Prothomalo:
2025-02-26@08:59:22 GMT

এ যেন বড় এক ‘কুকুরছানা’

Published: 26th, February 2025 GMT

বহমান নদীর পাশে মাটিতে থুতনি ঠেকিয়ে যেন বিশ্রাম নিচ্ছে বিশাল আকৃতির একটি কুকুরছানা। বেড়াতে গিয়ে তোলা ছবি ঘাঁটতে গিয়ে এমন এক দৃশ্য খুঁজে পান গুও শিংসান।

সাংহাইভিত্তিক ডিজাইনার গুও গত মাসের শেষদিকে মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে নিজের শহর ইচাংয়ে বেড়াতে যান। সেখানে তিনি একটি পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন, বেশ কিছু ছবিও তোলেন।

পরে ছবিগুলো ঘাঁটতে গিয়ে একটি ছবিতে যে দৃশ্য দেখতে পান, সেটা তিনি আগে খেয়াল করেননি। ইয়াংসি নদীর পাশে একটি পাহাড়কে দেখে মনে হচ্ছে যেন একটি কুকুর মাটিতে মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ছবিটি পোস্ট করে গুও ক্যাপশনে লেখেন ‘কুকুরছানা পাহাড়’। তাঁর ওই পোস্ট চীনে আলোড়ন তোলে। প্রচুর পর্যটক পাহাড়টি দেখতে যেতে শুরু করেন।

গুও বলেন, ‘এটা দারুণ বিস্ময়কর ও মিষ্টি। এটা আবিষ্কার করতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত ও খুশি হয়েছিলাম। ওই কুকুরছানার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, সেটি পানি পান করছে অথবা মাছের দিকে তাকিয়ে আছে। এটাকে দেখে এমনও মনে হয়েছে যে সেটি নীরবে ইয়াংসি নদী পাহারা দিচ্ছে।’

চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করেন গুও। ১০ দিনে ওই ছবির নিচে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ‘লাইক’ পড়ে। উইবোতে কয়েক লাখ মানুষ ছবিটি দেখেন।

পোষা কুকুর আছে, এমন ব্যক্তিরা নিজেদের কুকুরের ছবি পোস্ট করা শুরু করেন। তাঁরা দেখতে চান, ওই পাহাড়ের সঙ্গে কার কুকুরের মুখ সবচেয়ে বেশি মিলে যায়।

অনেকেই পাহাড়টি নিজের চোখে দেখতে ইচাংয়ে ঘুরতে যান। কেউ কেউ সঙ্গে পোষা কুকুরও নিয়ে যান।

ইচাংয়ের জিগুই কাউন্টিতে পাহাড়টির অবস্থান। পর্যটকদের পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মাচার মতো যেসব জায়গা থাকে, সেখান থেকে ‘কুকুরছানা পাহাড়’ স্পষ্ট দেখা যায়।

চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী ইয়াংসি। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ নদীও বটে। একটি পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে ওই নদী বয়ে গেছে।

গুও ছবি পোস্ট করার পর অনেকে একই মাচা থেকে তোলা ওই পাহাড়ের ছবি পোস্ট করেন। তবে তাঁদের বেশির ভাগই স্বীকার করেন, পাহাড়টি যে একটি কুকুরছানার মুখের মতো দেখতে, সেটা তাঁরা আগে খেয়াল করেননি।

তাঁদের একজন ইচাংয়ের বাসিন্দা সি টং বলেন, তিনি আগেই ওই পাহাড় দেখেছেন এবং পাহাড়ের একই জায়গার একটি ছবিও পোস্ট করেন। ছবিটি ২০২১ সালে তোলা।

সি টং লেখেন, ‘আমি অনলাইনে পাপি মাউন্টেইনের ছবি দেখার পর খুঁজে দেখার চেষ্টা করি, এটি আসলে কোথায়। এবং তারপরই আমি বুঝতে পারি, আরে আমি তো আগেই ওই জায়গায় গিয়েছি। সে সময় আমার কাছেও মনে হয়েছিল যে পাহাড়টি একটি কুকুরের মতো দেখতে।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: প স ট কর

এছাড়াও পড়ুন:

থানায় মামলা করতে না পেরে ফিরলেন ভুক্তভোগীরা

কুষ্টিয়ার খোকসায় মনিরুজ্জামান কাজল নামে উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতার বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধার নির্মাণাধীন টিনের ঘর ভেঙে দেওয়ার পর অপর দুই নারীর মার্কেট ও বাড়ির দেয়াল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়ে থানায় গেলেও প্রতিপক্ষের হুমকিতে মামলা না করেই থানা থেকে ফিরে যান ভুক্তভোগীরা।

ঘটনা নিশ্চিত করে খোকসা থানার ওসি শেখ নাইমুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যরা মামলা করতে থানায় এসেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মামলা না করেই ফিরে গেছেন।

মনিরুজ্জামান কাজল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আনিসুজ্জামান স্বপনের বড় ভাই।

জানা গেছে, কাজল একটি নতুন রাস্তা তৈরি ও অপর একটি রাস্তা প্রশস্ত করার কথা বলে রেলওয়ে থেকে স্ত্রীর নামে ইজারা নেওয়া রফিকুল আলম তালম নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। সোমবার সকালে কাজলের লোকজন প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ইজারাকৃত ১০০ ফুট লম্বা জমি দখল করে নেয়। পরে কাজলের লোকজন দিলরুবা রহমান ও তাঁর বোন আঞ্জুদিলারা বেগম নামে দুই নারীর মার্কেটের বারান্দা ও একটি বসতবাড়ির দেয়াল ভেঙে দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার সকাল থেকে কাজলের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন তরুণ ও যুবক খোকসা রেলস্টেশন এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম তালম, মৃত সাইদুল ইসলামের স্ত্রী দিলরুবা রহমান ও তাঁর বোন আঞ্জুদিলারা বেগমের পরিবারকে ঘরবন্দি করে ফেলে। পরে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের তাণ্ডব থামায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম তালম জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তিনি ও তাঁর অন্য দুই প্রতিবেশী মামলা করতে থানায় গিয়েছিলেন। তারা ওসির সঙ্গে কথা বলে মামলার এজাহার লিখতে একটি কম্পিউটারের দোকানে যান। সেখানে হাজির হন বিএনপি নেতার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে তাঁর এক আত্মীয় ও থানা বিএনপির সাবেক নেতারা দুই দিনের সময় নিয়েছেন। 

অপর ভুক্তভোগী আঞ্জুদিলারা বেগমের ছেলে সাবেক বিজিবি সদস্য দেলোয়ার আজিজ দিলু বলেন, তিনি মামলা করতে থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেতারা দুই দিনের সময় নিয়েছেন। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে মনিরুজ্জামান কাজলের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তিনি কল রিসিভ করলেও কথা বলেনি। তাঁর ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আনিসুজ্জামানের বলেন, তিনি শুনেছেন এলাকার লোকজন রাস্তার জমি ক্লিয়ার করেছে। ওই মুক্তিযোদ্ধা গ্রাম থেকে উঠে আসা একটি রাস্তার মাথায় ঘর তুলে রাস্তা বন্ধ করেছিলেন। রাস্তাটির প্রয়োজনও ছিল। তাঁর ভাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।

সম্পর্কিত নিবন্ধ