নওগাঁয় দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট
Published: 25th, February 2025 GMT
নওগাঁর আত্রাইয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারপিট করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আহসানগঞ্জ হাটসংলগ্ন মালাধার সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, ডাকাতেরা তাঁর কাছ থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০০ ভরি চাঁদির অলংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
ডাকাত দলের রডের আঘাতে নান্টু প্রামাণিক (৪০) নামের ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার দাঁড়িয়াগাথী গ্রামে। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্বজন ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নান্টু প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে আত্রাই উপজেলা সদরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন স্বর্ণপট্টি এলাকায় স্বর্ণের ব্যবসা করেন। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম রিংকু জুয়েলার্স। প্রতিদিন দোকানে বেচাবিক্রি ও স্বর্ণালংকারের কাজ শেষ করে দোকানের মজুত স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি আহসানগঞ্জ হাটসংলগ্ন মালাধার সেতুর কাছে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ডাকাত দল পেছন থেকে তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যান। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর ব্যাগে থাকা স্বর্ণালংকার, চাঁদির অলংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয় ডাকাতেরা।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সংবাদ পেয়ে রাতেই নওগাঁ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুদরত-ই খোদা, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আত্রাই থানার ওসি শাহাবুদ্দিন বলেন, নান্টু প্রামাণিকের মাথায় ও হাতে আঘাত করে সন্ত্রাসীরা তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে একটি মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজাহার পাওয়ার পর বলা যাবে, কী পরিমাণ মালামাল ও টাকা লুট করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ল ক র ও নগদ ট ক স বর ণ ল ক র ও ব যবস য় উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা বর্বর হামলা অব্যাহত
ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গত ২৪ ঘণ্টায় নারী-শিশুসহ ৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরেই প্রাণ গেছে ২২ জনের। বরাবরের মতোই দখলদার বাহিনী বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতি সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে দখলদাররা উপেক্ষা করেছে।
একজন হামাস নেতাকে হত্যা করতে প্রয়োজনে তারা ১০০ সাধারণ মানুষকে হত্যা করবে বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর সংসদ বিচারক নিয়োগের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে আইনও পাস করেছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে ইসরায়েলের নাগরিকরা।
ইসরায়েলি হামলায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ২০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছে অন্তত ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১০ জন। ইসরায়েলের বর্বর আচরণ বন্ধ করে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস।
আলজাজিরা জানায়, গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি ব্যস্ত বাজারে ইসরায়েলি হামলায় সাত ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে করে গত এক দিনে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, গাজায় হাজার হাজার মানুষ তীব্র ক্ষুধা ও অপুষ্টির মুখোমুখি। টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
এদিকে মিসরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ অবরুদ্ধ গাজায় হামলা চালায় ইসরায়েল। আকস্মিক এই হামলায় নিহত হয় সাত শতাধিক মানুষ।
একদিকে হামলা অন্যদিকে জোর করে বসতি স্থাপন চালিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। পবিত্র রমজানে বহু ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর হারিয়েছে। প্রায়ই তারা দখলদার ইসরায়েলিদের হামলার শিকার হয়েছে। বাড়িঘর থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এমনকি ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর জোর করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
গাজায় দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে সতর্কতা দিয়েছে জাতিসংঘের সহায়তা সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। তারা বলছে, সহায়তা তহবিল কমানো হলে গাজায় মানুষের জীবন খাদ্যাভাবে বিপন্ন হবে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, গত বছরের তুলনায় এবার সহায়তা তহবিল ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করা ইসরায়েলের সামরিক মতবাদের অংশ। হামলার ভয়ে সাহায্য সংস্থা ও কর্মীরা ফিলিস্তিনি ছিটমহল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
এদিকে লেবানন থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে ইসরায়েলে আঘাত হানে দুটি রকেট। এতে ইসরায়েল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৈরুতে বিমান হামলার হুমকি দেন এবং একটু পরই বিমান হামলা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল লেবাননে জোর করে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। গত নভেম্বরে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো হামলা করা হলো।
ইয়েমেনে হুতিদের ৪০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সানাসহ ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের এসব ঘাঁটি বিদ্যমান। হামলায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা অগ্রহণযোগ্য। এটা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। লেবাননের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, বৈরুতে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল ইসরায়েল।