সাঁড়াশি অভিযানে ঢাকায় ২৪৮ জন আর ডেভিল হান্টে ৬৩৯ জন গ্রেপ্তার
Published: 25th, February 2025 GMT
চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৫৪টি তল্লাশিচৌকি পরিচালনার পাশাপাশি ৫০০টি টহল দল দায়িত্ব পালন করেছে। আজ মঙ্গলবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে’ সারা দেশে ৬৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৮৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীতে গ্রেপ্তার করা ২৪৮ জনের মধ্যে রয়েছে ১৪ জন ডাকাত, ১৬ জন পেশাদার ছিনতাইকারী, ৭ জন চাঁদাবাজ, ১১ জন চোর, ২২ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি, ৪৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি ছুরি, চারটি চাকু, একটি প্লায়ার্স, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি লোহার শাবল, একটি চাপাতি, একটি দা ও দুটি রড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪৯ কেজি ৮৭০ গ্রাম গাঁজা ও ৭০৪টি ইয়াবা। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব ঘটনায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মোট ৫৯টি মামলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় জননিরাপত্তা বিধানে ডিএমপির ৫০০টি টহল দল দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি পুলিশ ৫৪টি তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করে। এ ছাড়া মহানগরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাতটি, অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) চারটি এবং র্যাবের ১০টি টহল দল দায়িত্ব পালন করে। আর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এপিবিএন রাজধানীতে ৩১টি নিরাপত্তাচৌকি পরিচালনা করে।
রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.
অপারেশন ডেভিল হান্ট
আজ সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, গতকাল বিকেল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত অপারেশন ডেভিল হান্টে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক, পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন, শটগানের একটি গুলি, একটি ধারালো চাপাতি, একটি ধারালো বঁটি ও দুটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ সময় যৌথ বাহিনী বিভিন্ন মামলায় ৯৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ র প ত র কর ড এমপ র গতক ল
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের বাড়িতে যাওয়ার আগে রোজার বিধান মনে রাখুন
আপনার বাড়ি যদি ৪৮ মাইল বা ৭২ কিলোমিটার দূরে হয়, তাহলে ভ্রমণ শুরু করামাত্রই আপনি একজন মুসাফির। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ সফর করা এবং যারা সবসময় সফরে থাকে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখা বৈধ। তবে যদি আপনি দিনের আলো থাকতেই বাড়িতে পৌঁছে থাকেন, তাহলে বাকি অংশ না খেয়ে থাকবেন এবং পরে সময়ে রোজাটির কাজা আদায় করে নেবেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯,৪৩৬-৯,৪৩৮)
ঈদের আগে যদি গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে কোনও দূরদেশে ভ্রমণে যান, যার দূরত্ব ৪৮ মাইল বা ৭২ কিলোমিটারের বেশি এবং যতি ১৫ দিনের কম সময় থাকেন, তাহলে পুরো দিনগুলোতেই চাইলে রোজা না রেখে থাকতে পারেন। পরবর্তী সময় রোজাগুলো সুবিধামতো আদায় করে নিলেই হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২০৬)
আরও পড়ুনইতিকাফ অবস্থায় কী করা যায়, করা যায় না২১ মার্চ ২০২৫মনে রাখতে হবে
১. সফর করার অবস্থায় নিয়ত করে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভাঙা বৈধ নয়। কেউ শুধু শুধু ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৩১)
২. যে ব্যক্তি সাহরি খেয়েছেন, তিনি সফরে বের হবেন, কেবল এমন ইচ্ছা করেই খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। বরং পথে যাত্রার সূচনা করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২০৬)
৩. দিনের বেলায় যদি সফর শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেদিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। আর পরে এ রোজার কাজা করে নেবেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯,৪৩৬-৯,৪৩৮)
আরও পড়ুনরমজান দোয়া কবুলের মাস২২ মার্চ ২০২৫