কেবল অতীব জরুরি সংস্কার করে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।”
তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে একটি সুষ্ঠু ভোটের জন্য লড়াই করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল খেটেছে। স্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ যেন নিজের মতামত ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। তার জন্য এতো লড়াই সংগ্রাম করেও আমরা দেশে নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছি। কিন্তু আজকে ষড়যন্ত্র চলছে একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন চাই।”
দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, সাধারণ সম্পাদক, সলিম উল্যাহ সেলিম, হাইমচর উপজেলার নবাগত কমিটির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সফিক প্রমুখ।
ঢাকা/অমরেশ/এস
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সরক র ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
ইইউর বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে
পাল্টা শুল্ক আরোপের নামে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি যে শুল্ক আরোপ করেছে, তা এককথায় খামখেয়ালিপূর্ণ চর্চা। এ সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে বিপাকে ফেলবে। ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ছিল বৈশ্বিক মহামন্দার অন্যতম কারণ। পরে যুক্তরাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বাংলাদেশ তার সব বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মোস্ট ফেভারড নেশন (এমএফএন) ভিত্তিতে বৈষম্যহীন শুল্ক আরোপ করে। কারও সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হলে তখন সেই দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কমায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ এমএফএন ভিত্তিতে কোনো পণ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করলে যে শুল্কহার আরোপ করে, জার্মানি থেকে আমদানি করলেও একই হার থাকে। এ কথা ঠিক, প্রস্তুতকৃত পণ্যে বাংলাদেশে ট্যারিফ বা শুল্কহার অনেক দেশের তুলনায় বেশি।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে যে পরিমাণ আয় করে, সে দেশ থেকে আমদানি বাবদ ব্যয় তার চেয়ে কম। এর মানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের পণ্যের ওপর বাংলাদেশ গড়ে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এখন এই হিসাব তারা কীভাবে করেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কোনো দেশের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি মিলিয়ে সেই দেশে তাদের পণ্যের ওপর শুল্কহার নির্ধারণ করা হলে তা অবশ্যই অযৌক্তিক। কিন্তু তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে আমি এখনও নিশ্চিত নই।
এখন আসি যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে, সেই কথায়। এটি নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যাবে। তাদের বাজার সংকুচিত হবে। বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে তৈরি পোশাক। বাড়তি শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের
দাম অনেক বাড়বে। ফলে তাদের পোশাক আমদানি কমবে। যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৯০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করে। আমার ধারণা, এটি ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাবে। বাংলাদেশ সে দেশে বছরে ছয় থেকে সাত বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়বে। এখন দেখতে হবে আমাদের প্রতিযোগীদের
ওপর কার ক্ষেত্রে নতুন শুল্কহার কতটুকু। চীনের ওপর আগেই শুল্ক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন আরোপ করেছে ৩৪ শতাংশ। বাংলাদেশের ওপর তারা শুল্ক আরোপ করেছে ৩৭ শতাংশ। আবার ভারতের ওপর আরোপ করেছে ২৬ শতাংশ, যা আমাদের চেয়ে কম। কম্বোডিয়ার ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ৪৯ শতাংশ, যা আমাদের চেয়ে বেশি। আমি মনে করি, সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এর মাত্রা বোঝা যাবে আরও পরে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। চীন এখন বিশ্বের অন্যান্য বাজার বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৈরি পোশাক বাজারের ২১ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যদি তাদের পোশাকের দাম কমিয়ে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের বাজার নয়, বিশ্বের অন্যান্য বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকে প্রভাবিত করবে। বাংলাদেশকে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
লেখক: অর্থনীতিবিদ এবং চেয়ারম্যান, র্যাপিড