ঘরের নন্দন বাড়াতে অ্যাকুয়ারিয়ামের জুড়ি নেই। বিশেষ করে বসার ঘরের এক পাশের স্বচ্ছ কাচের ভেতর যদি লাল-নীল-সোনালি রঙের মাছ খেলা করে, তাহলে এক নিমেষেই মন ভালো হয়ে যায়। এ ছাড়া সুন্দর ঘর, নান্দনিক শোপিস– সবকিছুই ব্যক্তির রুচিশীলতার পরিচায়ক। যারা নতুন ফ্ল্যাট সাজাতে অ্যাকুয়ারিয়াম কেনার কথা ভাবছেন, তারা আগে থেকে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। কেননা শুধু অ্যাকুয়ারিয়াম কিনলেই হবে না, এটি কোথায় রাখবেন, কীভাবে সাজাবেন, কোন কোন মাছ রাখবেন এসব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
এটি কেনার আগে ঘরের মাপের দিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের মাপের সঙ্গে বেশি বড় কিংবা বেশি ছোট অ্যাকুয়ারিয়াম বেমানান লাগবে। ঘরের মাপ যদি ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট হয়, তাহলে ২ ফুট বাই ১ ফুট বা ২.
কোথায় বসাবেন আপনার পছন্দের অ্যাকুয়ারিয়াম, তা আগেই ঠিক করুন। বসার ঘর, খাওয়ার ঘর নাকি শোবার ঘর– যেখানে রাখলে আপনার মনোরঞ্জন হয়, সেখানে রাখুন। সবার নজর কাড়ার জন্য বসার ঘর অথবা খাবারের ঘরের একপাশে রাখতে পারেন। চাইলে দেয়ালজুড়েও এটি সেট করে নিতে পারেন।
জানালার সামনে কিংবা বারান্দার খোলা জায়গায় অ্যাকুয়ারিয়াম রাখবেন না। এতে রোদের তাপ মাছের ক্ষতি করতে পারে। আবার শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়াতেও অ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
গোল্ডফিশ, ওরেন্টা গোল্ড, গাপটি, অ্যাঞ্জেল, টাইগার শার্ক, সিল্কি কই, ফ্লাওয়ার হর্ন ফিশ, কমেট, কইকার্ভ, মলি প্রভৃতি বর্ণিল মাছ রাখার পরামর্শ দেন অনলাইন পেজ ফিশ অ্যাকুরিয়াম বিডির স্বত্বাধিকারী তানভীর ইসলাম রাজীব।
অ্যাকুরিয়ামের বিভিন্ন দোকান থেকে কাচের গোলাকৃতি, ডিম্বাকৃতি, আয়তাকৃতির জার, গ্লাস ও স্ট্যান্ড কিনে নিতে পারেন। কাচের পুরুত্ব দেখে কিনুন। যদি বড় অ্যাকুরিয়াম কেনেন, তাহলে পুরু কাচের কিনুন।
এটি সাজানোর জন্য বিভিন্ন রং-বেরঙের পাথর, বালি, কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক গাছ ব্যবহার করতে পারেন। সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ যেমন জাভা ফার্ন, অ্যামাজন সোর্ড, ওয়াটার উইসটেরিয়া ইত্যাদিও কিনতে পারেন। এগুলো কেবল সৌন্দর্যই বাড়াবে না, ভেতরের পরিবেশ, অক্সিজেন, কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রেখে বাস্তুতন্ত্র ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
অ্যাকুরিয়ামের জন্য এনার্জি সেভিং বাল্ব, হ্যালোজেন বাল্ব কিনতে পারেন। হালকা বেগুনি আলোতে মাছের রং আরও উজ্জ্বল ও স্পষ্ট দেখায়। এ ছাড়া ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটার, থার্মোমিটার বেছে নিতে পারেন। কেননা বেশি গরম কিংবা ঠান্ডা পানিতে মাছ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেঘলা দিনে কিংবা শীতকালে পানির তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ওয়াটার হিটার কার্যকরী। বাজার থেকে অটো ওয়াটার হিটার কিনে নিন।
নান্দনিক অ্যাকুরিয়ামে কেবল মাছ রাখলেই হবে না, সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পরিবর্তন করতে হবে। অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। মাছকে খাবারও দিতে হবে বুঝেশুনে। অতিরিক্ত খাবার দিলে মাছ মারাও যেতে পারে। v
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
পবিত্র রমজানের শিক্ষা বিস্তৃত হোক জীবনব্যাপী
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো সালাত বা নামাজ। ইমানের পরেই নামাজ। পবিত্র রমজান মাস হলো নামাজের মাস, যেমন তারাবিহর নামাজ ও কিয়ামুল লাইল নামাজের পাশাপাশি পবিত্র রমজানে সাহ্রির বদৌলতে তাহাজ্জুদ নামাজের অভ্যাস গড়া সহজ হয়; এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। ফজরের নামাজ আগেভাগে পড়ে ঘুমানোর কারণে সকালে ইশরাক নামাজ পড়ার সুবিধা হয়।
পবিত্র রমজানের কারণে কাজের চাপ কম থাকায় চাশত নামাজ ও জোহরের আগে আওয়াবিন নামাজ আদায়ের সুযোগ হয়। বিকেলে অফিস বা কর্মস্থল থেকে আগে ফেরার কারণে আসরের নামাজ জামাতে পড়া যায়। একসঙ্গে ইফতার করার সুবাদে মাগরিবের নামাজের জামাতও পাওয়া যায়। অন্যান্য নফল নামাজও বেশি পড়া হয়। পবিত্র রমজানেই নামাজের পূর্ণতা আসে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভ হলো জাকাত। সাহাবায়ে কিরাম পবিত্র রমজানেই জাকাত প্রদান করতেন। পবিত্র রমজানে জাকাত প্রদানে চান্দ্রবর্ষের হিসাব অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করা সহজ হয়।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ হলো হজ। পবিত্র রমজানে ওমরাহ পালন করলে নবীজি (সা.)–এর সঙ্গে হজ করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের পঞ্চম স্তম্ভ হলো সিয়াম বা রোজা। রোজা হলো পবিত্র রমজানের প্রধান অনুষঙ্গ। আগুন যেমন সোনাকে বিশুদ্ধ করে, তেমনি রোজা ইমানদারের কামনা–বাসনাকে দহন করে তাঁকে খাঁটি বান্দায় পরিণত করে।
রোজার ফিদইয়া পবিত্র রমজানেরই অংশ। রোজা একটি শারীরিক ও মানসিক ইবাদত। কিন্তু অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তির জন্য কাজার পাশাপাশি অপারগতায় ফিদইয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা আর্থিক ইবাদত। এতে বোঝা যায় রোজার পরিধি কত ব্যাপক।
রোজার কাফফারা পবিত্র রমজানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রোজা শারীরিক ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও দুর্বলচিত্তের ব্যক্তি যদি রোজা ভঙ্গ করেন, তবে তাঁর জন্য কাফফারার বিধান রয়েছে। এটি হলো দাস মুক্তি দেওয়া অথবা ৬০ জন গরিবকে দুই বেলা পরিপূর্ণ আহার করানো অথবা একাধারে ৬০টি রোজা রাখা। অর্থাৎ যদি কেউ রমজান মাসের একটি রোজা ভঙ্গ করেন, তবে তাঁকে ৬০ দিনের রোজা রাখতে হবে অথবা কাফফারা আদায় করতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দান–খয়রাত ও সমাজকল্যাণই পবিত্র রমজানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হয়। দাতা ও গ্রহীতার সুবিধার্থে পবিত্র রমজানেও এটি প্রদান করা যায়। ঈদের সঙ্গে ফিতরার সম্পৃক্ততার কারণে এর নাম হয়েছে ঈদুল ফিতর। সদকাতুল ফিতর হলো ঈদের আনন্দ সর্বজনীন করার উপায়। ধনী–গরিব সবাই যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে জন্য এই ব্যবস্থা। সদকাতুল ফিতর পবিত্র রমজানে রোজা পালনের শুকরিয়াস্বরূপ এবং এটি রোজাকে পূর্ণতা দেয়।
পবিত্র রমজানের বিশেষ উপহার হলো ইতিকাফ। মানবজীবনে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো ইতিকাফ। পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। এখান থেকেও পবিত্র রমজানের মহিমা বোঝা যায়। এক দশকের কম সময়ের ইতিকাফ নফল হলেও এই ইতিকাফ অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি ফজিলতের। ইতিকাফ বছরের যেকোনো সময় করা যায়, তবে সর্বনিম্ন সীমা হলো এক দিন অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগে থেকে পরের দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
পবিত্র রমজানের অনন্য উপহার হলো শবে কদর। এটি এমন এক রাত, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। হাজার মাস মানে প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস, যা একটি মানবজীবনের সময়ের সমান। সুতরাং পবিত্র রমজানের সুফল জীবনব্যাপী।
● মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম
[email protected]