পরিবারই আমার স্তম্ভ: বিদ্যা বালান
Published: 26th, February 2025 GMT
বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান ২০০৩ সালে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই একাধিক হিট সিনেমা উপহার দেন। বলিউডের প্রথম সারির এ অভিনেত্রীর যা অর্জন, তা চোখের পলকেই পাননি। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।
কাস্টিং কাউচ থেকে শুরু করে বডি শেমিংয়ের শিকারও হয়েছেন বিদ্যা বালান। স্বাস্থ্য ভালো হওয়ায় শরীর নিয়ে তাকে কটু কথা শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ ক্যারিয়ারের জার্নিটা মোটেও মসৃণ ছিল না। তবে এই সময়ে বিদ্যাকে তার পরিবারের সদস্যরা দারুণভাবে সাপোর্ট করেছেন বলে জানিয়েছেন এই ‘কাহানি’ তারকা।
বিদ্যা বালান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এবং অন্যরাও এটা জানুক যে, আপনি যখন সত্যিকার অর্থেই কিছু চান, তখন মহাবিশ্ব তা বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য করে। সুতরাং মহাবিশ্বকে তার কাজটি করতে দিন। আমাদের সকলেরই স্বপ্ন থাকে, তবে তা নিয়ে ভাববেন না। বরং স্বপ্নপূরণের জন্য কীভাবে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে ভাবুন। স্বপ্নটি ধরে রাখুন, কোনো কিছুই যেন তা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে না পারে।”
অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বিদ্যা বালান। তার ভাষায়, “আমি আমাার ক্যারিয়ারের শুরুতে অসংখ্যবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। আমি কোনো ফিল্মি পরিবার থেকে আসিনি। আমি জানতাম না, কখনো অভিনেত্রী হতে পারব কিনা। কিন্তু একটি জিনিস আমাকে অন্যদিকে পরিচালিত করেছিল। আর সেটা অবশ্যই আমার পরিবার।”
পরিবারই বিদ্যার স্তম্ভ। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার পরিবার খুবই সাপোর্টিভ। আমি মনে করি, এটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবা-মা, বোন, ভগ্নিপতি এবং এখন সিদ্ধার্থ (স্বামী)— আমার স্তম্ভ যার উপরে আমি দাঁড়িয়ে আছি। সুতরাং যারা পরিবারের সমর্থন পাননি, তাদের তুলনায় আমার যাত্রা অনেক সহজ হয়েছে। যে-কোনো দুটো গল্প এক নয়, একইভাবে দুটো ব্যক্তিও এক নয়। সুতরাং আপনার জার্নির অনন্যতাকে উপভোগ করুন। সুপরিচিত পথ খুঁজবেন না; নিজে পথ তৈরি করার চেষ্টা করুন। যদিও এটি কঠিন মনে হতে পারে।”
তথ্যসূত্র: বম্বে টাইমস
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
শুধু রণাঙ্গনের যোদ্ধারাই ‘মুক্তিযোদ্ধা’, বাকিরা সহযোগী: উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম
অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, ১৯৭১ সালে যারা রণাঙ্গনে সরাসরি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন, শুধু তারাই মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পাবেন। এ ছাড়া দেশ ও বিদেশে থেকে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন, কূটনৈতিক তৎপরতা ও অন্যান্য সহযোগিতা করেছেন, তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক-ই-আজম বলেন, বর্তমান প্রচলিত আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি, এমন আট ধরনের ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবর্তন আনার জন্য ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া করে এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। খসড়াটি মার্চের প্রথম সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
সনদধারী অমুক্তিযোদ্ধাদের অপসারণের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনে আমরা কিছু সংশোধন আনতে চাচ্ছি। বড় ধরনের সংশোধন আসবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে।
নতুন আইনের মূল দিকগুলো হলো-
১. রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা: যারা ১৯৭১ সালে সরাসরি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই কেবল ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
২. মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী: জনমত গঠন, কূটনৈতিক সহায়তা, বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী, চিকিৎসা সহায়তাকারী ব্যক্তিদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
৩. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পর্যালোচনা: অতীতে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ যদি নতুন সংজ্ঞার আওতায় না পড়েন, তবে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
৪. বয়সসংক্রান্ত নীতি: মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১২ বছর ৬ মাস। এটি নিয়ে মামলা থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নতুন আইন কার্যকর হবে।
৫. ভুল তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সুযোগ: যারা ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সুবিধা নিয়েছেন, তাদের ২৬ মার্চের মধ্যে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, বর্তমান আইনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সব ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।’ তবে নতুন খসড়ায় এই অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন আইনে কেবল রণাঙ্গনে লড়াই করা ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ উপাধি প্রবর্তন করা হচ্ছে।
বিএইচ