তারাগঞ্জে বাধার মুখে বন্ধ হওয়া নারী ফুটবল দলের খেলা অনুষ্ঠিত
Published: 26th, February 2025 GMT
রংপুরের তারাগঞ্জে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা শাখা ও ইত্তেহাদুল উলামা নামের স্থানীয় একটি সংগঠনের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী ফুটবল দলের খেলা আবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গাজীপুর বনাম জয়পুরহাট নারী ফুটবল দলের মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নারী ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও খেলার আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নারী ফুটবল দলের খেলার আয়োজন করেন স্থানীয় লোকজন। ওই দিন রাজশাহী ও জয়পুরহাট নারী ফুটবল দল খেলার জন্য মাঠে আসে। কিন্তু ইত্তেহাদুল উলামা নামের সংগঠন ও ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা শাখার নেতা–কর্মীরা নারী ফুটবল দলের খেলায় বাধা দেন। তাঁরা খেলা বন্ধের জন্য আন্দোলনের ডাক দেন। স্থানীয় প্রশাসন ওই নেতা-কর্মী এবং খেলার আয়োজকদের নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে খেলা বন্ধ করে মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। এর ফলে নারী ফুটবলাররা না খেলেই ফিরে যান।
২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় যুবকেরা নারী ফুটবল দলের খেলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে প্রশাসন সম্মতি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ ওই মাঠে গাজীপুর বনাম জয়পুরহাট নারী ফুটবল দলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় খেলা শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ৫টায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের মাধ্যমে গাজীপুর নারী ফুটবল দল ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয়পুরহাট নারী ফুটবল দলকে পরাজিত করে।
খেলার আগে গ্রামে ও শহরে মাইকিং করা হয়। নারী ফুটবল দলের খেলা দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকেরা এসে ভিড় করেন। খেলা চলাকালে মাঠে দর্শক সারিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
আরও পড়ুনতারাগঞ্জে নারীদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের ডাকের পর প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫খেলার আয়োজকদের একজন সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইত্তেহাদুল উলামা সংগঠনের বাধার মুখে ৬ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট ও রাজশাহী নারী ফুটবল দলের খেলা বন্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এরপর আমরা এ খেলার জন্য আবেদন করি। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গাজীপুর বনাম জয়পুরহাট নারী দলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় ব্যাপক দর্শকের উপস্থিতি ছিল।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন, ‘ইত্তেহাদুল উলামা সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বসেছিলাম। নারী ফুটবল দলের খেলা নিয়ে এখন আর তাঁদের আপত্তি নেই। খুব শান্তিপূর্ণভাবে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ফ টবল দল র খ ল খ ল র আয় র জন য উপজ ল স গঠন
এছাড়াও পড়ুন:
নতুন ছাত্রসংগঠনে ‘বঞ্চিত’দের আজ বিক্ষোভ, ঢাকা ব্লকেডের হুঁশিয়ারি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে নবগঠিত ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে’র আত্মপ্রকাশ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষার্থী আহত হন। এর বিচারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন এবং দাবি পূরণ না হলে পরদিন ‘ঢাকা ব্লকেডে’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইম আবেদিন এবং সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক এম জে এইচ মঞ্জু। পরে রাত ১১ টার দিকে তারা সড়ক ছাড়েন।
কর্মসূচিতে নাঈম আবেদিন বলেন, প্রাইভেট রক্ত মাড়িয়ে তারা এই ছাত্রসংগঠন করতেছে। প্রাইভেটের রক্ত ওপর দাঁড়ায়া সব উপদেষ্টা হইছে। প্রাইভেটের রক্তের ওপর এ দেশ স্বাধীন হইছে। কিন্তু নেতৃত্বে প্রাইভেটকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে নতুন ছাত্রসংগঠনে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল, মাদরাসা, সাত কলেজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কাউকে রাখে নাই। তারা আমাদের বাদ রাখলে পুরো ‘ঢাকা ব্লকেড’ করে দিব। কোনো দল কিছুই হইতে দিব না।
এম জে এইচ মঞ্জু বলেন, হামলার বিচারের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। তাতেও হামলাকারীদের বিষয়ে কোনো সুরাহা যদি না হয়, তাহলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা ব্লকেড’ করা হবে।
গত এক সপ্তাহ থেকে সমন্বয়ক রিফাত রশীদকে সদস্যসচিব করার দাবিতে সরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটিটি দিয়েছিলেন রিফাত রশীদ। এরসঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক নাঈম আবেদীনকে মুখ্য সংগঠক করার পক্ষে ছিলেন তারা। তবে এদের কেউই শীর্ষ পদে জায়গা পাননি। এর ফলেই বাঁধে বিপত্তি।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুর হাসান নির্বাহী কমিটির সদস্য নাঈম আবেদীনের সঙ্গে ছবিযুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা এখন সময়ের দাবি। তাই নতুন ছাত্র সংগঠনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি নাইম আবেদিন ভাইকে মুখ্য সংগঠক হিসেবে দেখতে চাই।
এর ফলশ্রুতিতে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রাইভেটের একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘ঢাবির সিন্ডিকেট মানি না মানবো না’, ‘রিফাত রশীদ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘রিফাত রশীদ এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’- ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শাহজাদী কথা সমকালকে বলেন, প্রাইভেটের কাউকে রাখা হয়নি। আমরা অন্তত রিফাত রশীদকে চেয়েছিলাম। রিফাত রশীদকে সব জায়গায় বঞ্চিত করা হয়েছে। এখানে ঢাবিয়ানদের স্বৈরাচারমূলক কমিটি আমরা মেনে নিব না।
বিকেল ৫টার দিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাঁধার মুখে বাইরে সংবাদ সম্মেলন করতে না পেরে মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এ সময় প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে থাকেন। এরমধ্যেই আবু বাকের মজুমদার কমিটি ঘোষণা করেন।
তারপর তারা বের হয়ে মিছিল নিয়ে লেকচার থিয়েটার ভবন হয়ে এগোলে মলচত্বরে উভয় পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে কয়েকজন আহত হন। চার-পাঁচজনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে তারা টিএসসি হয়ে ডাকসু ভবনে গিয়ে মিছিল শেষ করেন। এর আগে মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হওয়ার সময় প্রাইভেটের বিক্ষোভরত কয়েকজনকে চিহ্নিত করে কলার চেপে ধাক্কা দিতে দেখা যায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের।
মারামারিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারহানা বুশরা অমি, মো. রিয়াদসহ চারজন গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশু আলী, রিয়াজ হোসেন, আকিবুল হাসান আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ছাত্রসংগঠনের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, মধুর ক্যান্টিনে যারা বিক্ষোভ করেছে, তারা কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগেই বৈষম্যের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিচ্ছিল। এতে বোঝা যায়, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। তবে আমরা সারা দেশের ছাত্রদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করে যাব, কারও কোনো যৌক্তিক দাবি থাকলে আমরা আলোচনা করে তা সমাধান করব।