বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষে আহত ১০, উত্তেজনা
Published: 25th, February 2025 GMT
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে এ ঘটনার জেরে দু’পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার দিনভর মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরকে ঘায়েল করতে নানা তৎপরতা চালিয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার বিকেলে শহরের থানারপুল এলাকায় মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মেহেদী হাসান (২৬) ও অপু খানকে (১৯) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত নাদিম (১৭), আরিফুজ্জামান (৩৭), উজ্জল (৪৫), মাসুদ মিয়া (২০), মনির হোসেন (৫৮) ও জসিম উদ্দিনসহ (৫২) অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা বিএনপি সমাবেশের আয়োজন করে। এ সমাবেশে যোগ দিতে এসে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সংঘর্ষের ঘটনার প্রভাব মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এর জেরে ইউনিয়ন বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, জেলা বিএনপির সমাবেশে যোগ দিতে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে যায়। মিছিলটি সমাবেশস্থলের অদূরে থানারপুল এলাকায় এলে একই ইউনিয়নের প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা রহিম মোল্লার নেতৃত্বে আসা মিছিলটি মুখোমুখি হয়। এ সময় দু’পক্ষের নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
বিএনপিকর্মী আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, তাদের মিছিলের সামনে রহিমের লোকজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় রহিমের লোকজন মিছিলে হামলা চালিয়ে মারধর করে।
বিএনপি নেতা রহিম মোল্লার দাবি, আওলাদের লোকজন নিজেরাই মারামারি করেছে। এ সময় এগিয়ে গেলে তাঁর লোকজনকেও মারধর
করে তারা।
সদর থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, সমাবেশে যাওয়ার পথে একাধিক স্থানে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যেও মারামারি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স মব র ব ক ল র ন ত কর ম ন ত কর ম র ব এনপ র দ স ঘর ষ
এছাড়াও পড়ুন:
১২ লাখ রুপি জরিমানা পান্ডিয়ার, আবার কি নিষিদ্ধ হবেন
হার্দিক পান্ডিয়া অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। দলের বাজে অবস্থায় অধিনায়কের এমনিতেই দিশাহারা অবস্থা হওয়ার কথা, এর মধ্যে আবার পান্ডিয়া পেয়েছেন আরও একটা দুঃসংবাদ। মুম্বাইয়ের মন্থর ওভার রেটের কারণে ১২ লাখ রুপি জরিমানা গুনতে হয়েছে তাঁকে।
এবারের মৌসুমের মুম্বাইয়ের প্রথম ম্যাচ ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে; ওই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি পান্ডিয়া। গত মৌসুমের শেষ ম্যাচে মন্থর ওভার রেটের কারণে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন মুম্বাই অধিনায়ক, যেটা কার্যকর হয়েছে এই মৌসুমের প্রথম ম্যাচে। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরু করেছিলেন পান্ডিয়া।
তাতে দল তো ৩৬ রানে হেরেছেই, জরিমানা গুনতে হচ্ছে পান্ডিয়াকেও। আবারও তাঁর দল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারায় ১২ লাখ রুপি ম্যাচ ফি জরিমানা দিতে হবে তাঁকে।
আবার কি নিষিদ্ধ হবেন পান্ডিয়া
গত মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস মোট তিনটি ম্যাচে মন্থর ওভার রেটে বোলিং করেছিল। যে কারণে বড় শাস্তি পেতে হয়েছিল পান্ডিয়াকে—এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে গুনতে হয়েছিল ৩০ লাখ রুপি জরিমানা। এবার অবশ্য মন্থর ওভার রেটের এই শাস্তির নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে বিসিসিআই। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচে মন্থর ওভার রেটের কারণে একটি করে ডিমোরিট পয়েন্ট পাবেন অধিনায়কেরা।
সঙ্গে ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা। তবে তাঁদের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, তাঁর সেই সিদ্ধান্ত থাকছে ম্যাচ রেফারিদের হাতে। একই মৌসুমে কোনো অধিনায়ক চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে ম্যাচ রেফারি তাঁকে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন বা জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে পারবেন আরও। প্রতিটি ডিমেরিট পয়েন্ট তিন বছর পর্যন্ত থাকবে অধিনায়কদের নামের পাশে।
রোহিত শর্মাকে সরিয়ে পান্ডিয়াকে অধিনায়ক করার পর গত মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে আইপিএল শেষ করেছিল মুম্বাই। এবারও প্রথম দুই ম্যাচে কোনো জয় পায়নি তারা।