যুদ্ধাপরাধীর বাবার নামে আবাসিক হলের সিদ্ধান্ত স্বাধীনতাবিরোধী: ছাত্র ইউনিয়ন
Published: 26th, February 2025 GMT
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য নবনির্মিতব্য হলের নামকরণ ফজলুল কাদের চৌধুরী করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। আগামী এক মাসের মধ্যে তারা এই নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া হলটির নাম পরিবর্তন করে বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সাড়ে চারটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে এই সম্মেলন হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার ছেলে রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধানতম দালাল হয়ে কাজ করেছিলেন। চট্টগ্রামে শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী গণহত্যা শুরু করার পর মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা মানিক মোহাম্মদ কাসিমকে সঙ্গে নিয়ে ফজলুল কাদের চৌধুরী গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। এতে তিনি কীভাবে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীকে সহযোগিতা করা যায় এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার সংগ্রাম ধূলিসাৎ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুডস হিলের বাড়িটি চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নৌযানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আনোয়ারা উপজেলায় গহীরা উপকূলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে তিনি। পরে তাকে বাঙালির বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করা হয়।’
এই হল তার নামে না করে বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের নামে করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘যে মানুষটা কখনও চায়নি বাংলাদেশ নামে একটা রাষ্ট্রের জন্ম হোক, যিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তার নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নির্মিতব্য আবাসিক হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাম বাতিল করতে হবে। এই হলের নাম বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম ঘোষণা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সুদীপ্ত চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন কৃষ্ণ সাহা, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা এবং চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শুভ দেবনাথ প্রমুখ।
নেতারা জানান, তারা এই হলের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন। তারা প্রশাসনকে এক মাসের সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেবেন।
এর আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রদের নামে নতুন এক হল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভায় পুরোনো শামসুন নাহার হলের জায়গায় করা এই হলের নামকরণ করা হয় ফজলুল কাদের চৌধুরী হল। সভায় শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের পাঁচ জনের নামে থাকা চবির পাঁচটি স্থাপনাসহ মোট ছয়টি স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়। পাশাপাশি এই সভায় আরও ছয়টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ফজল ল ক দ র চ ধ র হল র ন ম ন মকরণ
এছাড়াও পড়ুন:
৪ সড়ক ও ৮ সেতু থেকে শেখ পরিবারের নাম বাদ
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চারটি মহাসড়ক ও আটটি সেতুর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। শেখ পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এসব স্থাপনা থেকে।
সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে’ থেকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।
সিলেটে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক’কে আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ জাতীয় মহাসড়কের নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।
মাদারীপুর (মোস্তফাপুর)-ভায়া কাজিরটেক ব্রিজ হয়ে শরীয়তপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ২২২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের নাম ‘শেখ হাসিনা মহাসড়ক’ থেকে পরিবর্তন করে ‘কাজীরটেক ব্রিজ-শরীয়তপুর মহাসড়ক’ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়কের নাম ‘শেখ হাসিনা সরণি’ থেকে পরিবর্তন করে বড়তাকিয়া (আবুতোরাব)-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার কাঁচদহঘাটে করতোয়া নদীতে নির্মিত সেতুর নাম ‘ওয়াজেদ মিয়া সেতু থেকে ‘কাঁচদহ সেতু’ নামে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে আন্দারমানিক নদীতে নির্মিত সেতুর নাম ‘শেখ কামাল সেতু’ থেকে পরিবর্তন করে ‘আন্দারমানিক সেতু’ নামকরণ করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে সোনাতলা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম ‘শেখ জামাল সেতু’ থেকে পরিবর্তন করে ‘সোনাতলা সেতু’ নামকরণ করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নাম ‘শেখ রাসেল সেতু’ থেকে পরিবর্তন করে ‘খাপড়া ভাঙ্গা সেতু’ রাখা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলায় বলেশ্বর নদীতে নির্মিত সেতুর নাম ‘শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি’ সেতু থেকে পরিবর্তন করে ‘ইন্দুরকানি সেতু’ রাখা হয়েছে।
রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর জেলা মহাসড়কের বেকুটিয়া পয়েন্টে কঁচা নদীতে নির্মিত সেতুর নাম ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব সেতু’ থেকে ‘বেকুটিয়া সেতু’ রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নাম ‘সুলতানা কামাল সেতু’ থেকে ‘ডেমরা সেতু’ রাখা হয়েছে এবং বরিশালে দপদপিয়া সেতুর নাম ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু’ থেকে ‘দপদপিয়া সেতু’ রাখা হয়েছে।