নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই
Published: 26th, February 2025 GMT
রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী অংকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘বই পড়া প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতার আলোচনা পর্বের সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি কমল কান্তি সরকার। বক্তব্য দেন সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম সারওয়ার, আব্দুর রউফ হিটু, দেলোয়ার হোসেন, সমকালের রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক রবিউল রবি।
সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মানুষের জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বা বই পড়ে জ্ঞানের চর্চা করা এটা অন্যতম একটি কাজ। যদি মানুষকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হয় তাহলে তাকে বই পড়তে হবে। বেলুনে যত ফুঁ দেবে ততই প্রসারিত হবে। বই পড়াটাও সে রকম। আমরা যত জ্ঞানের চর্চা করব ততই আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়বে।
তিনি সুহৃদদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। নদীটি বাংলাদেশের একটি ছোট নদী, গৃহস্থঘরের মেয়েটির মতো; বহুদূর পর্যন্ত তাহার প্রসার নহে; নিরলসা তন্বী নদীটি আপন কূলরক্ষা করিয়া কাজ করিয়া যায়; দুই ধারের গ্রামের সকলেরই সঙ্গে তাহার যেন একটা-না-একটা সম্পর্ক আছে। দুই ধারে লোকালয় এবং তরুচ্ছায়াঘন উচ্চতট; নিম্নতল দিয়া গ্রামলক্ষ্ণী স্রোতস্বিনী আত্মবিস্মৃত দ্রুত পদক্ষেপে প্রফুল্ল হৃদয়ে আপনার অসংখ্য কল্যাণকার্যে চলিয়াছে।’ রবীন্দ্রনাথের গল্পের কথামালার মতো সুহৃদরা সবার জন্য কল্যাণকর কাজ করে যাচ্ছে।’
মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের যে কোনো সম্পদ অন্যকে দিয়ে দিলে কমে যায়। কিন্তু জ্ঞান এমন একটি সম্পদ, যা অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও কমে না; বরং আরও বাড়ে। আর জ্ঞানের চর্চা করতে হলে বই পড়তেই হবে। নিয়মিত পড়তে হবে, মানসম্মত বই পড়তে হবে।’
গোলাম সারওয়ার এমন অসাধারণ আয়োজনের জন্য সমকাল সুহৃদ সমাবেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এমন আয়োজন আমরা পাইনি। কিন্তু আমরা বেশির ভাগ সময় লাইব্রেরিতে ব্যয় করেছি। সুহৃদ সমাবেশের এ উদ্যোগ চমৎকার। তোমরা যারা অংশগ্রহণ করেছ, তারা সবাই একজন বীরযোদ্ধা। তোমাদের কলমের যুদ্ধে এগিয়ে যাবে দেশ।
আব্দুর রউফ হিটু বলেন, বই পড়তে হবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই। যত বই পড়বে ততই জানবে। এমন আয়োজন অব্যাহত থাকুক। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি আগ্রহী হবে বলে মনে করি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি একটা ভালো কিছু বেছে নিতে হবে। সেটা বই পড়াও হতে পারে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে বই পড়তে হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি কমল কান্তি সরকার বলেন, সুহৃদ সমাবেশ সব সময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকে। ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়। তিনি অংকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ধন্যবাদ জানান বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
সুহৃদ সমাবেশের কার্যক্রম ও বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন সমকালের রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন।
সুহৃদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোহাগ হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় সেরা আটজনকে পুরস্কার হিসেবে বই এবং সব অংশগ্রহণকারীকে উপকরণ উপহার দেওয়া হয়।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: বই পড়ত র জন য সমক ল
এছাড়াও পড়ুন:
ইশরাক যদি মেয়র হয়, আমাকেও এমপি ঘোষণা করা হোক: হিরো আলম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্রোরেশনে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম তাকেও এমপি ঘোষণা করা দাবি করছেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম), বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে হিরো আলম নিজেকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হিরো আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ দাবি জানান।
হিরো আলম মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, 'আমি বগুড়ায় এবং ঢাকায় এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে ভোট কারচুপির মধ্যে দিয়ে পরাজিত করা হয়। আমি এখন দাবি করছি আমার এমপি পদ ফিরিয়ে দিতে।'
জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এখন এমপি পদে ঘোষণা করে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি শুধু চাই আমাকে এমপি ঘোষণা করা হোক। আমি একদিনের জন্য হলেও এমপি হতে চাই।'
এদিকে আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'যেহেতু ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে। হিরো আলমকে ঢাকা ১৭, বগুড়া ৪ ও ৬ আসনের এমপি পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক, আমি তো অনেক নির্যাতিত হয়েছি।'
পরে আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে অনেকেই বনে-জঙ্গলে ঘুরেছেন। সে সময় আমি নির্বাচন করেছি। ইশরাক যদি মেয়র হয়, তাহলে আমাকে একদিনের জন্য হলেও এমপি দিতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, '২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের হারিয়ে বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়ে ফলাফল ছিনতাই করে শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট প্রার্থীদের অবৈধভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে। ফল ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেও ন্যায়বিচার পাইনি। উল্টো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছে।'
হিরো আলম বলেন, 'ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি নেতা ইশরাকের ফল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। আদালতের নির্দেশে তাকে পাঁচ বছর পর বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে আমাকে এমপি ঘোষণা করতে বাধা কোথায়।'
হিরো আলম ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একতারা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট গ্রহণের দিন তার ওপর হামলা হয়। পরে তিনি ভোট বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আশরাফুল হোসেন। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনকে ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন।