নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে হত্যা মামলা করে বিপদে পড়েছেন বাদী ও সাক্ষীরা। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে তাদের। রাজি না হওয়ায় তাদের ১২০ বিঘা জমিতে ফসল আবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এখানেই ক্ষ্যান্ত হয়নি আসামিরা। তারা বাদীসহ ৯ কৃষক পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। 
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে  সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলকের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নাটোর শহর কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল প্রামাণিক, তাঁর ভাই সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম ও সেন্টু মোল্লা সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সমর্থক। ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে রেজাউল সরদার পলকের সমর্থক। ২০১৬ সালের ১৩ জুন পলকের সমর্থক রেজাউলকে লোহার ফালা ও শাবল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাইফুল প্রামাণিক ও তার লোজন। এই ঘটনায় নিহত কৃষকের বাবা রহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা চলমান অবস্থায় রহিদুল ইসলামের মৃত্যু হলে বাদী নিযুক্ত হন তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগম। সামনেই মামলার রায় হওয়ার কথা। 
পাঁচ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পলকের সমর্থকরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এ সুযোগে সাইফুল প্রামাণিকের লোকজন মামলার বাদী হামিদা বেগম ও তাঁর পক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এ জন্য তারা ৯ লাখ টাকা দেবে বলেও জানায় বাদীকে। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গ্রামছাড়া করে বাদী-সাক্ষীসহ ৯ পরিবারকে। তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুত ১২০ বিঘা জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেচ মোটর ও ইট নষ্ট করে দেওয়া হয়। 
মামলার বাদী হামিদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে ২০ জন আহত হয়। এখন মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। হামলা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেছে। নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না। সব কিছু হারিয়ে আমরা অসহায়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না। 
ভুক্তভোগী কৃষক বিপ্লব সরদার জানান, তাদের ছয় পরিবারের ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে হালচাষ করা হয়েছিল। সেখানে ধান রোপণ করতে দেওয়া হয়নি। মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একইভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে কৃষক শাহীন সারোয়ার ও দেলোয়ার হোসেনকে। তাদেরও ৪০ বিঘা জমি পতিত পড়ে আছে। চাষাবাদ করতে না পারলে পরিবার নিয়ে তারাও বিপাকে পড়বেন। 
ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম ও খুকি মনি বলেন, আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষকরা এখনও তাদের পোষা সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। তারা এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চান।
কৃষক লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। মামলা নিয়ে বিরোধ থাকলেও কাউকে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হয়নি। হত্যা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মামলার বিরোধকে পুঁজি করে অন্য কোনো পক্ষ তাদের চাষাবাদে বাধা দিয়ে থাকতে পারে। 
আরেক আসামি সেন্টু মোল্লা বলেন, অভিযোগকারীরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আওয়ামী সরকারের পতনের পর তারা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
এ বিষয়ে গ্রাম্য প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, দু’পক্ষই আওয়ামী লীগ। এক পক্ষ সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক সমর্থিত, অন্যপক্ষ শফিকুল ইসলাম সমর্থিত। আসামিরা পলাতক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে লুটপাট চালায় বাদীপক্ষ। উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসা হলেও আপস করা সম্ভব হয়নি। পলক গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গেলে তার সমর্থকরা এখন গ্রামছাড়া। কে ভালো, কে মন্দ ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। 
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, ইউএনওর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১২০ বিঘা 
জমি পতিত থাকার সত্যতা মিলেছে। এতে 
আড়াই হাজার মণ ধান কম উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা। একটি হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এত বড় ক্ষতি কাম্য নয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: কর মকর ত ল ইসল ম পর ব র আওয় ম সমর থ

এছাড়াও পড়ুন:

চট্টগ্রামে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আড়াই লাখ ভবন

দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার অন্যতম বন্দর নগর চট্টগ্রাম। মিয়ানমারের মতো বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এই অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম নগরে থাকা ৩ লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ভবন কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন-বিধি না মানা, নকশা না মেনে ভবন করা এবং গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণ উপকরণসামগ্রী ব্যবহার না করার কারণে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যত কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই বলেও দাবি তাঁদের।

বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দাবি, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তদারকি সংস্থা হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) যে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল, তাতে যথেষ্ট গাফিলতি ও ঘাটতি ছিল। সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি সংস্থাটি। এই কারণে পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। লোকবল–সংকটের কারণে ভবন নির্মাণের তদারকিতে ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করেছেন সিডিএর কর্মকর্তারা। তাঁরাও শঙ্কা করছেন, ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে চট্টগ্রামের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভবন হয় ধসে পড়বে, না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভূমিকম্পে চট্টগ্রামের ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে গত শুক্রবার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার পর। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বড় শহর মান্দালয় থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের ১২ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি পরাঘাত (আফটার শক) হয়। ভূমিকম্পে শুধু মিয়ানমারে নিহত মানুষের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভবন ধসে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ৬ দশমিক ৯৯ মাত্রার ভূমিকম্পে নগরে ১২টি ভবন হেলে পড়েছিল। এর আগে ১৯৯৭ সালের ২১ নভেম্বর ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম নগরে পাঁচতলা ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।

ঝুঁকিতে আড়াই লাখের বেশি ভবন

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একতলা ভবন রয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫টি। ২ থেকে ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন রয়েছে ৯০ হাজার ৪৪৪টি। ৬ থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৩৫। ১০তলার ওপরে ভবন রয়েছে ৫২৭টি। নগরে এখন ২০তলার বেশি ভবন রয়েছে ১০টি। এই বিপুলসংখ্যক ভবন নির্মাণ করা হলেও এগুলোর অধিকাংশই ইমারত বিধিমালা মানেনি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার মিয়ানমারে যে মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, তা যদি এখানে হয়, তাহলে ৭০ শতাংশ ভবন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের হিসেবে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ভবন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভবন ও স্থাপনাগুলো ভূমিকম্পে কী ধরনের ঝুঁকিতে আছে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো জরিপ পরিচালনা করা হয়নি। তবে ২০০৯ থেকে ২০১১ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিকম্পে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে জরিপ করেছিল। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) আওতায় ঢাকা ও সিলেটের পাশাপাশি চট্টগ্রামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ভবন ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার (মূলত একতলার ঊর্ধ্বে ভবনগুলোকে জরিপের আওতায় আনা হয়েছিল)। এর মধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রাখা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৫০টি ভবন, যা মোট ভবনের ৯২ শতাংশ। বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়নি। জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ওই জরিপে চট্টগ্রাম অংশের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে। চট্টগ্রাম নগরে যেসব ভবন রয়েছে, তার মধ্যে ৭০ ভাগই ৭ মাত্রার চেয়ে বেশি ভূমিকম্প হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা এসব ভবন ইমারত বিধিমালা বা জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে হয়নি। ভবনগুলোতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা নেই। সিডিএও কোনো ধরনের তদারকি করেনি। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এগুলোর বেশির ভাগ পুরোপুরি ধসে পড়বে, কিছু আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে প্রচুর মানুষ হতাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে তার শক্তি বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

এ ধরনের বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য এখানে কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এককথায় ভূমিকম্প–পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন, সিডিএ—কারও কোনো ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নেই। উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই। আবার অনেক ভবন নির্মিত হয়েছে ঘিঞ্জি এলাকায়। কোথাও কোথাও গলিগুলো এমন সরু সেখানে উদ্ধারকারী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। থাইল্যান্ডের মতো দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এখানকার অবস্থা কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের সময় ৮টি স্তরে অনুমোদন নিতে হয় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। এগুলো হলো ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, নির্মাণকাজ শুরু অবহিতকরণ ও কারিগরি ব্যক্তিদের সম্মতিপত্র, ভবনের প্লিন্থস্তুর (ভিত্তি স্তম্ভ) পর্যন্ত কাজ সম্পর্কে কারিগরি ব্যক্তিদের প্রতিবেদন, ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্তি অবহিতকরণপত্র, কারিগরি ব্যক্তিদের প্রত্যয়নপত্র, ব্যবহার সনদ ও পাঁচ বছর পর ব্যবহার সনদ নবায়ন। কিন্তু চট্টগ্রামে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ভবনের নকশা অনুমোদন নিলেও অনুমোদনের পরের ধাপগুলো অনুমোদন নিতে তোয়াক্কা করেন না মালিকেরা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভূমিকম্প–পরবর্তী সময়ে উদ্ধার তৎপরতায় যেসব নির্দেশনা অনুসরণের নীতিমালা আছে, তা ফায়ার সার্ভিস অনুসরণ করতে প্রস্তুত। আর নগরে যেসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, এগুলোর অধিকাংশ নিয়মনীতি না মেনে গড়ে উঠেছে। এতে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণে সিডিএর তদারকি যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। আবার সংস্থাটি এমন সব জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে, সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও কঠিন।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। তবে এখন নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রথম আলোকে বলেন, ১ থেকে ১০তলা ভবনগুলো নিজেরা যাচাই করছেন। ১০তলার ওপরের ভবনগুলো বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ভূমিকম্প–বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তাই এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। জনগণকে ব্যাপকভাবে সচেতন করে তোলার বিকল্প নেই। মানুষকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। আর দরকার নিয়মিত মহড়ার ব্যবস্থা করা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ