কুয়েটের চলমান ঘটনায় প্রাক্তন বিকসু নেতাদের উদ্বেগ
Published: 26th, February 2025 GMT
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন আমরা প্রাক্তন বিকসু (কুয়েট ছাত্র সংসদ) নেতারা। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা মেধাবীদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কুয়েট সবসময় একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে ক্যাম্পাসে যে উত্তেজনা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, কুয়েট ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ছাত্রদল সবসময়ই সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। অতীতেও বিএনপি সরকারের আমলে কুয়েট কখনও সহিংসতা বা অরাজকতার কারণে একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, বরং ছাত্রদল ছাত্রসমাজের আস্থাভাজন হয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বারবার পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘দুঃখজনকভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর আমরা লক্ষ্য করছি, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন’ এবং ছাত্রশিবির বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে। আমরা বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি, ওই দিনের ঘটনাকে উসকে দিয়েছে এই দুটি পক্ষ, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। তাদের পরিকল্পিত উসকানির ফলেই শান্তিপূর্ণ ফরম বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদ করলে তাদের বাড়িঘর, দোকানপাটেও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে সুযোগসন্ধানী গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবির ও আওয়ামী লীগের দোসররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ওপর হামলা করে তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো নজিরবিহীন এবং ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে সমগ্র ছাত্র সমাজের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাই- ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং অপরাধীরা চিহ্নিত হয়ে শাস্তির আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে কুয়েট আবারও তার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে যাবে। আমরা সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই এবং আশা করি, শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থেই সকলে মিলে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ে তুলবে।’
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক ভিপি প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ, প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ ইকবাল, আমিনুল ইসলাম, সাবেক সাধারন সম্পাদক তারিকুজ্জামান তালুকদার শাহীন, আব্দুর রাজ্জাক, শওকত হায়াত সিদ্দীক, বজলুর রহমান ফারুক, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির মোহাম্মদ শফিকুল হাসান, সাজ্জাদ হোসেন, আশিকুর রসুল পিয়াল, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জি এম দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোতাহার হোসেন, শাহ রাজিউজ্জামান, মনিরুল ইসলাম তিয়াস, শাহরিয়ার নাজিম, সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুল গনি সোহেল, চৌধুরী আব্দুস সোবহান, মাইনুল ইসলাম,
সাবেক সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মামুনুল বাশরী, সহ-বহিক্রীড়া সম্পাদক স্বপন ধর, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুস সোবহান, সাবেক বহি ক্রীড়া সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ছোটন এবং সাবেক সদস্য আতিকুল আহসান চারু, আরিফুদ্দৌলা পালোয়ান, সাইদুর রহমান রিটন ও সালাহউদ্দীন রিয়াজ।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
‘ভারতের বি টিমের সঙ্গেও পারবে না পাকিস্তান’
আইসিসির মঞ্চে ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার যেন নির্ধারিত। সবশেষ কবে আইসিসির টুর্নামেন্টে ওয়ানডে ফরম্যাটে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান সেটা খুঁজে পেতে নিঃসন্দেহে বেগ পেতে হবে। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুবাইতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচে ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান। হেরেছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে।
পাকিস্তানের পারফরম্যান্স দেখার পর সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার জানিয়েছেন, ভারতের ‘বি’ টিমের সঙ্গেও পারবে না পাকিস্তান। ‘সি’ টিমের সঙ্গে পারবে কিনা সেটা তিনি নিশ্চিত নন।
“আমি মনে করি (ভারতের) ‘বি’ টিমের বিপক্ষেও জিততে কষ্ট হয়ে যাবে পাকিস্তানের।। ‘সি’ দলের সঙ্গে পারবে কিনা আমি খুব বেশি নিশ্চিত নই। কিন্তু বর্তমান ফর্মে পাকিস্তানের জন্য ভারতের ‘বি’ দলকে হারানো খুব কঠিন হবে।’’
আরো পড়ুন:
বাংলাদেশের সামনে ৬ কোটি টাকার হাতছানি
বৃষ্টির পেটে অস্ট্রেলিয়া-দ. আফ্রিকার ম্যাচ
পাকিস্তানের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের পেছনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ না থাকাটাকে, ‘‘আমি মনে করি এটা আশ্চর্যজনক, বেঞ্চ স্ট্রেংথের অভাব। পাকিস্তানের সবসময়ই ন্যাচারাল ট্যালেন্ট ছিল। এই ধারনা থেকে ন্যাচারাল বলছি, যে তারা সবসময় টেকনিক্যালি সঠিক নাও হতে পারে, তবে ব্যাট এবং বলের উপর তাদের সহজাত ধারণা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ইনজামাম-উল-হককে দেখুন। যদি আপনি তার ট্যান্স দেখেন, তাহলে আপনি একজন তরুণ ব্যাটসম্যানকে এটি ফলো করতে পরামর্শ দিবেন না। তবে তার দুর্দান্ত টেম্পারামেন্ট ছিল। এই ধরণের টেম্পারামেন্টের কারণে তিনি যেকোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি পূরণ করতে পেরেছিলেন।’’
ভারত কীভাবে এতো এতো খেলোয়াড় পাচ্ছে? সে বিষয়ে গাভাস্কার বলেছেন, ‘‘সাদা বলের ক্রিকেটে ভারত এত তরুণ তারকা কীভাবে তৈরি করেছে? এর কারণ আইপিএল। সেখানকার খেলোয়াড়রা রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের হয়ে খেলেছে। এটা এমন কিছু যা পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্লেষণ করতে পারে। তাদের খুঁজে বের করতে হবে কেন তাদের আর আগের মতো বেঞ্চ স্ট্রেন্থ নেই।’’
শেষ ম্যাচে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আর ভারত লড়বে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
ঢাকা/আমিনুল