ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
Published: 26th, February 2025 GMT
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পূর্বে ধারণ করা মারধরের ভিডিও দেখিয়ে এবং স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ভাড়াটিয়া নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাড়িওয়ালার ছেলে ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ফতুল্লা থানার পূর্ব লামাপাড়া মুড়ির মিল সংলগ্ন মনিরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন বাদী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী অভিযুক্ত নাজমুলদের বাড়িতে ভাড়া থেকে পড়াশোনা ও চাকরি করতেন। নাজমুল প্রায় সময় উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিত। প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে হলেও পারিবারিক কারণে তার স্বামী আলাদা বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন রাতে বাদীর স্বামী তার সাথে দেখা করতে এলে নাজমুল ও রনি তাকে বাসার সামনে থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভিডিও ধারণ করে।
পরে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুই অভিযুক্ত জোরপূর্বক বাদীর বাসায় প্রবেশ করে। তারা পূর্বে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তরা বাদীর মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানায় জানানো হয়নি। এজন্য ধর্ষকরা সুযোগ পেয়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
ঢাকা/অনিক/এস
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
যুদ্ধাপরাধীর বাবার নামে আবাসিক হলের সিদ্ধান্ত স্বাধীনতাবিরোধী: ছাত্র ইউনিয়ন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য নবনির্মিতব্য হলের নামকরণ ফজলুল কাদের চৌধুরী করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। আগামী এক মাসের মধ্যে তারা এই নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া হলটির নাম পরিবর্তন করে বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সাড়ে চারটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে এই সম্মেলন হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার ছেলে রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধানতম দালাল হয়ে কাজ করেছিলেন। চট্টগ্রামে শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী গণহত্যা শুরু করার পর মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা মানিক মোহাম্মদ কাসিমকে সঙ্গে নিয়ে ফজলুল কাদের চৌধুরী গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। এতে তিনি কীভাবে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীকে সহযোগিতা করা যায় এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার সংগ্রাম ধূলিসাৎ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুডস হিলের বাড়িটি চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নৌযানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আনোয়ারা উপজেলায় গহীরা উপকূলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে তিনি। পরে তাকে বাঙালির বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করা হয়।’
এই হল তার নামে না করে বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের নামে করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘যে মানুষটা কখনও চায়নি বাংলাদেশ নামে একটা রাষ্ট্রের জন্ম হোক, যিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তার নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নির্মিতব্য আবাসিক হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাম বাতিল করতে হবে। এই হলের নাম বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম ঘোষণা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সুদীপ্ত চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন কৃষ্ণ সাহা, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা এবং চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শুভ দেবনাথ প্রমুখ।
নেতারা জানান, তারা এই হলের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন। তারা প্রশাসনকে এক মাসের সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেবেন।
এর আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রদের নামে নতুন এক হল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভায় পুরোনো শামসুন নাহার হলের জায়গায় করা এই হলের নামকরণ করা হয় ফজলুল কাদের চৌধুরী হল। সভায় শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের পাঁচ জনের নামে থাকা চবির পাঁচটি স্থাপনাসহ মোট ছয়টি স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়। পাশাপাশি এই সভায় আরও ছয়টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।