হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরিফুল তালুকদারকে আহ্বায়ক ও মাহদী হাসানকে সদস্যসচিব করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ১৩৭ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পর এর বিরোধিতা করে গতকাল রাত ১২টার দিকে ও আজ বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতা-কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ, ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। প্রতিবাদ সভায় সমবেত সবাই দাবি করেন, হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের কমিটিতে রাখা হয়নি। যাঁরা কমিটিতে আছেন, তাঁরা আন্দোলনে ছিলেন না।

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলায় ‘চট্টগ্রাম’ ও ইংরেজিতে ‘চিটাগাং’ চান বি‌শিষ্টজনরা

‘‘চট্টগ্রাম ও চিটাগাং—দুটোই ঐতিহাসিক শব্দ। এ দুটো শব্দ কখনো সাংঘর্ষিক ছিল না। বরং কোনো জনমত না নিয়ে ও ফোরাম আলোচনা না করে হঠাৎ চিটাগাং শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া চিটাগাং শব্দটি বাদ দিতে কারো কোনো দাবি ছিল না। চিটাগাংয়ের যে আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও কানেক্টিভিটি রয়েছে, সেটিও খাটো করা হয়েছে। তাই আমরা আগের মতো চট্টগ্রাম ও চিটাগাং—দুটোই চাই।’’

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদ আয়োজিত চট্টগ্রাম ও চিটাগাং বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সভাপতি ও প্রধান অতিথি সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

নগরীর কাজির দেউড়ির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘চিটাগাং বন্দরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই বন্দরসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার নামের আগে যে চিটাগাং ছিল, তা পুনরায় বহাল হউক। আমরা চট্টগ্রাম শব্দটির বিরুদ্ধে নই। তবে চাই, আগের মত বাংলায় চট্টগ্রাম ও ইংরেজিতে চিটাগাং দুটোই থাকুক।’’

সাজ্জাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সারোয়ার আমিন বাবু, নজরুল গবেষক ফরিদা করিম, এএফএম বোরহান, চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রেসিডেন্ট ইউসুফ বাহার চৌধুরী, দৈনিক পূর্বকোণ লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ মারুফ, এসএম শফি, রবিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নথিপত্রের পাতায় পাতায় চট্টগ্রাম ও চিটাগাংয়ের জয়গান। চিটাগাং একটি আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি শব্দ।

তারা আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, শিপিং, আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংকিং, সফটওয়ার, গুগল, ইয়াহু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত চিটাগাং। এমনকি চিটাগাং যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তাকে দমিয়ে রাখার জন্য এই চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। এটা সফল হবে না। আমরা মনে করছি, চিটাগাং শব্দটি বাদ দিতে সরকারকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে সুশীল নামের কিছু আঁতেল উৎসাহী। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে আকুল আবেদন, আমরা চট্টগ্রাম ও চিটাগাং দুটোই চাই।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এনএইচ

সম্পর্কিত নিবন্ধ