কাফনের কাপড় পরে সড়কে লবণ ছিটিয়ে প্রতিবাদ
Published: 26th, February 2025 GMT
কক্সবাজারের ৬৮ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে; কিন্তু ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না ৪৪ হাজারের বেশি প্রান্তিক লবণচাষি। প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে ৩৫০ টাকার বেশি খরচ হলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকায়। এ অবস্থায় লবণের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে আজ বুধবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে কয়েক শ প্রান্তিক চাষি কাফনের কাপড় পরে, রাস্তায় লবণ ছিটিয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
টানা এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকামুখী কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় নারী ও শিশু-কিশোর যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
লবণচাষিরা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে খুটাখালী বাজারে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, বদরখালী, ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার কয়েক শ লবণচাষি ও ব্যবসায়ী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাষিরা ট্রাকে করে লবণ নিয়ে আসেন। এরপর মহাসড়কের ওপর সেই লবণ ছিটিয়ে স্তূপ করে রাখেন। লবণের স্তূপে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এই সময় সড়কের দুই অংশ বন্ধ করে দেন তাঁরা। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন লবণচাষিরা। চাষিদের দাবি ছিল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট নাম দিয়ে চাহিদার অতিরিক্ত শিল্প লবণ আমদানির চেষ্টা করছে একটি মহল। অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কক্সবাজার লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ে এখন প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে খরচ যাচ্ছে ১০ টাকার বেশি; কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে ৫ টাকার কমে। তাতে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। লবণের ন্যায্যমূল্য না পেলে চাষিদের পথে বসতে হবে।
লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, মাঠে প্রতি কেজি লবণ পাঁচ টাকায় কিনে মিলের মালিকেরা সেই লবণ প্যাকেটজাত করে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের দাবি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একমাত্র দেশি লবণ উৎপাদনের কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণ উৎপাদিত হয় কক্সবাজার জেলায় টেকনাফ, সদর, ঈদগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলায় এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ লবণ উৎপাদিত হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ( নভেম্বর থেকে মে) কক্সবাজারের নয়টি ও চট্টগ্রামের একটি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌসুমের সাড়ে তিন মাসে লবণ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন। এ বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। গত মৌসুমে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন। যা কক্সবাজারে বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর ৬৩ বছরের মধে৵ সর্বোচ্চ রেকর্ড। কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালে।
বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো.
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ও ব যবস য় উপজ ল য় লবণ
এছাড়াও পড়ুন:
‘বাঘের থাবার দাগ’ সময়ের স্মারক হয়ে আছে যে মসজিদের দেয়ালে
জায়গাটিতে তখন এত মানুষের বসতি ছিল না। ঝোপ-জঙ্গলে স্থানটি দুর্গম ছিল, অন্য রকম ছিল। বাঘসহ অন্য সব বন্য প্রাণীর বিচরণ ছিল এই স্থানটিতে। এটা অনুমান করা যায় পাঁচ শতাধিক বছর আগের তৈরি মসজিদের দেয়ালের একটি চিহ্ন থেকে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, ওই চিহ্নটি ‘বাঘের পায়ের থাবার’। সেই দাগ এখনো দেয়ালটিতে সময়ের স্মারক হয়ে আছে। মসজিদটিতে সময়ে সময়ে নানা রকম সংস্কার ও উন্নয়নকাজ হয়েছে। তবে পুরোনো আদল, ‘বাঘের থাবার চিহ্ন’, ফুলের নকশা এখনো বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
মসজিদটির নাম ‘গয়ঘর ঐতিহাসিক খোজার মসজিদ’। অবস্থান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে। প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে এখনো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় টিকে আছে। শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন মসজিদটি দেখতে, নামাজ পড়তে। মসজিদকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনিরও কমতি নেই।
গত বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলে মসজিদটিতে গিয়ে দেখা গেছে, তখন সূর্য অনেকটাই হেলে পড়েছে পশ্চিমের দিকে। আসরের নামাজের সময় হয়ে গেছে। আজান পড়তেই চারদিক থেকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে ছুটে এসেছেন। স্থানীয় লোকজন জানালেন, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজের সময় এ রকমই হয়ে থাকে। তবে শুক্রবারে জুমার নামাজে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজে শামিল হতে অনেক দূরের মানুষ এখানে ছুটে আসেন। তখন অনেক সময় মুসল্লিদের স্থান সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় মসজিদের পুরোনো ভবন অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দিকে জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ পাশেও অস্থায়ীভাবে শামিয়ানা টাঙিয়ে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরের পূর্ব দিকের দেয়ালের থামে এই দাগটি বাঘের থাবার বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বুধবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গয়ঘরে