৬ মাসে দেশের অর্থনীতি যেভাবে কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল: প্রেস সচিব
Published: 26th, February 2025 GMT
গত ছয় মাসে যেভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের অর্থনীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, সেটা যেকোনো সময় ফল করত।’
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘ডিজেএফবি টক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, এনার্জি খাতে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা দরকার। স্টেট স্পন্সরশিপ করে ডাকাতি হয়েছে এ খাতে। বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছি। বড় বড় পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা গ্যাসের জন্য প্রচুর পরিমাণে কূপ খনন করতে চাই।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো হবে। এই পোর্টের দক্ষতা না বাড়লে ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে না। রি-এক্সপোর্ট করতে গেলে চট্টগ্রামের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে। এজন্য বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা চাই চট্টগ্রামের প্রতিটি পোর্ট উন্নয়ন করতে, তাহলে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, এনার্জি সিস্টেমে দক্ষ না হলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। পাওয়ার সিস্টেমে ডাকাতির বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দেশে বিনিয়োগ দরকার, সেটা করা হয়নি। রেভিনিউ সিস্টেম করছেন তা ভালো ছিল না। হাতে টাকা নাই, যা তা খরচ করেছে বিগত সরকার। ৫৬০টা মডেল মসজিদ বেশি ব্যয়ে করা হয়েছে, যা আরও কম টাকায় করা যেত। এমনভাবে রেললাইন টানা হয়েছে সারা দিনে রেল চলে না। এটা জনগণের টাকার অপচয় করা ছাড়া কিছু নয়।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ডিসি অফিসের কোটিপতি কেরানির বিরুদ্ধ দুদকের চার্জশিট
দুর্নীতির অভিযোগে মাদারীপুরের কোটিপতি কেরানি মো. মিজানুর রহমান ফকিরের (৫৩) বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের মাদারীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) এ চার্জশিট দাখিল করেন।
মিজানুর রহমান ফকির মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক। এর আগে তিনি রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
মিজানুর রহমান ফকির মাদারীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠককান্দী এলাকার মো. কিনাই ফকিরের ছেলে। কয়েক বছর আগে ‘ডিসি অফিসের কর্মচারী চার বাড়ির মালিক’ শিরোনামে তার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর তদন্ত শুরু করে দুদক। দীর্ঘ তদন্তে তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া যায়।
দুদকের দাখিল করা চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, আসামি মো. মিজানুর রহমান ফকির ৫৩ লাখ ২০ হাজার ৭৪৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, আসামি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৭০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অসৎ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অর্থাৎ, তার কোটি টাকার বেশি দামের সম্পদ রয়েছে।
দুদকের মাদারীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তকালে জব্দ করা আলামত ও রেকর্ডপত্র মোতাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানতে পারে যে, আসামি মো. মিজানুর রহমান গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা করেছেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। গাড়ি ব্যবসা থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। তিনি সরকারি কর্মচারী হিসেবে গাড়ির ব্যবসা করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণকর্মচারী (আচরণ), ১৯৭৯ এর বিধি-১৭ ধারায় এ বিষয়ে বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে অথবা অন্য কোনো চাকরি বা কার্য করতে পারবেন না। তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম-নীতি ও চাকরিকালীন বিধি-বিধান মানতে বাধ্য। তিনি সজ্ঞানে জেনে-বুঝে তা লঙ্ঘন করেছেন। তা দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৬৮ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একইভাবে গণকর্মচারী আচরণ, ১৯৭৯-এর বিধি-১১ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তিনি ১৯৭৯ এর বিধি-১২ ধারায় [ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্মাণ অথবা ক্রয়] বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী আবেদনের মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ ছাড়া ব্যবসায়িক বা আবাসিক ব্যবহারের অভিপ্রায়ে নিজে বা ডেভেলপারের দ্বারা কোনো ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্মাণ করতে বা কিনতে পারবেন না। মিজানুর রহমান ফকির সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করেছেন। তাছাড়া, আসামি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিপি/অর্পিত সম্পত্তি কেস নম্বর: ঢওও-ঠচ-১২৮/৭৩-৭৪ নং লিজ কেস মূলে ০.১৪০০ একর সরকারি (ভিপি) সম্পত্তি আইনবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ নিয়ে ভোগদখলে রেখেছেন। ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন মোতাবেক, যে শহরে লিজগ্রহীতার নিজস্ব বাড়ি বা জায়গা রয়েছে এবং তাকে ওই শহরের অর্পিত সম্পত্তির কোনো বাড়ি বা জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না। আসামি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ভিপি সম্পত্তি আইনবহির্ভূতভাবে লিজ নিয়ে বাউন্ডারি, দরজা, ঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে রেখেছেন।
অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের স্মারক নং-৩১০৯৪ (তারিখ ২৪/০৮/২০২৩) মোতাবেক জেলা প্রশাসক, মাদারীপুরের স্মারক নং-১৭১ (তারিখ: ১৩/০৮/২০২৪) দ্বারা লিজ বাতিল করে দুদককে অবহিত করা হয়।
পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামি আইন অমান্যকারী এবং সরকারি কর্মচারী হয়ে লাভের আশায় ব্যবসা ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
ঢাকা/বেলাল/রফিক