Samakal:
2025-03-28@21:18:30 GMT

বিশ্বমঞ্চে দেশের উদ্যোক্তা

Published: 25th, February 2025 GMT

বিশ্বমঞ্চে দেশের উদ্যোক্তা

বাংলাদেশের বহুজাতিক আইটি পরিষেবায় জড়িত রিভ সিস্টেমস মার্চের প্রথম সপ্তাহে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠেয় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে (এমডব্লিউসি) অংশগ্রহণ করবে। টেলিকম প্রযুক্তির বিশেষ আয়োজনে তারা এআই ও টেলিকম সফটওয়্যার পণ্য প্রদর্শন করবে বলে জানায়।
রিভ গ্রুপের সিইও এম রেজাউল হাসান বলেন, কংগ্রেসে নতুন সংযোজিত সবকটি প্রযুক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছি। নিজেদের উদ্ভাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেলিকম পরিষেবা বা পণ্য অপারেটরদের টেলিযোগাযোগ সেবা ও গ্রাহকসেবা খাতের উন্নয়নে সহায়ক শক্তি হবে।
রিভ সিস্টেমসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সৌদি টেলিকম কুয়েতের (এসটিসি কুয়েত) সঙ্গে সফল প্রকল্পের প্রসঙ্গে বলেন, এসটিসি কুয়েতের জন্য রিভ এআই পরিচালিত চ্যাটবট ও লাইভ চ্যাট সল্যুশন দিয়েছে, যা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, কয়েকটি ভাষায় গ্রাহকসেবা ও কিছু ডিজিটাল বা সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈশ্বিক টেলিকম অপারেটর রিভ সল্যুশনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে রিভ সিস্টেমের চ্যাটবট ও লাইভচ্যাট ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে বিকাশ ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স অনতম।
ই-কমার্স খাতের জন্য রিভ উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি ‘ভার্চুয়াল  ট্রায়াল  রুম’ উন্মোচন করে, যা গ্রাহককে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অগমেন্টেড রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা দেবে। ফলে গ্রাহক পণ্য কেনার আগেই ভার্চুয়ালি তা দেখার সুযোগ পাবেন।
‘ভার্চুয়াল  ট্রায়াল  রুম’ ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল অভিজ্ঞতায় গ্রাহককে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে। অন্যদিকে, অনলাইন কেনাকাটাকে উৎসাহিত করবে বলে উদ্যোক্তারা জানান। টেলিকম খাতের জন্য রিভ তার সবকটি সল্যুশন প্রদর্শন করবে, যা অপারেটরদের জন্য নতুন আয়ের খাত তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সুদানের মোবাইল অপারেটর কানার রিভের ভার্চুয়াল রোমিং সল্যুশন গ্রহণে সমঝোতা করেছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র জন য ট ল কম

এছাড়াও পড়ুন:

রমজানে শেষ নয় রোজা

রাসুল (সা.) রমজান চলে যাওয়ার পরও সাহাবিদের রোজা পালন অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। অর্থাৎ, রোজা শুধু রমজানের ইবাদত নয়। রমজানের রোজা তো ফরজ, বাকি সারা বছর আরও রোজা আছে সেগুলো সুন্নত।

বছরের অন্যান্য সময়ের রোজা

রাসুল (সা.) অধিক পরিমাণে নফল রোজা পালন করতেন। রোজার জন্য নিষিদ্ধ পাঁচ দিন ছাড়া বছরের যেকোনো সময় নফল রোজা রাখা যায়। তবে নির্দিষ্ট কিছু কিছু সময়ের রোজা সাধারণ নফল রোজার থেকে বেশি ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) গুরুত্বসহকারে সেই রোজাগুলো পালন করতেন। তিনি আরও যেসব নফল রোজা পালন করতেন তা হলো :

১. শাওয়াল মাসের রোজা : নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে অত:পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে সে যেন গোটা বছর রোজা রাখে। ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৪৩৩

২. আরাফা দিবসের রোজা : জিলহজ মাসের নয় তারিখে—যাকে আরাফা দিবস বলা হয়—রোজা রাখা সম্পর্কে নবীজিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন : আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের পাপের কাফফারা হবে। (মুসলিম, হাদিস: ২,৮০৩)

তবে যারা হজ পালন করছেন, তারা এ দিন রোজা রাখবে না।

আরও পড়ুনউয়ায়েস করনির কাহিনি০৮ মার্চ ২০২৫

৩. মহররম মাসের রোজা : রাসুল (সা.) বলেন, রমজান মাসের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হল রাতের নামাজ। (মুসলিম, হাদিস: ২,৮১২)

৪. আশুরার রোজা : আশুরা অর্থাৎ, মহররমের ১০ তারিখ উপলক্ষে রোজা সম্পর্কে নবীজিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, তা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা। (মুসলিম, হাদিস: ২,৮০৪; তিরমিজি, হাদিস: ২,৮০৯)

তবে রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা আশুরা দিবসে রোজা পালন কর এবং তাতে ইহুদিদের বিরোধিতা কর। তোমরা আশুরার একদিন পূর্বে অথবা একদিন পরে (যুক্ত করে) রোজা পালন করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২,১৫৪)

৫. শাবান মাসের রোজা : আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে শাবান মাস ব্যতীত অন্য মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতে দেখি নি। (বুখারি, হাদিস: ১,৯৬৯)

৬. প্রতি মাসে ৩ দিন রোজা রাখা : প্রতি চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখা নবীজির (সা.) আমল ছিল। এই তিন দিনকে হাদিসের পরিভাষায় ‘আইয়ামুল বিয’ বলা হয়। আইয়ামে বিযের রোজা সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) সফরে ও শহরে কোনও অবস্থাতেই এ-রোজা ত্যাগ করতেন না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ২,৩৪৫)

আরও পড়ুনযে সাহাবির মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল ০৮ মার্চ ২০২৫

রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে রোজা পালন পূর্ণ বছর রোজা পালনের সমান।’ (মুসলিম, হাদিস: ২,৮০৪)

৭. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা : সপ্তাহের এই দু’দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—রোজা পালন করা সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর সমীপে উপস্থাপন করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমলের উপস্থাপন হবে তখন আমি রোজা অবস্থায় থাকব।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৫)

৮. একদিন পর পর রোজা পালন : ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে (নফল রোজার মধ্যে) সবচে’ প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন ভাঙতেন। (মুসলিম, হাদিস: ১,১৫৯)

রমজানের পরে রোজা আদায়কারীর কাছে প্রত্যাশা থাকে, রমজানের শিক্ষা থেকে সে আরও বেশি করে রোজার ইবাদত পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহর আনুগত্য প্রদর্শন করবে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) এমনভাবে নফল রোজা পালন করতেন যে আমরা ধরে নিতাম তিনি আর বিরতি দেবেন না। আবার এমনভাবে রোজা পরিত্যাগ করতেন যে আমরা মনে করতাম তিনি আর রোজা পালন করবেন না। (বুখারি, হাদিস: ১,৯৬৯)

আরও পড়ুনশয়তানের ধোঁকার কাহিনি০৭ মার্চ ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ