‘দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলে কাজের মাত্রা আরো বাড়বে’
Published: 26th, February 2025 GMT
“দুদক এখনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলে স্বাধীনভাবে কাজ করার মাত্রা আরো বাড়বে” বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, পাবনার সহযোগিতায় এই গণশুনানির আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান।
দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, “সব ধরনের স্বাধীনতারই তো একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের যতটুকু স্বাধীনতা আছে, আমরা চেষ্টা করব এর মধ্যেই যতটা সম্ভব ভালোভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব।”
আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক মামলার পরিণতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড.
ড. আব্দুল মোমেন বলেন, “দুদকের কাজ হচ্ছে বিচারের জন্য তৈরি করে দেওয়া। বিচার করে আদালত। পাবনা সবসময় একটি প্রতিবাদী জেলা। এই প্রতিবাদটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো বেশি হওয়া উচিত। যেন দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে পাবনা জেলা আগে দুর্নীতিমুক্ত জেলা হয়।”
পাবনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন, দুদক রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক কামরুল আহসান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মহাপরিচালক আখতার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. মনোয়ারুল আজিজ প্রমুখ।
গণশুনানিতে ১৫৭টি অভিযোগ জমা পড়লেও দুদক তফসিলভুক্ত ৫৭টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানীর শিকার বা সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ তুলেন ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেই অভিযোগ জবাব দেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
গণশুনানীতে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগের বেশিরভাগই ছিল জমিজমাকেন্দ্রীক। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানীর নানা অভিযোগ উঠে আসে। সেগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন।
ইব্রাহিম হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, “ভূমি অফিসে চাকরি করে পাঁচ হাজার টাকা বেতন পেয়ে কর্মচারীরা কীভাবে পাাচ তলা বাড়ি করেন? আর আমি দীর্ঘবছর ইতালীতে থেকেও আজ পর্যন্ত পাঁচ তলা বাড়ি করতে পারিনি। আমার মায়ের জমি নিয়ে মাসের পর মাস সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুরতে হচ্ছে।” পাবনার সেটেলমেন্ট অফিসের সকল কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
চর বোয়ালিয়া গ্রামের মজিবর রহমান নামের একজন অভিযোগ করেন, “ভূমি অফিসের লোকজন অর্থের বিনিময়ে জমি লিখে দেন। টাকা দিলে সহজেই কাজ হয়ে যায়। আর টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরায়। ফোন করে টাকা চেয়েছেন আমার কাছে। আমাকে বলা হয়েছে, আপনার কাবিন আছে, বউ নাই। অথচ আমার প্রতিপক্ষের কাবিন নাই, সে বউ নিয়ে ঘুরছে। এটা কি অন্যায় নয়? এটা তো অবৈধ।’’
পরে ঢাকা থেকে একদল বিশেষজ্ঞ টিম পাঠিয়ে জমি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কমিশন।
এরকমভাবে গণশুনানীতে পাবনার বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, জেনারেল হাসপাতাল, নির্বাচন অফিস, সাব রেজিস্টার অফিস, বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানারকম হয়রানীর অভিযোগ তুলে ধরেন সেবা প্রত্যাশীরা। অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেয় কমিশন।
ঢাকা/শাহীন/এস
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গণশ ন ন ত ট অফ স
এছাড়াও পড়ুন:
ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’
বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় আজ চতুর্থ স্থানে রয়েছে ঢাকা। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৫৭ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল সোয়া ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি।
আজ সকালে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি রয়েছে।
এ সময় ঢাকার সবচেয়ে দূষিত বাতাস বিরাজ করছে বেচারাম দেউড়ি (১৭১) এলাকায়। তালিকায় এর পরেই রয়েছে মাদানি সরণির বেজ এজওয়াটার (১৬৯), মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং (১৬৯), মিরপুর ৬ এর শিয়ালবাড়ি সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার (১৬৩), তেজগাঁওয়ের শান্তা ফোরাম (১৫৯), কল্যাণপুর, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৫৭) এলাকা, মহাখালীর আইসিডিডিআরবি (১৫৪) ও গুলশান লেক পার্ক (১৫২) এলাকা। সকালে এসব এলাকায় বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
আজ বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় দূষণের শীর্ষে রয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু (১৮৯)। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের চেইং মাই (১৮৫) ও পাকিস্তানের করাচী (১৫৭)। সকালে এসব শহরের বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ঢাকা/হাসান/ইভা