গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই আসামি অপহরণ
Published: 26th, February 2025 GMT
ভর দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে হানা দিয়ে মারধর করে আইনজীবীদের সামনে থেকে দুই আসামিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। বাদী পক্ষের লোকজন এই কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়ে বলেন, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের ৩ নম্বর জেলা দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের তুলে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটেছে।
দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জামিন পাওয়া দুজন আসামিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাজীপুরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন:
গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী-সতিন গ্রেপ্তার
সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
তুলে নেওয়া দুজনের নাম বাবুল ও মিলন। এ ছাড়া তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে তারা সম্পর্কে ভাই বলে জানিয়েছেন তাদের একজনের স্ত্রী দোলেনা আক্তার। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তার।
বাবুল ও মিলনের জীবন শঙ্কায় রয়েছে দাবি করে দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন দোলেনা আক্তার।
নাজমুল করিম খান বলছেন, যারাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি মামলায় বেশ কয়েকজন স্থায়ী জামিনের জন্য আদালতে আসেন। জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির পাওয়ার পর তারা আদালত প্রাঙ্গণে এলে বাদীর লোকজন হানা দিয়ে সেখান থেকে দুজনকে তুলে নিয়ে যান।
রাইজিংবিডি ডটকমের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মামলার বাদীসহ বেশ কয়েকজন তখন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেখানে তারা আকস্মিকভাবে লোকজনকে মারপিট শুরু করেন। এসময় আইনজীবীরা বাধা দিলে তাদের ওপরও আক্রমণ করেন তারা।
এই মারধরের মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এসে জামিন পাওয়া বাবুল ও মিলন নামে দুই আসামিকে তুলে নিয়ে যান, যা ভিডিওতে দেখা গেছে।
আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তাদের সামনেই আদালত প্রাঙ্গণে অতর্কিত হানা দিয়ে আসামিকে তুলে নিয়ে গেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। যাওয়ার আগে বেশ কয়েকজনকে মারধরও করেন ওই ব্যক্তিরা।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “৩ নম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল কোর্টে শ্রীপুর থানার একটি মামলার তারিখ ধার্য ছিল। ওই মামলায় ১৩ জন অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। বাদী তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। তবে আদালত তাদের জামিন বর্ধিত করেন। এরপর মামলার বাদী কিছু সশস্ত্র লোকজন নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে হামলা করেন। সেখান থেকে তারা দুজন আসামিকে অপহর করে নিয়ে গেছেন। এটি আমাদের আদালতের জন্য নিরাপত্তাহীনতা।”
আদালত প্রাঙ্গন থেকে তুলে নেওয়া আসামির স্ত্রী দোলেনা আক্তার বলেন, “জামিন হওয়ার পর উকিল আমাদের দাঁড়াতে বলেন। এমন সময় মামলার বাদী নাজমুল ও বেশ কয়েকজন আসেন। এসেই আমাদের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমরা উকিলের রুমে গিয়ে লুকাই। সেখানে গিয়ে আমার স্বামী ও দেবরকে তুলে নিয়ে গেছেন। এখন তারা কোথায় আছেন জানি না।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান বলেন, “আজকে (বুধবার) যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্বেগের বিষয়। কিছু লোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা করছে না। এটি রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি ফ্যাসিবাদেরই আরেকটি রূপ। দুপুরের পর থেকে পুলিশ এটি নিয়ে কাজ করছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঢাকা/রেজাউল/রাসেল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আইনজ ব ল কজন
এছাড়াও পড়ুন:
জামিন পাওয়া দুই আসামিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে গেলেন বাদী ও তাঁর লোকজন
মামলায় জামিন হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে মারধর করে আইনজীবীদের সামনে থেকে জামিন পাওয়া দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গেছেন বাদী ও তাঁর লোকজন। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর ছেড়ে দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গেছেন।
জামিন পাওয়া ওই দুই ব্যক্তি হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে বাবুল মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই মিলন মিয়া (৩৩)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে নাজমুল হক জমিসংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বেশ কয়েকজন আসামি জামিনের জন্য আদালতে আসেন। জামিন পাওয়ার পর তাঁরা গাজীপুর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মামলার বাদীসহ বেশ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে বাদী ও তাঁর লোকজন মামলায় জামিন পাওয়া দুই আসামিসহ অন্যদের মারধর শুরু করেন। এ সময় আইনজীবীরা বাধা দিলে তাঁদের ওপরও চড়াও হন তাঁরা। পরে আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বাবুল মিয়া ও মিলন মিয়াকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। ঘটনাটি উপস্থিত লোকজন ভিডিও করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই মামলার জামিন পাওয়া অপর ব্যক্তি এনামুল হক বলেন, ‘আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পাওয়ার পরপরই তাঁর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালান। আমরা আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাদী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন দা, চাকু, লাঠিসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের পথ রোধ করেন। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে জানালে তিনি আমাদের আনতে দুই কর্মচারী পাঠান। কিন্তু তাঁদের সামনেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই মামলায় ১৩ জন অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। আজ বাদী তাঁদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। তবে বিজ্ঞ আদালত তাঁদের জামিন বর্ধিত করেন। এতে মামলার বাদী ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু সশস্ত্র লোকজন নিয়ে হামলা করেন। পরে হামলাকারীরা জামিন পাওয়া দুই আসামিকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। এটি আদালতের জন্য নিরাপত্তাহীনতা। তিনি আরও বলেন, পরে অবশ্য তাঁদের দুই ভাইকে রাজবাড়ী মাঠের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন হামলাকারীরা। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জামিন পাওয়া বাবুল মিয়ার স্ত্রী দোলনা আক্তার বলেন, ‘জামিন হওয়ার পর উকিল আমাদের দাঁড়াতে বলেন। এমন সময় মামলার বাদী নাজমুল হকসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক আসেন। এসেই আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমরা উকিলের রুমে গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। সেখানে গিয়ে আমার স্বামী ও দেবরকে তুলে নিয়ে গেছেন। এখন তাঁরা কোথায় আছেন, জানি না।’
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের জামিন হওয়ায় বাদীপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে দুই ভাইকে মারধর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তাঁদের পাওয়া গেছে। যাঁদের ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে যাঁরা হামলা চালিয়েছেন, তাঁরা কোনো সাধারণ লোক নন, তাঁরা সন্ত্রাসী। আদালতে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্বেগের। এটি রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। দুপুরের পর থেকে পুলিশ এটি নিয়ে কাজ করছে। যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না।