‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে’
Published: 25th, February 2025 GMT
মধ্যরাতে রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় নভো থিয়েটারের সামনে প্রেস ব্রিফিং করে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে সরকার। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।
ছিনতাই নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এ অবস্থা থেকে দ্রুতই উত্তরণ হবে এমন আশার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেছেন, যেসব জায়গায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে এবং যারা ঘটায়, তাদের আটক করার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে বিজয় সরণি এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো.
ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য যদি কেউ চেষ্টা করে, সেটা রাজনৈতিক হোক বা নিতান্তই ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা হোক, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বড় ধরনের অপরাধ কমলেও ছোটখাটো অপরাধ, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সরকার অ্যাড্রেস করছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই সুফল পাওয়া যাবে। ঘটনাগুলো যথাসম্ভব কমে আসবে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, কোনো সোসাইটি (সমাজ) বা কোনো দেশ পাওয়া যাবে না, যেখানে অপরাধ হয় না। অপরাধ থাকবে, সেটাকে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, জনমনে যাতে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেটা দেখা সরকারের দায়িত্ব।
এর আগে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ব্যাপক অভিযান শুরু করেছেন। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করছেন। ঢাকায় মোট ৬৫টি চেকপোস্ট (তল্লাশিচৌকি) বসানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি গত দু–তিন দিন খারাপ হলেও আগে ভালো ছিল। অপরাধ যে কখনো ছিল না, বিষয়টি তা নয়। আগেও অপরাধ হতো তবে এতটা প্রচার হতো না। এখন ছিনতাইয়ের ঘটনা মানুষ প্রতিহত না করে ভিডিও করছে। তিনি সবাইকে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মধ্যরাতের এই ব্রিফিংয়ের আগে গত রোববার দিবাগত রাত তিনটায় নিজের বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সেদিন তিনি বলেছিলেন, সোমবার থেকে যেন কোথাও কোনো অপরাধ না ঘটে, তাঁরা সে ব্যবস্থা নেবেন। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এই নির্দেশনা কার্যকর না করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও উন্নত হবে। অবনতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
অবশ্য মঙ্গলবার রাতেই রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করার পর পায়ে দড়ি বেঁধে তাঁদের উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে উত্তরা থেকে কিছু দূরে গাজীপুরের টঙ্গীতে গতকাল রাতে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স থ ন য় সরক র উপদ ষ ট পর স থ ত অপর ধ
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদযাত্রা: সদরঘাটে চিরচেনা ভিড়
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী সোম কিংবা মঙ্গলবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। ঈদের আনন্দ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকেই। যারা ঢাকা থেকে নৌপথে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চান, তাদের বেশিরভাগের প্রথম গন্তব্য সদরঘাট নৌ টার্মিনাল। এখান থেকেই লঞ্চে করে যাত্রা করেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের উদ্দেশে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে সেই চেনা দৃশ্য—যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। নৌপথে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লঞ্চে প্রবেশমুখে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার সদস্যরা।
ঈদযাত্রা নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা বাড়তি যাত্রী নিলেই বাতিল করা হবে লঞ্চের লাইসেন্স।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৫০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনাল ছেড়ে যাবে। দুপুরের মধ্যে বেশকিছু লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে চলে গেছে।
টার্মিনালে দেখা গেছে, পন্টুনে নোঙর করা লঞ্চগুলোর সামনে কর্মচারীরা যাত্রীদের ডাকছেন। যাত্রীদের চাপও অনেক। লঞ্চের ডেকে যাত্রীরা বসে আছেন। কেবিনের টিকিট আগেই বুকিং হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়েই লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।
এমভি সুরভী-৭ লঞ্চের সামনে কথা হয় রাজ্জাক হোসেন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করব। রাস্তায় যানজট হতে পারে, তাই আগেভাগেই বাসা থেকে চলে এলাম। চাহিদা বেশি থাকলেও কেবিন কম। আমাদের কেবিন বুকিং করা ছিল। লঞ্চের যাত্রায় কোনো কষ্ট নেই। তাই, বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে প্রতিবছরই লঞ্চে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে যাই। যারা এখন আসছেন, তারা ডেকে বসে যাবেন।”
বরগুনাগামী এমভি সুন্দরবন-৯ লঞ্চে কথা হয় আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, চার বছর আগে ঈদের সময় লঞ্চে জায়গা পাওয়া যেত না। অনেক সময় ছাদে ঝুঁকি নিয়ে যেতে হতো। আজ আগের মতো ভিড় না থাকলে যাত্রীর চাপ আছে মোটামুটি। লঞ্চ বলা হলেও এটা বিরাট একটা জাহাজ। হাজার হাজার লোক উঠলেও বোঝা যায় না। ডেকে শুয়ে-বসে যাওয়া যায়। বাসে ভ্রমণ করলে আমার পা ব্যথা করে। এ কারণে বাসে আমি যাই না।”
এমভি জামাল-৮ লঞ্চের যাত্রী আলেয়া বেগম বলেন, “আমি পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় যাব। লঞ্চ ছাড়বে সন্ধ্যা ৭টায়। রাস্তায় জ্যাম হতে পারে, তাই আগেভাগে বাসা থেকে বের হয়ে চলে এসেছি। লঞ্চের যাত্রা আরামদায়ক। এবার আরামে বাড়ি যেতে পারব।”
এমভি সুন্দরবন-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার কালাম হোসেন বলেন, “আমাদের লঞ্চে ৮০টি কেবিন আছে। ইতোমধ্যে সব বুকিং হয়ে গেছে। যাত্রীর চাপ ভালোই আছে।”
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সদস্য ও এমভি অভিযান লঞ্চের মালিক হামজা লাল শেখ বলেন, আজ যাত্রীর চাপ আছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুরভি শিপিং লাইনস কোম্পানির পরিচালক রেজিন উল কবির বলেন, ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশালে বিশেষ সার্ভিস শুরু হয়েছে। যাত্রী পরিবহনে বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি চলাচল করছে ২৬টি লঞ্চ। ২৫ মার্চ শুরু হয়েছে ঈদের বিশেষ সার্ভিস। ২৬টি লঞ্চ তিন ভাগে ভাগ হয়ে ঈদে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করছে। বরিশাল ও ঢাকার কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা আছে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন বলেছেন, নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার জন্য বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও হয়রানি বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে পন্টুন থেকে লঞ্চ ছাড়ছে। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
ঢাকা/এএএম/রফিক