রাজধানীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১
Published: 26th, February 2025 GMT
দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রধারী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অবৈধ অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
আজ বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমালসহ সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড ও ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধীন থাকা ইউনিট, র্যাব ও থানা-পুলিশের সমন্বয়ে মোহাম্মদপুর, আদাবর, আজিমপুর, ঢাকা কলেজ, খিলক্ষেত, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, দক্ষিণখান, নিকুঞ্জ এলাকায় বেশ কিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
এসব অভিযানে কামরাঙ্গীরচরে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং ‘কুট্টি গ্রুপ’–এর নেতা রাসেল ও তার ভাই ব্রাদার বুশসহ (সাব্বির) কিশোর গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্য, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ মোট ৫১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অবৈধ অস্ত্র ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বারিন্দ মেডিকেলে গিয়ে অবরুদ্ধ ৪ সমন্বয়ক, মবের শিকার হওয়ার দাবি
রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চার সমন্বয়ক। এক পর্যায়ে তাঁদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে কলেজটিতে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। তবে সমন্বয়করা বলেন, তারা চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় আওয়ামী লীগ নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করতে বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন। পরে তারা আওয়ামীপন্থীদের মবের শিকার হন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বরিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
চার সমন্বয়ক হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মেসকাত শিশু (২৭), রাজশাহী জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক সোহাগ সরদার (২৬), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার যুগ্ম আহবায়ক এমএ বারী (২৫) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব (২৭)।
জানা গেছে, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। হাসিনা সরকার পতনের পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার বাবা শামসুদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির এমডি।
বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন বলেন, সোমবার তারা এসে অফিসের সচিবের সঙ্গে দেখা করে গেছেন। তাদের দাবি জানতে আজ তাদের সঙ্গে আমার বসার কথা ছিল। তবে তারা আজ মঙ্গলবার এসে সরাসরি এমডির কক্ষে প্রবেশ করে। তারা এসে বিভিন্ন রকম কথা বলেছে। সবার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় তারা ক্ষমা চেয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।
রাজশাহী জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল আশরারুল ইমাম তানিম বলেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা ওই মেডিকেল কলেজের এমডি। এখনও কীভাবে সেখানে তিনি এমডি আছেন! এ বিষয় নিয়েই তারা কথা বলতে গিয়েছিল। তবে তাদের কথা বলার অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিলো না। যেহেতু ওই কলেজের ছাত্রদের ক্লাস চলছিল, ছাত্ররা মনে করেছিল সেখানে অন্য কিছু বলছে তারা। এই জন্য তাদের অবরুদ্ধ রাখা হয়। এক পর্যায়ে সেখানে মব ক্রিয়েট হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে ওই চারজন তাদের অ্যাপ্রোচের জন্য ক্ষমা চায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদেরকে উদ্ধার করে।
এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মেশকাত মিশু বলেন, গত কয়েকদিন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ থেকে আমাদের কাছে বেশকিছু অভিযোগ আসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবার আশ্রয়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সেখানে কর্মরত রয়েছেন। চলমান ডেভিল হান্ট অপারেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে আমরা সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। প্রতিষ্ঠানটির সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন এবং আমাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বাইরে মব তৈরি করে আমাদের আটকে ফেলা হয়। অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।