চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্বাগতিক পাকিস্তান। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে মোহাম্মদ রিজওয়ান-বাবর আজমদের দল। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গ্রুপের শেষ ম্যাচ তাই নিয়ম রক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হেড কোচ আকিব জাভেদের মতে, বাংলাদেশ দলকে হারানোও হবে গৌরবের।

বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে আকিব জাভেদ বলেন, ‘এটা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এখানে সেরা আটটি দল খেলছে। প্রথম দুই ম্যাচে হারায় আমাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। প্রতিটি ম্যাচ এখানে গৌরব অর্জনের জন্য খেলা হয়। আমরা শেষ ম্যাচে একটা চিহ্ন রেখে যেতে চাই।’

ঘরের মাঠে তিন দশক পর আইসিসির টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে পাকিস্তান। অথচ নিজেদের দলই নেই নকআউট পর্বে। ভক্তদের জন্য এটা হতাশার মানছেন পাকিস্তান কোচ আকিব। তবে তিনি দাবি করেছেন, খেলোয়াড়রা আরও বেশি হতাশ।

আকিব বলেন, ‘আমি কোন অজুহাত দেব না। শুধু এই টুকু নিশ্চয়তা দিতে চাই, ভক্তদের চেয়ে খেলোয়াড়রা বেশি হতাশ। দলের কেউ এমন পারফরম্যান্সে খুশি নয়। সবাই জয়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েছি।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বিদায়ের পর পাকিস্তানের পুরো দল বদলে ফেরার কথা বলেছেন অনেকে। এছাড়া দল নির্বাচন নিয়েও তোলা হয়েছে প্রশ্ন। আকিবের মতে, দল ও একাদশ নির্বাচনে দলের স্বার্থ দেখা হয়েছে। এছাড়া পুরো দল বদলে অনূর্ধ্ব-১৯ দল নামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এবং পিসিবির নির্বাচক ও হেড কোচ আকিভ বলেন, ‘পূর্বে পারফর্ম করেনি এমন একজনকেও এই দলে নেওয়া হয়নি। আমরা হেরেছি বিধায়, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার এনে পুরো দল বদলে ফেলতি পারি না। নির্বাচকদের দায়িত্ব সেরা দল নির্বাচন করা। ভবিষ্যতেও আমরা দলের ভালোর কথা ভেবেই দল নির্বাচন করবো।’ 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

চীনের সামরিক মহড়ার জবাবে সেনা পাঠাল তাইওয়ান

তাইওয়ানের দক্ষিণ উপকূলে অনেকটা যুদ্ধের আদলে সামরিক মহড়া (লাইভ-ফায়ার) শুরু করেছে চীন। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নিজেদের জলসীমায় নৌ, বিমান ও সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে তাইওয়ান। এক বিবৃতিতে চীনের এ মহড়াকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সমন্বিতভাবে যুদ্ধ মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের কাছাকাছি দূরত্বে যুদ্ধজাহাজসহ ৩২টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। তাইওয়ানের দক্ষিণ উপকূলের ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে তারা যুদ্ধের আদলে মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

জবাবে ওই এলাকার আশপাশে নৌ, বিমান ও সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে তাইওয়ান। পরিস্থিতি ‘পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে’ এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনের সেনাবাহিনী আমাদের না জানিয়ে কাওশিউং ও পিংতুং উপকূলের ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে একতরফাভাবে সামরিক মহড়া ঘোষণা করে স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে।’ তাইওয়ান বলছে, এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও জাহাজ চলাচলের জন্যই শুধু বড় ধরনের ঝুঁকিই তৈরি করবে না, এটা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সুস্পষ্ট উসকানি।

কাওশিউং ও পিংতুং প্রশাসনিক উপকূলে তাইওয়ানের নৌ ও বিমানবাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে।

কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানের চারপাশে মহড়া এবং যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বাড়িয়েছে চীন। সার্বভৌমত্বের দাবি ছেড়ে দিতে তাইওয়ানের ওপর চাপ তৈরি করতে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। তবে বেইজিংয়ের এমন দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তাইপে।

বিবৃতিতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের পদক্ষেপ তাদের বারবার বলে আসা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। নিজেদের ‘বাহিনী শক্তিশালী করা ও প্রস্তুতির চেষ্টা অব্যাহত’ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্বশাসিত দ্বীপটি।

এদিকে তাইওয়ানের বিবৃতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়।

একই বিষয়ে জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা এএফপি। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের এ সামরিক মহড়া কত দিন চলবে, তা জানা যায়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ