নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সঙ্গে ইবনে সিনা ট্রাস্টের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নোবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। এ সময় নোবিপ্রবির পক্ষে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজীদ হোছাইন চৌধুরী এবং ইবনে সিনা ট্রাস্টের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির এজিএম ও হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম শিবলী স্বাক্ষর করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড.

মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “এ চুক্তির মাধ্যমে নোবিপ্রবি ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের একটি পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে উঠবে, যা উভয় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে গবেষণা ক্ষেত্রে নোবিপ্রবি ও ইবনে সিনা ট্রাস্ট যুগপৎ কাজ করলে আমরা তা স্বাগত জানাব।”

তিনি বলেন, “আমাদের  বিশ্ববিদ্যালয়ের যে টেকনিক্যাল স্টাফরা রয়েছেন, তাদের কোনো সাপোর্ট এবং এক্সপার্টিজ নলেজ যদি প্রয়োজন হয়, তা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠানই উপকৃত হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও বাস্তব এবং প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবে।”

ইবনে সিনা ট্রাস্টের এজিএম ও হেড অব বিজনেস ডেভলপমেন্ট মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম শিবলী বলেন, “এ চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য ইবনে সিনা, নোয়াখালীর ব্রাঞ্চগুলো থেকে সব প্যাথলজিক্যাল টেস্টে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য ব্রাঞ্চ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় প্রদান করা হবে।”

তিনি বলেন, “পিসিআর টেস্টের ক্ষেত্রে সব ব্রাঞ্চে ৩৫ শতাংশ, সব ধরনের রেডিওলজিক্যাল এবং ইমেজিং টেস্টের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ছাড় প্রদান করা হবে। এছাড়াও প্রত্যেক ফিজিওথেরাপি সার্ভিসের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ছাড় প্রদান করা হবে। এ চুক্তির আওতায় নোবিপ্রবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ, শহীদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, ইবনে সিনা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নোয়াখালী ব্রাঞ্চের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ও ইনচার্জ এএসএম গোলাম মোর্তুজা, সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার (অ্যাডমিন) জালাল আহমেদ পাটোয়ারি, জোনাল ইনচার্জ (বিজনেস ডেভলপমেন্ট) সায়েদ মো. আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ঢাকা/ফাহিম/মেহেদী

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উপ চ র য

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদ ঘিরে কাপড়ের ব্যবসায় মন্দাভাব

আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি নবীগঞ্জের কাপড়ের বাজারে। ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে থান কাপড় ব্যবসায় মন্দাভাব। মাত্র দিন দু’এক পরেই ঈদ। তাতে নবীগঞ্জের বিভিন্ন বিপণিবিতানে পোশাক ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বাড়লেও বেচাকেনা সেভাবে হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার আগে থেকে প্রস্তুতি ছিল থান কাপড় ও থ্রিপিস ব্যবসায়ীদের। এবারের ঈদে থান কাপড়ের দোকানগুলোর বেশির ভাগই ক্রেতাশূন্য। ফলে ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে কাপড়ের দোকানগুলোতে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কাপড় দেখে, দরদাম করলেও দামে মিলছে না অধিকাংশের। এতে আশানুরূপ কেনাবেচা হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 
নবীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ বছর ঈদকে সামনে রেখে অন্যবারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাপড় দোকানে তুলেছেন তারা। বিশেষ করে থান কাপড়ের ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই বেশি করে কাপড় কিনেছেন। কারণ, অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় থান কাপড় আগে বিক্রি হয়। কিন্তু এবার বাজারে ক্রেতা কম। ১ রমজান থেকে ২০ রমজান এই সময়টায় বেশি কাপড় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ২৭ রমজান চলে গেলেও এবার প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। সন্তোষজনক কেনাবেচা না হওয়ায় হতাশ কাপড় ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতারা জানান, ঈদের বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ এখনও বিদ্যমান। সাধারণ মানুষ অর্থসংকটে রয়েছেন। এ ছাড়া থান কাপড় কিনে পোশাক তৈরিতে সময় ও সেলাই খরচ বেশি হয়।
পশ্চিমবাজার এলাকার একটি শপিংমলের কর্মচারী আলাউর রহমান বলেন, সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ক্রেতার বাজেট তো আর বাড়েনি। এ কারণে কেনাবেচা কম হচ্ছে। বাড়তি দাম দিয়ে থান কাপড় কিনতে হয়। গত রমজান থেকে এবার দেশি কাপড়ে গজপ্রতি প্রায় ১০ টাকা ও বিদেশি কাপড়ে ৪০ টাকা বেড়েছে। সব খরচ মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের পোশাকের দাম বাড়াতে হচ্ছে।
শহরের মধ্যে থান কাপড়সহ অন্য কাপড়ের ছোট ও মাঝারি দুটি দোকান আছে কাওসার আহমদের। তিনি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছেন। এভাবে চললে চাপের মুখে রয়ে যাবেন।
নবীগঞ্জ বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ শোয়েব আহমদ চৌধুরী জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন কেনাবেচা আশানুরূপ হচ্ছে না। তারা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত কেনাবেচা ভালো হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ