অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন জমার সুবিধা চালু করল এনবিআর
Published: 26th, February 2025 GMT
করদাতাদের জন্য অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন জমার সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য https://etaxnbr.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সংশোধন অপশন ব্যবহার করতে হবে।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সংশোধনী রিটার্নে যদি করের পরিমাণ বাড়ে, তাহলে নিয়ম অনুসারে বাড়তি করসহ জরিমানা দিতে হবে।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ করবর্ষে অনলাইনে ঘরে বসে আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। ইতিমধ্যে এ বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ১৪ লাখ ৩২ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং ১৮ লাখ ৭৫ হাজার করদাতা ই-রিটার্নের জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নে কোনো ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে আয়কর আইন ২০২৩–এর ১৮০(১) ধারা অনুসারে মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ১৮০(২) ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যায়। যেসব করদাতা অনলাইনে মূল আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর ভুলত্রুটির কারণে অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে চান, তাদের জন্য অনলাইনে সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যারা সংশোধন অপশন ব্যবহারের জন্য অনলাইনে প্রবেশ করবেন, তাদের অবশ্যই সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
আয়কর দিবস–পরবর্তী সময়েও বছরব্যাপী অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সুবিধাও চালু আছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আয়কর র ট র ন দ খ ল র ট র ন দ খ ল কর র জন য করদ ত
এছাড়াও পড়ুন:
আগামী বছর থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে
আগামী অর্থবছর থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
আবদুর রহমান খান বলেছেন, চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু খাতের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আগামী অর্থবছর থেকে সবার জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের (করপোরেট কর) রিটার্নও অনলাইনে দেওয়া যাবে।
আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, ভালো (কমপ্লায়েন্ট) করদাতারা যেন অকারণ হয়রানির শিকার না হন, সেই চেষ্টা করছে এনবিআর। এ জন্য আয়কর নথির নিরীক্ষার ভিত্তি হবে ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্কবেজড) ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। এটা করতে অনলাইনে রিটার্ন নেওয়া লাগবে।
আবদুর রহমান খান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু খাতের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। এখন এর অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে শুধু অনলাইন জমায় কী ধরনের সমস্যা হয়েছে, তা জানার জন্য একটা সেমিনার করা হবে; যাতে আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে আমরা আমাদের অনলাইন রিটার্নকে পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করে দিতে পারি।’
আবদুর রহমান খান আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের (করপোরেট কর) রিটার্নকেও স্বয়ংক্রিয় করার কাজ করছে এনবিআর। আশা করি আগামী বছর থেকে আপনারা করপোরেট রিটার্নও অনলাইনে দিতে পারবেন।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গতবারের চেয়ে এ বছর তিন গুণ বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এ বছর নির্ধারিত সময়ে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৪ জন করদাতা নিজেদের আয়-ব্যয়ের খবর জানিয়ে অনলাইনে রিটার্ন দেন। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৮ হাজার ৯০১। এ বছর অনলাইনে রিটার্নকারীদের কাছ থেকে মাত্র ১৫৮ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। কর কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বেশির ভাগই শূন্য রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
এবারের মৌসুমে কিছু খাতে অনলাইনে জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারি কর্মকর্তা, তফসিল ব্যাংক, মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তাদের অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি।
এ বছর সব মিলিয়ে ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫৭ জন করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন। এনবিআর কর পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। গতবারের চেয়ে এবার রিটার্ন জমাকারীর সংখ্যা ১ লাখের মতো কমেছে।
বর্তমানে ১ কোটি ১১ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী আছেন। প্রতিবছর গড়ে ৪০ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে।