ক্রুড অয়েলে পারদের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল গবেষক। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে এক সেমিনারে এ কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. নাজমা শাহীন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. নাজমা শাহীন বলেছেন, ক্রুড অয়েল পরীক্ষায় পারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিশোধন (রিফাইন) করেও দূরীভূত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথভাবে ‘ফর্টিফাইড এডিবল অয়েলস: এনহ্যান্সিং হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন ফর এ বেটার ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

ড.

নাজমা শাহীন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল তেলের বিভিন্ন প্যারামিটার নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন যে, খোলা তেলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্যারামিটারের প্রাপ্ত ফলাফল আদর্শ মানের সঙ্গে অনেক বেশি অসংগতিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, তেলের বিভিন্ন প্যারামিটারের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যায় যে, নন-ব্রান্ডেড সয়াবিন তেলের সঙ্গে অন্যান্য তেল বা খারাপ উপাদানের সংমিশ্রণ করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান রেস্তোরা মালিক সমিতিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা একটা ঘোষণা দেন যে, আপনার রেস্টুরেন্টে খোলা তেল ব্যবহার করেন না। এই ঘোষণার মাধ্যমে ভোক্তারা বুঝতে পারবেন যে, কোনটা ভালো কিংবা কোনটা খারাপ।

এছাড়া তিনি ফর্টিফাইড ভোজ্যতেল ব্যবহারে মডেল উপজেলা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, প্রতি বছর ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ ভোজ্যতেল সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুলতান আলম, গেইন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুলতান আলম প্রচার প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যগত সমস্যার একটা বড় কারণ হলো তেল। তেলের ব্যবহার যতোই কমাতে পারবে, ততই আমরা স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে ভালো থাকব। এজন্য প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করতে হবে।

প্রমাণ সাপেক্ষে উপস্থাপিত ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. রুদাবা খন্দকার বলেন, তরুণরা দেশের একটা বিশাল অংশ। তাই তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ সকল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে যথাযথ সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

সেমিনারে বিএফএসএ’র কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, রেস্তোরা মালিক সমিতি, গেইন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব যবহ র উপস থ ত

এছাড়াও পড়ুন:

‘শুল্ক সুবিধা নিয়ে আমদানির পরও তাঁত শিল্পে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে’

তাঁত শিল্প বিকাশের জন্য সরকার কিছু উপকরণে শুল্ক সুবিধা দিয়ে আমদানির ব্যবস্থা করলেও দুঃখজনকভাবে এখানে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে, যা ধনীকে আরও ধনী গরিবকে আরও গরীব করেছে। এর ফলে না সরকার না তাঁতীরা এর সুবিধা পেয়েছে। মাঝে কিছু দুর্বৃত্ত পুঁজি করেছে। তাঁতির উপকারে এই কর্মশালায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ এলে তা অতি দ্রুত সংস্কার করা হবে। 

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) এক কর্মশালায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আওতায় ‘তাঁতিদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে সুতা, রং ও রাসায়নিক সরবরাহ সংক্রান্ত প্রচলিত পদ্ধতির সংস্কার ও উন্নয়ন’ বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, সরকার স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ৬৩ লাখ মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য দিচ্ছে, এটা ১ কোটিতে উন্নীত করা হবে। এর প্রক্রিয়াতে দেশের প্রান্তিক তাঁতীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবো।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পণ্যের মধ্যে উদ্ভাবনশীলতা, বৈচিত্র্য আনতে হবে। উপকরণ সঠিক দামে পেলে অর্থনৈতিকভাবে এটাকে উপযুক্ত মূল্যে বানাতে পারবো। সমাজ ততো উন্নত, তার রীতি যতো উন্নত, আইন নয়। দুর্বৃত্তায়নের যে রীতি এটা থেকে বের হতে হবে। জুলাই বিপ্লব থেকে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

কাচাঁমাল সাপ্লাই ও সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে সরকারের তদারকি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তাঁতী সমিতির সদস্যরা। যাতে আগামী দিনে তাঁতীদের তৈরি পণ্য আরও বেশি পরিমাণ বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকীসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান খান,বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম, জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক জিনাত আরা।

ঢাকা/আসাদ/এনএইচ

সম্পর্কিত নিবন্ধ